বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

হার্ড ইমিউনিটি ও অবাস্তব কল্পনা

৩০ মে, ২০২০, শনিবার।

 

ডা. এম, এ, ওয়াহাব

এফসিপিএস(রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং) 

ব্যাচ -১৪, সিওমেক।

প্রায়শই ফেইসবুকে কিছু লিখার অভ্যাস থাকলেও বিগত দুই-আড়াই মাস যাবত ফেইসবুক করোনাক্রান্ত হওয়ায় এবং বিভিন্ন টকশো’তে নন মেডিকেল করোনা বিশেষজ্ঞদের আধিক্য ও অতিপাণ্ডিত্যের কারণে কোনকিছু লিখতে সাহস হয়নি।

 

জাতীয় পত্রিকায় ‘হার্ড ইমিউনিটি বা শক্ত ইমিউনিটির পথে দেশ’ অথবা ‘জানালায় রোগীর দিকে তাকিয়ে করোনা শনাক্ত সম্ভব’ এমনিই অনেককিছু অবলোকন করে লিখার সাহস একজন মেডিকেল পার্সন হিসেবে থাকার কথাও নয়। তাছাড়া করোনা মোকাবেলায় আমাদের বা দেশের এমন লেজেগোবরে অবস্থায় কোন মন্তব্য কতটুকু সমীচিন, তা বুঝে উঠা কঠিন। আবার  আমজনতার পক্ষে তা  উপলব্ধি করাও হবে অনেকটা জগাখিচুরির মতই।

 

যা বলছিলাম, ‘হার্ড ইমিউনিটি’ মানে Hard বা শক্ত ইমিউনিটি নয়। এটা হল ‘Herd immunity’. ‘Herd’ শব্দের অর্থ হল একদল প্রাণী বা মানুষ, একটা বিশেষ গ্রুপ বা সমষ্টি। কোনো দলের বা দেশের জনগোষ্ঠীর যদি শতকরা কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জনসাধারণ রোগাক্রান্ত হয়ে শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয় অথবা ঐ রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী টিকা প্রদান করে এমন হারে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলা যায়, তখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাকি জনগণ এমনিতেই রোগের প্রকোপ থেকে বেঁচে যায়।

 

পোলিও, হাম, জলবসন্ত এসব রোগ জীবনে একবার হয়ে গেলে সাধারণত আর হয়না। তথাপি এদের বিরুদ্ধে কার্যকরী টিকা প্রদান করেও হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে কয়েক বছর লেগেছে।

আর আজ বৈশ্বিক মহামারি ‘কোভিড-১৯’ এর ব্যাপারে হার্ড ইমিউনিটির কথা ভাবছেন? তা শুধু বাংলাদেশ কেন, এ রোগের নানাবিধ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বের কোন দেশেই তা আপাতত সম্ভব নয়। আমি আবারো বলছি এটা শুধুমাত্র এক অলীক কল্পনা মাত্র।

 

ব্যাখ্যা অতীব সহজ…

১) কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হার্ড ইমিউনিটির চিন্তা পোষণ করলে দেশের কমপক্ষে ৭০% জনগণকে আক্রান্ত হতে হবে, অর্থাৎ ১৭ কোটি জনসাধারণের মাঝে কমপক্ষে প্রায় ১২ কোটি জনগণকে করোনা দেবীর সাক্ষাৎ লাভ করতে হবে।

২) যাদের হবে তথা এ ১২ কোটি মানুষের শরীরেই কোভিডের বিরুদ্ধে স্থায়ী এন্টিবডি তৈরি হতে হবে এবং যা এ রোগের বৈশিষ্ট্যে এখনো পাওয়া যায়নি। একজনে বার কয়েক হয়েছে এমন উদাহরণ বিশ্বে অনেক রয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখা গেছে, শরীরে কোভিডের বিরুদ্ধে যে এন্টিবডি তৈরি হয় তার স্থায়িত্বকাল সাময়িক, কয়েকদিন বা মাস মাত্র।

 

৩) কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো টিকা তৈরি হয়নি। ত্বরিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী এ রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী টিকা সহসা বাজারজাত হয়ে যাবে এবং আমরা ১২কোটি জনসাধারণকে এর আওতায় আনতে পারব তা আপাতত দুরাশাই বলা চলে।

 

৪) দেশের ১২ কোটি জনগণকে আক্রান্ত হতে হলে সরকারি বিশ্বাসযোগ্য হিসেব মতেই ১২কোটি ×১.৪%= ১৬.৮০ লক্ষ অর্থাৎ প্রায় ১৭লক্ষ লোককে আত্মাহুতি দিতে বা মৃত্যুবরণ করতে হবে মাস বা বছর জুড়ে। আর চিমিয়ে ধরা এ মৃত্যুহার এর চেয়ে কমানোর কোনই সুযোগ নেই। যেহেতু এর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সর্বজন স্বীকৃত কোন কার্যকরী বৈদ্যি তৈরিই হয়নি।

অতএব আবারও বলছি, হার্ড ইমিউনিটির কথা মাথা থেকে একেবারেই বাদ দিতে পারেন। তা শুধু বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোন উন্নত দেশেও আপাতত সম্ভব নয়। খোদ ইংল্যান্ডও এ অলীক কল্পনা থেকে ফিরে এসেছে।

 

বড়বড় পুস্তক অধ্যয়নকারী দেশের বিশিষ্ট এবং মেধাবী এপিডেমিওলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট ও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির মতামতকে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই বলেই আমি মনে করি।

 

জীবনের জন্যই জীবিকা। এ উভয় মূল্যবান বিষয়কে গুরুত্ব এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রেখে  সমন্বয় সাধন করে এগুতে হবে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড আর ব্রাজিলকে উপমা হিসেবে নয় বরং শ্রীলঙ্কা, নেপাল,  ভিয়েতনাম,  নিউজিল্যান্ড এদেরকেও উদাহরণ মনে করে এ মহাবিপদ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজুন।

 

আমজনতাকে ফাঁকি দিয়ে কোভিড মহামারি থেকে উন্নতি বা পরিত্রাণ লাভকারী দেশে কয়জনইবা চার্টার্ড বিমানে পালিয়ে যেতে পারবেন?

আবারো বলছি, জনগণ বাঁচলেই দেশ বাচবে এবং জনগণই মূল সম্পদ যা অদূরবর্তী চীন উপলব্ধি করতে পেরেছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেক মূলবান ব্যক্তিবর্গকে হারিয়েছি। এসব মহামূল্যবান বুড়ো অভিজ্ঞদের তৈরি হতে দেশ ও জাতিকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে বৈ কি।

 

এবং আবারো বলছি, যদি উপলব্ধি করে থাকুন  হার্ড ইমিউনিটির অলীক বা অবাস্তব কল্পনা থেকে বেড়িয়ে আসার এখনো সময় আছে।

অচিরেই আমাদের এ শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।