রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেন?
প্যারাকোয়াট হলো একটি বালাইনাশক, তবে এর বিষাক্ততা অনেক বেশি। এর বিষক্রিয়া একটি গুরুতর ও সম্ভাব্য জীবন-হুমকি অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়া মাধ্যমে একটি মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকে এমনকি মৃত্যু বরণ হতে পারে।
প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়া কারণে বমি, বমি ভাব, পেট ব্যথা এবং ডায়রিয়া হয়, এর সাথে কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং বুকের ব্যথা হতে পারে।প্যারাকোয়াট ত্বকের সংস্পর্শে আসলে স্পর্শের স্থানে পোড়া বা জ্বালা হয়। শিশু এবং বয়স্ক মানুষের মধ্যে এই প্যারাকোয়াট খুবই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। প্যারাকোয়াট মাধ্যমে গ্রামের মানুষ আত্নহত্যা করতো। কারণ প্যারাকোয়াট কোনো প্রতিষেধক ঔষধ নাই। তাই সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু গ্লাইফোসেট তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তবে এর কারণে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই সরকার এটি নিয়ে বিবেচনা এসে গ্লাইফোসেট কেও নিষিদ্ধ করবে।
গত ১৫ আগস্ট, ২০২৬ প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে দেশের প্যারাকোয়াট অপব্যবহার ও বিষক্রিয়া নিয়ে মৃত্যু প্রকাশিত হয়েছিলো। এ নিয়ে প্রথম আলোয় একটি ভিডিও প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তখন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে প্যারাকোয়াটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার পিটাকের ৯১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের তথ্য এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সভাপতির সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী দেশে প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশকের মোট মজুত ৩৯৫ মেট্রিক টন। পত্র জারির পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এ মজুত শূন্য করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পিটাকের সভাপতি মো. আবদুছ ছালাম। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, পিটাকের ৯১তম সভায় সবচেয়ে বিপজ্জনক প্যারাকোয়াট ও গ্লাইফোসেটের বিষয়ে এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশে থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশকের মজুত আগামী ছয় মাসের মধ্যে শূন্য করতে হবে। এ ছাড়া ৮৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্লাইফোসেটের মজুতও শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। আবদুছ ছালাম জানান, জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ বিপজ্জনক বালাইনাশক ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই এই দুই বালাইনাশকের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন