মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ · ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
অতিথি লেখা

অতিথি লেখাঃ প্যালিয়েটিভ কেয়ার

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩:৩৬ · ৪ মিনিটে পড়ুন
অতিথি লেখাঃ প্যালিয়েটিভ কেয়ার
লেখার আকার

প্রসঙ্গ :
চিকিৎসা বিজ্ঞান কি একজন রোগীকে বলার অধিকার রাখে ?- “আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ! আর তো বেশিদিন বাঁচবেন না , আমাদের কিছুই করার নেই !”

প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( palliative care ) নিয়ে কিছু লেখাটা আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে গেছে । সাবজেক্টটার প্রতি শ্রদ্ধা দিনদিন বাড়ছেই ।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( খুব সংক্ষেপে বললে অনিরাময় যোগ্য দুরারোগ্য ব্যাধির সান্তনামূলক চিকিৎসা ) , যেটা একজন মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম জীব হিসেবে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত পাবার অধিকার রাখেন ।
এই চিকিৎসায় রোগীকে মানসিক , সামাজিক , আত্মিক ( spiritual / ধর্মীয় ) , অর্থনৈতিক সাহায্য করার পাশাপাশি আস্তে আস্তে রোগীর মনোস্তত্ত্বকে অবধারিত মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করা হয় ।

একজন ক্যান্সার রোগী যখন রেডিওথেরাপি কেমোথেরাপি শেষ করার পরও ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে যায় শরীরের সর্বত্র , চিকিৎসা বিজ্ঞান হয়ে যায় নিরুপায় – সেক্ষেত্রে মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত রোগীকে কিছু basic support দিয়ে যায় এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( palliative care ) l রোগীর অর্থনৈতিক অবস্হা , রোগীর সর্বশেষ ইচ্ছা , রোগীর ব্যাথা কমিয়ে দৈহিক প্রশান্তি ( pain relief ), রোগীর ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন , রোগীকে অহেতুক শারিরীক কষ্ট না দেয়া ( অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা ) সর্বোপরী রোগীর রোগের অনিরাময় যোগ্যতার বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে রোগীকে প্রশান্তিময় মৃত্যুর দিকে আস্তে আস্তে ধাবিত করাই প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( palliative care ) এর মূলনীতি ।

পঞ্চাশোর্ধ একজন মানুষ দীর্ঘদিনের কাশি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেন । চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝলেন – রোগীর advance stage ক্যান্সার , রেডিও থেরাপী, কেমোথেরাপি দিয়েও তেমন ফলপ্রসু কিছু হবেনা , সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে রোগীকে সাহস দেয়া কিন্তু রোগীর নিকটাত্মীয়ের বিস্তারিত বুঝিয়ে বলা – রোগীর বর্তমান অবস্হা সম্পর্কে ।
রোগীর নিকটাত্মীয়ের এটাও বোঝানো চিকিৎসকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে যে , এডভান্সড ক্যান্সার বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়া ( distant metastasis ) ক্যান্সার কোষগুলো অনিরাময় যোগ্য !

মানুষ বাঁচতে চায় । মানুষ বাঁচতে চাইবে । এটা ধ্রুব সত্য । কিন্তু অহেতুক রোগীকে আশা দিয়ে অর্থনৈতিক দৈন্যতার দিকে ঠেলে না দেয়াটা মানবিক গুণের প্রকাশ । হ্যাঁ ! যাদের সামর্থ্য আছে সেসব রোগী উন্নত চিকিৎসা নিয়ে জীবনের আয়ুস্কাল কিছু বাড়াতে পারেন বৈকি, কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল বিপর্যস্ত রোগীকে আশার দুষ্টু চক্রে ফেলে দেয়াটা অমানবিক । একজন ক্যান্সার রোগী বাঁচার জন্য তার ভিটে মাটি বিক্রীর জন্যও প্রস্তুত থাকে । কিন্তু পর্দার আড়ালে থেকে যায় তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ , তার জীবনের সঞ্চয়টুকু অনিরাময় রোগের পিছে খরচ করার আগে বারবার রোগীর আত্মীয়দের বোঝাতে হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যর্থতা ।

End of life care ( জীবনের শেষ সময়ের কিছু চিকিৎসা ) :

২০১৪ সালে ( DMC তে ) একজন ক্যান্সার রোগী মৃত্যুর ঠিক আধা ঘন্টা আগে আমাকে বলেছিলেন –
‘ ডক্টর একটা রবীন্দ্র সংগীত শুনবো । আর আমার ব্যাথাটা একটু কমিয়ে দিন ।’
আমি রোগীকে ব্যাথানাশক মরফিন দেই এবং ‘আগুনের পরশমনি’ গানটা শোনাই মোবাইলে ! রোগী মৃত্যুর আগে শুধু বলেছিলেন – ‘ বাহ্ ‘ !
এটুকুই তাঁর শান্তি । চিকিৎসক হিসেবে আমার শান্তি ।

রোগীকে শারিরীক , মানসিক , আত্মিক প্রশান্তি দেয়াই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের কাজ । একজন ক্যান্সার রোগী মৃত্যুর আগে যদি চিকিৎসককে হাত ধরে বলেন – ‘ ডক্টর ! আমার মৃত্যুর পর আমার সন্তানটার লেখাপড়া কে দেখবে ? ‘

ডক্টর এবং প্যালিয়েটিভ সোসাইটি তখন বলে – ‘ আমরা আপনাকে ওয়াদা করছি, আপনার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ আমরা দেবো। ‘ – Yes ! এটাই spiritual ( আত্মিক ) সাপোর্ট ।

“LET THE PATIENT DIE SMOOTHLY, WITHOUT PAIN , WITHOUT ANXIETY , WITH THE PROPER DIGNITY WHICH HE DESERVES AS A HUMAN.”

বিএসএমএমইউ ( BSMMU ) র প্যালিয়েটিভ বিভাগের প্রধান প্রফেসর নিজাম উদ্দীন ( FCPS , MD ) যখন বাংলাদেশে প্রথম palliative care এর কনসেপ্ট এনেছিলেন, তখন অনেকেই হেসেছিলেন , স্যারকে পাগলও ডেকেছিলেন ।
আজ সেই প্যালিয়েটিভ কেয়ার দায়িত্ব নিচ্ছে ক্যান্সারে মৃত রোগীর সন্তানের লেখাপড়ারও ।

হ্যাঁ , এটাই মানবতা । Palliative care department এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ার কনসেপ্ট ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের প্রত্যন্ত জনপদে ,
প্রফেসর নিজাম উদ্দিন তৈরি হোক নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের মধ্যেই ।

একজন ক্যান্সার রোগী যেনো শেষ নিশ্বাস নির্ভয়ে ত্যাগ করতে পারেন সেই অধিকার হোক নিশ্চিত ।

লেখক : –

ডা. আসিফ সৈকত ,
রেজিস্ট্রার, ক্রিটিকাল কেয়ার ডিপার্টমেন্ট,
এপোলো হাসপাতাল , ঢাকা

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

সব বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা || ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ জুন, ২০২২, সোমবার ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক। মা একটি বর্ণের আর দুটি বর্ণের খুব ছোট একটি শব্দ বাবা; কিন্তু বাস্তবতায় তার গভীরতা আর বিশালতা সীমাহীন। আদর-শাসন, স্নেহ-মায়া-মমতা, সন্তানকে ভালো রাখতে…

অবশেষে আবিষ্কার হলো ক্যান্সারের ঔষধ, সত্যি কি তাই? || ডা. মোঃ মারুফুর রহমান

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ৯ জুন, ২০২২, বৃহস্পতিবার ডা. মোঃ মারুফুর রহমান চিকিৎসক ও পিএইচডি গবেষক ডিপার্টমেন্ট অফ অনকোলজি এন্ড মেটাবলিজম ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড, যুক্তরাজ্য। গত কয়েকদিন ধরে নিউজফিডে ক্যান্সার চিকিৎসায় এক জাদুকরি ম্যাজিক বুলেট ধরনের ওষুধের অবিশ্বাস্য ফলাফলের খবর দেখতে পাচ্ছি।…

শিশুদের কথা বলা শেখানো || পর্ব-০১

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৫ মে, ২০২১, বুধবার ডা. সওকত আরা বীথি মিনেসোটা, ইউ এস এ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শিশুরা তো এমনিতেই কথা বলা শিখে যায়। এদের আবার কথা বলা শেখাবার প্রয়োজন কিসের? কথা তো বনের পাখিদের শেখাবার দরকার হয়। একথা…

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।