১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে চিলি কুকুরের মাধ্যমে সংক্রমিত জলাতঙ্ক (Rabies) জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে নির্মূল করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি দেশটির ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবদেহে কুকুর-সংক্রমিত জলাতঙ্কের কোনো ঘটনা না থাকা এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ পুনরায় ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।
এই অর্জন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক জাতীয় প্রচেষ্টার ফল। কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক সংক্রমণ বন্ধ রাখতে দেশটি নিয়মিত কুকুরের টিকাদান, কার্যকর নজরদারি এবং আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (PEP) নিশ্চিত করেছে।
জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা একবার উপসর্গ দেখা দিলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়। তবে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সংক্রমণ টিকাদান, কার্যকর নজরদারি এবং সময়মতো পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিসের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
চিলিতে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্কের সর্বশেষ ঘটনা রেকর্ড করা হয় ১৯৭২ সালে। এরপর দেশটি সম্ভাব্যভাবে জলাতঙ্ক ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের, বিশেষ করে সংক্রমিত বা সন্দেহভাজন জলাতঙ্কগ্রস্ত কুকুরের কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত টিকা প্রদান নিশ্চিত করেছে।
এর পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি, লক্ষ্যভিত্তিক কুকুরের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এরপর থেকে চিলি তাদের জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এই কর্মসূচির আওতায় কুকুর ও বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে গণটিকাদান, মহামারিবিষয়ক নজরদারি, উন্নত পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ নির্ণয়, প্রাণীদের মধ্যে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস নিশ্চিত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে চিলি ঝুঁকি মূল্যায়নের সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে, কমিউনিটি-ভিত্তিক নজরদারি সম্প্রসারণ করেছে এবং সীমান্তবর্তী উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জলাতঙ্ক পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক টিকাদান কার্যক্রম চালু করেছে।
প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদকঃ এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
রেফারেন্স: https://www.who.int/news/item/14-09-2026-chile-becomes-first-country-in-south-america-validated-for-eliminating-dog-transmitted-rabies-as-a-public-health-problem
