শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

অতিথি লেখাঃ প্যালিয়েটিভ কেয়ার

প্রসঙ্গ :
চিকিৎসা বিজ্ঞান কি একজন রোগীকে বলার অধিকার রাখে ?- “আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ! আর তো বেশিদিন বাঁচবেন না , আমাদের কিছুই করার নেই !”

প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( palliative care ) নিয়ে কিছু লেখাটা আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে গেছে । সাবজেক্টটার প্রতি শ্রদ্ধা দিনদিন বাড়ছেই ।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( খুব সংক্ষেপে বললে অনিরাময় যোগ্য দুরারোগ্য ব্যাধির সান্তনামূলক চিকিৎসা ) , যেটা একজন মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম জীব হিসেবে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত পাবার অধিকার রাখেন ।
এই চিকিৎসায় রোগীকে মানসিক , সামাজিক , আত্মিক ( spiritual / ধর্মীয় ) , অর্থনৈতিক সাহায্য করার পাশাপাশি আস্তে আস্তে রোগীর মনোস্তত্ত্বকে অবধারিত মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করা হয় ।

একজন ক্যান্সার রোগী যখন রেডিওথেরাপি কেমোথেরাপি শেষ করার পরও ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে যায় শরীরের সর্বত্র , চিকিৎসা বিজ্ঞান হয়ে যায় নিরুপায় – সেক্ষেত্রে মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত রোগীকে কিছু basic support দিয়ে যায় এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( palliative care ) l রোগীর অর্থনৈতিক অবস্হা , রোগীর সর্বশেষ ইচ্ছা , রোগীর ব্যাথা কমিয়ে দৈহিক প্রশান্তি ( pain relief ), রোগীর ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন , রোগীকে অহেতুক শারিরীক কষ্ট না দেয়া ( অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা ) সর্বোপরী রোগীর রোগের অনিরাময় যোগ্যতার বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে রোগীকে প্রশান্তিময় মৃত্যুর দিকে আস্তে আস্তে ধাবিত করাই প্যালিয়েটিভ কেয়ার ( palliative care ) এর মূলনীতি ।

পঞ্চাশোর্ধ একজন মানুষ দীর্ঘদিনের কাশি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেন । চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝলেন – রোগীর advance stage ক্যান্সার , রেডিও থেরাপী, কেমোথেরাপি দিয়েও তেমন ফলপ্রসু কিছু হবেনা , সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে রোগীকে সাহস দেয়া কিন্তু রোগীর নিকটাত্মীয়ের বিস্তারিত বুঝিয়ে বলা – রোগীর বর্তমান অবস্হা সম্পর্কে ।
রোগীর নিকটাত্মীয়ের এটাও বোঝানো চিকিৎসকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে যে , এডভান্সড ক্যান্সার বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়া ( distant metastasis ) ক্যান্সার কোষগুলো অনিরাময় যোগ্য !

মানুষ বাঁচতে চায় । মানুষ বাঁচতে চাইবে । এটা ধ্রুব সত্য । কিন্তু অহেতুক রোগীকে আশা দিয়ে অর্থনৈতিক দৈন্যতার দিকে ঠেলে না দেয়াটা মানবিক গুণের প্রকাশ । হ্যাঁ ! যাদের সামর্থ্য আছে সেসব রোগী উন্নত চিকিৎসা নিয়ে জীবনের আয়ুস্কাল কিছু বাড়াতে পারেন বৈকি, কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল বিপর্যস্ত রোগীকে আশার দুষ্টু চক্রে ফেলে দেয়াটা অমানবিক । একজন ক্যান্সার রোগী বাঁচার জন্য তার ভিটে মাটি বিক্রীর জন্যও প্রস্তুত থাকে । কিন্তু পর্দার আড়ালে থেকে যায় তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ , তার জীবনের সঞ্চয়টুকু অনিরাময় রোগের পিছে খরচ করার আগে বারবার রোগীর আত্মীয়দের বোঝাতে হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যর্থতা ।

End of life care ( জীবনের শেষ সময়ের কিছু চিকিৎসা ) :

২০১৪ সালে ( DMC তে ) একজন ক্যান্সার রোগী মৃত্যুর ঠিক আধা ঘন্টা আগে আমাকে বলেছিলেন –
‘ ডক্টর একটা রবীন্দ্র সংগীত শুনবো । আর আমার ব্যাথাটা একটু কমিয়ে দিন ।’
আমি রোগীকে ব্যাথানাশক মরফিন দেই এবং ‘আগুনের পরশমনি’ গানটা শোনাই মোবাইলে ! রোগী মৃত্যুর আগে শুধু বলেছিলেন – ‘ বাহ্ ‘ !
এটুকুই তাঁর শান্তি । চিকিৎসক হিসেবে আমার শান্তি ।

রোগীকে শারিরীক , মানসিক , আত্মিক প্রশান্তি দেয়াই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের কাজ । একজন ক্যান্সার রোগী মৃত্যুর আগে যদি চিকিৎসককে হাত ধরে বলেন – ‘ ডক্টর ! আমার মৃত্যুর পর আমার সন্তানটার লেখাপড়া কে দেখবে ? ‘

ডক্টর এবং প্যালিয়েটিভ সোসাইটি তখন বলে – ‘ আমরা আপনাকে ওয়াদা করছি, আপনার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ আমরা দেবো। ‘ – Yes ! এটাই spiritual ( আত্মিক ) সাপোর্ট ।

“LET THE PATIENT DIE SMOOTHLY, WITHOUT PAIN , WITHOUT ANXIETY , WITH THE PROPER DIGNITY WHICH HE DESERVES AS A HUMAN.”

বিএসএমএমইউ ( BSMMU ) র প্যালিয়েটিভ বিভাগের প্রধান প্রফেসর নিজাম উদ্দীন ( FCPS , MD ) যখন বাংলাদেশে প্রথম palliative care এর কনসেপ্ট এনেছিলেন, তখন অনেকেই হেসেছিলেন , স্যারকে পাগলও ডেকেছিলেন ।
আজ সেই প্যালিয়েটিভ কেয়ার দায়িত্ব নিচ্ছে ক্যান্সারে মৃত রোগীর সন্তানের লেখাপড়ারও ।

হ্যাঁ , এটাই মানবতা । Palliative care department এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ার কনসেপ্ট ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের প্রত্যন্ত জনপদে ,
প্রফেসর নিজাম উদ্দিন তৈরি হোক নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের মধ্যেই ।

একজন ক্যান্সার রোগী যেনো শেষ নিশ্বাস নির্ভয়ে ত্যাগ করতে পারেন সেই অধিকার হোক নিশ্চিত ।

লেখক : –

ডা. আসিফ সৈকত ,
রেজিস্ট্রার, ক্রিটিকাল কেয়ার ডিপার্টমেন্ট,
এপোলো হাসপাতাল , ঢাকা

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।