মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬১ কার্তিক ১৪৩৩ · ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
COVID-19

করোনার দিনগুলি – ৪

Platformপ্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০, ৪:৪৫ · ২ মিনিটে পড়ুন
করোনার দিনগুলি – ৪
লেখার আকার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২১ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার
ডা. শুভ্র সৈকত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আমার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে আমি সারাক্ষণ হাসতে থাকি। আমার ছেলের মধ্যেও এই দুর্বল দিকটি প্রবলভাবে উপস্থিত। সেও সারাদিন হাসতে থাকে। বাপ ৩২টা দাঁত বের করে হাসে, ছেলে হাসে ৮ দাঁত বের করে। আমি সাধারণত পরিচিত লোকদের দেখলে হাসি। আমার পুত্র পরিচিত অপরিচিত সবাইকে দেখলেই হাসে।

গত একমাসে হাসপাতাল যাওয়া ছাড়া বাসা থেকে বের হইনি। এই সময়ে ছেলে প্রায় সারাক্ষণ আমার সাথেই থাকে। আমার কোলে ছাড়া ঘুমায় না। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে হাত বাড়িয়ে বাবাকে খোঁজে। হাতে নাগাল না পাওয়া পর্যন্ত কাঁদে, পেলে ঘুমিয়ে যায়।

অহর্নিশ বইকে বলে আম। বই খুলে আঙুল দিয়ে দিয়ে তাকে আম জাম কাঁঠাল পড়ানো হয় বলে তার ধারণা হয়েছে বইয়ের নাম হচ্ছে আম। মাঝে মাঝে দেখা যায় বাবাকে পড়ানোর জন্য প্রায় তার সমান ওজনের ডেভিডসন নামক আমটি টেনে হিচড়ে সে বাবার আশে পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বাবার সাথে বাঃ (অর্থাৎ বল) খেলার জন্য মাঝে মাঝে সে ভোর ৫টা পর্যন্ত জেগে থাকে। রাতে না ঘুমাতে ঘুমাতে আমি বিরক্ত হওয়া শুরু করেছি, এমন সময় একদিন করোনার আশীর্বাদ নেমে এল।

এক সময় ওয়ার্ডের সাসপেক্টেড করোনা রোগীরা পজিটিভ হতে শুরু করল। হেলথ কেয়ার প্রফেশনালরা আক্রান্ত হতে থাকলেন। অগত্যা পিতাপুত্রের খেলা শেষ হলো। আমার কাছ থেকে যাতে আমার স্ত্রী পুত্র কোভিড আক্রান্ত না হয় সেজন্য তাদের দূরে পাঠিয়ে দিলাম।

এখন আর গভীর রাত পর্যন্ত আমার ছেলে আমাকে বিরক্ত করে না। তারপরও বেশিরভাগ রাত আমার নির্ঘুম কাটে। কেননা আমি জানি আমার পুত্র এখনো বাঃ হাতে এঘর ও ঘরে তার বাব্বাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। হাত বাড়িয়ে বাব্বাকে পাচ্ছে না বলে তারও ঘুম আসছে না।

ছেলের সাথে এখন ভিডিও কলে কথা বলি। কঠিন অভিমানে আমার পুত্র আমার দিকে পারতপক্ষে তাকায় না। আমি হাসি হাসি মুখ করে ডাকলে সে তাকায় কিন্তু হাসে না। মহামারীর অবসরে আমার শিশুপুত্র হঠাৎ করে বড় হয়ে গেছে।

একদিন অবশ্যই প্রকৃতি শান্ত হবে। আবার ঢাকা শহরের জ্যামে ঘর্মাক্ত বিরক্ত মানুষ একটা শান্ত ছুটির দিনের প্রতীক্ষা করবে। নির্জন শুভ্র সৈকতে ভেসে আসা ডলফিন, সভ্যতার অত্যাচারে আবার সমুদ্রে ফিরে যাবে। এ সবই আমরা জানি। শুধু জানিনা একজন চিকিৎসক পিতার সাথে তার হঠাৎ বড় হয়ে যাওয়া পুত্রের আর দেখা হবে কি না।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

মেডিক্যাল সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে এমবিএক্সে

বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ মিট বাংলাদেশ এক্সপোতে (এমবিএক্স) মেডিকেল এন্ড পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (এমপিপিই) খাতের ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন বাণিজ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২৪-২৫ এপ্রিল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হবে। ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি (মেডিক্যাল…

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

ওমিক্রন: করোনা ভাইরাসের একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার সদ্যপ্রাপ্ত করোনা ভ্যারিয়েন্টকে 'ওমিক্রন বি.১.১.৫২৯' নামকরণ করেছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন। একই সাথে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটিকে উদ্বেগজনক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয় ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং পরবর্তীতে হংকং, বেলজিয়াম, বোস্টয়ানা…

২৮ নভেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

৩য় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে টিকাদান কার্যক্রমে সিভিল সার্জন কার্যালয়, চট্টগ্রামের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১ বাংলাদেশে প্রথম বারের মত সুবিধা বঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে স্পেশাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়, চট্টগ্রাম। ʼভেক্সিনেশন ফর অলʼ শিরোনামে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে…

২৩ নভেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।