রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগকে পুঁজি করে ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য হোমিওর বিরুদ্ধে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও ‘চার মাসে ক্যানসার ভালো হওয়ার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসহায় রোগীদের টেনে এনে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
চট্টগ্রামের বাসিন্দা সুমি আক্তার ব্লাড ক্যানসারের চতুর্থ স্টেজের রোগী। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ফেসবুক ও ইউটিউব বিজ্ঞাপন দেখে তিনি গণস্বাস্থ্য হোমিওতে চিকিৎসা নিতে আসেন।
সেখানে তাকে চার মাসে ক্যানসার সেরে যাবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রথম মাসেই ৪০ হাজার টাকার ওষুধ কিনে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি।
সুমি আক্তারের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস এম সরওয়ার তাকে একসঙ্গে ১৩০টি ওষুধ দেন। নির্দেশনা ছিল—প্রতি দুই মিনিট পরপর এক ফোঁটা করে সব ওষুধ সেবন করতে হবে, ঘুমানোর আগ পর্যন্ত।
ঘুম থেকে উঠেও একইভাবে ওষুধ চলবে। দুই মাস নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি।
সুমি আক্তারের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, ‘ইউটিউবের বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এখানে আসি।
পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ক্যানসার চিকিৎসার নামে ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হয়েছি।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুমি আক্তার একা নন। ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হাজারো মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত মুখরোচক বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে গণস্বাস্থ্য হোমিওতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
এমনকি একাধিক হোমিও চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এস এম সরওয়ারের এই চিকিৎসা পদ্ধতির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি পুরোপুরি নজিরবিহীন।
গণস্বাস্থ্য হোমিওর দুটি কার্যালয় রয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার রোগী দেখা হয় ঢাকার পল্টনের বায়তুল ভিউ টাওয়ারের ১১ তলায় এবং মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায়।
সম্প্রতি ঢাকা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শত শত রোগীর ভিড়। কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশই ক্যানসারের বিভিন্ন পর্যায়ের রোগী।
অনেকে জানিয়েছেন, তারা ফেসবুক ও ইউটিউব বিজ্ঞাপন দেখে দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন হাসপাতালের কথিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এখানে আসেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এস এম সরওয়ার এসএসসি পাসের পর হোমিওপ্যাথির ওপর চার বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।
এরপর নিজেকে ‘এশিয়ার সবচেয়ে সফল ক্যানসার গবেষক’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। ইউটিউবে বাংলা ও ইংরেজি বিভিন্ন নামে অন্তত ৩০০টির বেশি অ্যাকাউন্ট খুলে ক্যানসার চিকিৎসার তথাকথিত সাফল্যের ভিডিও বিজ্ঞাপন আকারে ছড়ানো হচ্ছে।
এসব ভিডিওতে দেখানো রোগীরা প্রকৃত রোগী নন; অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগে এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসা শুধু প্রতারণাই নয়, সরাসরি রোগীর জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করে।
দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
সূত্র- কালবেলা
