সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়ায় সামিয়া নিঝুম নামে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি সাততলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর থানার ছোট শালিখা গ্রামের মো. আব্দুস সালামের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কলেজ সংলগ্ন ওই ভবনে একটি কক্ষ সাবলেট নিয়ে বসবাস করতেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ভবনের কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন জানান, রবিবার রাতে নিঝুমের বাবা তাকে ফোন করে মেয়ের খোঁজ নিতে বলেন। কারণ একাধিকবার ফোন করেও মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে পাশের রুমের এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিঝুমের কক্ষে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে দরজা ভাঙার নির্দেশ দেন নিঝুমের বাবা। পরে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বাবা আব্দুস সালাম বলেন, মেডিকেলে ভর্তির পর থেকেই মেয়ে মেসে থাকতো। পড়ালেখার সুবিধার জন্য গত ২৩ জানুয়ারি এই বাসায় সব ব্যবস্থা করে দিয়ে এসেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। পরে ফোন ধরছে না দেখে ভবনের লোকজনকে ফোন করলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানতে পারেন।
নিহতের পাশের রুমে থাকা এক ছাত্রী জানান, বাড়ির কেয়ারটেকার তাদের নিঝুমের খোঁজ নিতে বলেন। একাধিকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। দরজার ফাঁক দিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিঝুমকে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের সহপাঠীরা জানান, রবিবার তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা ছিল। নিঝুম অন্যান্য দিনের মতোই ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছিলেন। সেদিন তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিঝুম পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো ছাত্রী ছিলেন। আর মাত্র এক বছর পর তার এমবিবিএস শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকায় মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দেওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে, ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের সুযোগ আর থাকলো না।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের অনাপত্তির ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্ম/

hacked by E.H.9
HACKED BY BANDAR BOKEP