দেশেই হচ্ছে এখন নিউরোলজিকাল রোগ ও ক্যান্সার চিকিৎসার বিশেষায়িত হাসপাতাল

২৫-৯-২০১৯ তারিখ বুধবার, সকাল ১১টায়, আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নিউরোলজিকাল বিশেষায়িত হাসপাতাল দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নির্মাণ করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়, জনাব রাশেদ খান মেনন এর সাথে বাংলাদেশ ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার বিসিআরসি ও ব্রেইন ফাউন্ডেশন এর এক সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন সদস্য কোনো না কোনো ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) নিরীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নিরীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্যান্সার রোগের কারণে মৃত্যুর হার শতকরা ১৩ ভাগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে ঢাকা মহানগর এলাকায় ক্যান্সার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ব্রেইন ফাউন্ডেশন স্পেশালাইজড হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করার স্বপ্ন নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার (বিসিআরসি) ও‘ব্রেইন ফাউন্ডেশন’ এর দুটি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান।

দেশে ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে তাৎক্ষণিক বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদানের প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিনিধি দল। তারা সব স্তরের মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার ব্যাপারে সভাপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় রাশেদ খান মেনন বলেন, ক্যান্সার ও নিউরো চিকিৎসার মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশে প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আশীর্বাদস্বরুপ হবে। এর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা দূর হবে।

আলোচনাকালে জানানো হয়, মূলত ক্যান্সার রোগের একাডেমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও দেশের সাধারণ মানুষের কাছে জটিল ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা খরচ সহজলভ্য করার জন্য মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার (বিসিআরসি) গঠিত হয়েছে।

সভায় আরো জানানো হয়,নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘ব্রেইন ফাউন্ডেশন’ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্নায়ু রোগের সময়সাপেক্ষ চিকিৎসা খরচ সহজলভ্য করার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করার জন্য গঠিত হয়েছে। দেশের সাধারন মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নিউরোলজিকাল বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ ২৫-৯-২০১৯ তারিখ বুধবার, সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভবনে সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন এর সাথে বাংলাদেশ ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার বিসিআরসি ও ব্রেইন ফাউন্ডেশন এর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।


ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পরিসংখ্যান বাংলাদেশে কোন সংস্থার কাছে নেই। কিন্তু ক্যান্সার হাসপাতালগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় কী সংখ্যা কি হারে বাড়ছে বাংলাদেশে। ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রচুর রোগী প্রতি বছর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছে। আবার কেউ অর্থাভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, কারণ, ক্যান্সার এর চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের দেশের মানুষদের জন্য তা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ক্যান্সার একটি পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল করে ফেলে। কি ভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগাড় করা সেই সাথে প্রিয় জনকে হারানোর ভয় সব মিলিয়ে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। কিন্তু তাদের সেই খারাপ সময়ে অনেকেই তাদের পাশে পায় না কাউকেই। এধরণের মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্যই বাংলাদেশ ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার এর যাত্রা। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা জনিত পরামর্শ, তাদের মানসিক সাপোর্ট দেয়া এবং সর্বোপরি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী এবং তার পরিবারের পাশে থাকাই বাংলাদেশ ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারএর উদ্দেশ্য।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থাপতি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকসহ দুটি সংগঠন এর ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

প্রতিবেদক/ সুবহে জামিল সুবাহ

Platform

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

Partograph: Obstetric Patient Management Tool

Fri Oct 4 , 2019
Obstetrics patient management করার একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো partograph। Partograph কি? partograph একটা graphical record যেখানে একটা কাগজে সময়ের সাথে মা, বাচ্চা ও নরমাল ডেলিভারির পরিবর্তন গুলো লেখা হয়। এর তিনটি অংশ থাকে- 1. Fetal part 2. Labour part 3. Maternal part প্লটিং শুরু করার আগে কিছু জিনিস জানতে হবে। […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট