হবিগঞ্জে ‘স্বাস্থ্য বিতর্ক-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

স্বাস্থ্যসেবা কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের মানবিকতা, নীতিনির্ধারণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রতিচ্ছবি। সেই উপলব্ধিকে সামনে রেখে ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য বিতর্ক ২০২৬’-এর সমাপনী পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সনাতনী ধারার এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং মহান জাতীয় সংসদের হুইপ জনাব আলহাজ্ব জি. কে. গউছ মহোদয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাবেদ জিল্লুর বারী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আমিনুল হক সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজনের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

বিচারকমণ্ডলীর আসন অলংকৃত করেন এডভোকেট গুলজার খান, অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর ও সদস্য সচিব, হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা; শুভজিৎ দেব,জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, এনআরবি ব্যাংক এবং সেক্রেটারি, রোটারি ক্লাব অব হবিগঞ্জ; এডভোকেট মিঠু চন্দ্র গোপ, অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর ও আহবায়ক, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, হবিগঞ্জ; এডভোকেট সৈয়দ জাদিল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর, জজকোর্ট, হবিগঞ্জ; সৌমিত্র শেখর দাস, অধ্যক্ষ, পাহাড়পুর কলেজ, হবিগঞ্জ; আশরাফুল ইসলাম কোহিনুর, সদস্য, ব্যবস্থাপনা কমিটি, ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জ, বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আজকের হবিগঞ্জ এবং জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ; ও ডা. মাহমুদুল হাসান তারেক, জেনারেল প্র্যাকটিশনার এবং সদস্য সচিব, হবিগঞ্জ জেলা ড্যাব।”

অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডা. অনুজ কান্তি দাশ, সহকারী অধ্যাপক, ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জ। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত এ উদ্যোগ স্বাস্থ্যসচেতনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক অনন্য সমন্বয়ে পরিণত হয়।

প্রতিযোগিতাটি জুনিয়র ও সিনিয়র—এই দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকরা তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, যুক্তিবোধ ও সমসাময়িক স্বাস্থ্য-চিন্তার গভীরতা দিয়ে প্রতিযোগিতাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করে জুনিয়র বিভাগে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি দল, আর সিনিয়র বিভাগে স্থান করে নেয় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজ।

জুনিয়র বিভাগের বিতর্কের বিষয় ছিল “বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান বাস্তবতায় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনুপ্রেরণা চেয়ে বিভ্রম বেশি ” যেখানে পক্ষে ও বিপক্ষে অংশ নেয় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি দল। অন্যদিকে সিনিয়র বিভাগের বিতর্কের বিষয় ছিল “চিকিৎসকদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান ” এতে পক্ষে অংশগ্রহণ করে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিপক্ষে ছিল বৃন্দাবন সরকারি কলেজ।

চূড়ান্ত পর্বে উপস্থাপিত বক্তব্য ও পাল্টা-যুক্তিগুলো শুধু প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা-নৈতিকতা, স্বাস্থ্যখাতের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং নাগরিক প্রত্যাশার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। তরুণ বিতার্কিকদের যুক্তি-প্রতিযুক্তির মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি সম্ভাব্য সমাধানের রূপরেখাও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিযোগিতার অন্যতম তাৎপর্য ছিল স্বাস্থ্যখাতকে ঘিরে একটি দায়িত্বশীল জনআলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা। চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি নিয়ে বিতার্কিকদের উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের চিন্তার নতুন খোরাক জুগিয়েছে।

বিতর্ক পর্ব শেষে প্রদর্শিত হয় একটি তথ্যনির্ভর ও হৃদয়স্পর্শী তথ্যচিত্র, যেখানে দেশের চিকিৎসক সমাজ এবং স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার অতীত ও বর্তমান বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্রটি দর্শকদের সামনে স্বাস্থ্যসেবার অন্তরালের অজানা সংগ্রাম, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার এক বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করে। এ আয়োজনের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জের ইন্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের পাশাপাশি সেরা বক্তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধান অতিথি প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার, সনদপত্র ও সম্মাননা তুলে দেন। সেই মুহূর্তে অর্জনের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয় ভবিষ্যতের প্রতি নতুন অঙ্গীকার—জ্ঞান, যুক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়ে একটি উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়।

জ্ঞান, যুক্তি ও সচেতনতার সমন্বয়ে একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয় ‘স্বাস্থ্য বিতর্ক ২০২৬’।

লেখা কৃতজ্ঞতা – Nusrat faria Khan

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Platform of Medical & Dental Society

Platform is a non-profit voluntary group of Bangladeshi doctors, medical and dental students, working to preserve doctors right and help them about career and other sectors by bringing out the positives, prospects & opportunities regarding health sector. It is a voluntary effort to build a positive Bangladesh by improving our health sector and motivating the doctors through positive thinking and doing. Platform started its journey on September 26, 2013.

Organization portfolio:
Click here for details
Platform Logo