বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

ধূমপান: কীভাবে কাজ করে?

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৮ জুন ২০২০, রবিবার

মঈনুল ইসলাম
চট্টগ্রাম মা-ও-শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ধূমপান কর্কট রোগের কারণ।

পৃথিবীতে শুধুমাত্র এই একটা জিনিস বা দ্রব্যের উপরেই লেখা থাকে, এই দ্রব্যটি খারাপ, এটা আপনার শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাও মানুষ সেই দ্রব্যটি দেদারসে কিনে খায়। ব্র‍্যান্ডিং এর জগতে কোনকিছুতে যদি “দ্রব্যটি খারাপ” লিখে বেচা যায়, তবে সেটা একটা জিনিসই, তা হলো সিগারেট। আপনি বাজার করতে গেলে নিশ্চয়ই ভুয়া দুই নাম্বার পণ্য কিংবা পচা মাছ মাংস কিনে বাসায় আসেন না! কিন্তু প্যাকেটে “স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর” লেখা দেখেও মনের আনন্দে “ধুর! কিছুই হবেনা” বলে মনকে বিশাল সান্তনা দিয়ে একটা সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বাড়িতে চলে যান।

আসুন বায়োলজির ভাষায় দেখে আসি আমাদের শরীরে কী কী প্রভাব ফেলে এই সিগারেটঃ

১) সিগারেটের প্রতিটা টানে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো রাসায়নিক বস্তু আপনার শরীরে প্রবেশ করে থাকে, যেটা পরবর্তীতে আপনার শরীরের কোষের সংস্পর্শে চলে যায়।
যেমন- “টার” নামক রাসায়নিক আপনার দাঁত ও মাড়িকে কালো বানিয়ে দেয়, তারপর দাঁতকে ভঙ্গুর করে দাঁতের এনামেলকে নষ্ট করে ফেলে।

২) সিগারেটের ধোঁয়া নাকে ও মুখে গিয়ে নাক-মুখের নার্ভগুলোর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে নার্ভগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ব্যাক্তি কোন কিছুরই ঘ্রাণ পায় না।

৩) সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয় ফুসফুসে। যেহেতু সেখানে সরাসরি ক্ষতিকর ম্যাটেরিয়ালস গুলো চলে যায়, তাই শ্বাসতন্ত্রের রোগ যেমন- ব্রংকাইটিস, ইম্ফাইসেমা দেখা দেয়, ফুসফুসের প্রদাহ তৈরি হয়। এগুলো ঘটে শ্বাসনালীর সিলিয়াগুলোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে। সিলিয়ার কাজ হলো আমাদের শ্বাসযন্ত্রকে পরিষ্কার রাখা, যাতে ধুলোবালি আমাদের ফুসফুসে চলে আসতে না পারে। কিন্তু সিলিয়াগুলো নষ্ট হবার কারণে বাহিরের ধুলোবালি সরাসরি ফুসফুসে চলে যেতে পারে সহজেই।

তারপরের ক্ষতিটা হয় ফুসফুসের ভেতরে থাকা লাখ লাখ এলভিওলি তে। এলভিওলি এর কাজ হলো আমরা যেই অক্সিজেনটা বাতাস থেকে নেই সেটা রক্তে দেয়া আর কার্বন-ডাইঅক্সাইড কে রক্ত থেকে নিয়ে বাহিরে বের করে দেয়া। কার্বন-মনোক্সাইড নামক বিষাক্ত গ্যাস সিগারেটের মাধ্যমে ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেনকে ফুসফুস থেকে রক্তে যেতে দেয়না এবং সে নিজে রক্তে চলে যায় হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে। তাই ধূমপায়ী ব্যক্তিদের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যেটা পরবর্তীতে শাসকষ্ট ঘটায়।

৪) ধূমপানের দশ সেকেন্ডের মাঝে রক্তের মাধ্যমে নিকোটিন চলে যায় ব্রেইনে, যেটা ব্রেইন থেকে ডোপামিন এবং অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারকে মুক্ত করতে সাহায্য করে; যেমন- এনডরফিন। যেগুলো আমাদের শরীরে ভালো লাগার প্রকাশ ঘটায়, এতে মানবদেহ ধীরে ধীরে সিগারেটের প্রতি অতিরিক্ত নেশায় পতিত হয়।

৫) নিকটিন শরীরের রক্তনালীগুলোকে চিকন করে দেয় এবং রক্তনালীর কোষগুলোকে নষ্ট করতে থাকে। যার কারণে শরীরের রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে। রক্তনালীগুলোর মাঝে প্লাটিলেট জমতে থাকে, ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এতে হার্ট এট্যাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৬) সিগারেটের মাঝে থাকা অনেকগুলো রাসায়নিকই মারাত্নক মিউটেশন ঘটাতে পারে জিনের মধ্যে। বিশেষ করে আর্সেনিক এবং নিকেল বেশিরভাগ মিউটেশন ঘটায়। তারা ডিএনএ কে রিপেয়ার হতে দেয়না, এতে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা শরীরের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তিনভাগের একভাগ ক্যান্সার রোগীই প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ধূমপানের কারণে। ধূমপান শুধুমাত্র ফুসফুসের ক্যান্সারেরই কারণ না; মানুষ ধূমপানের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে-
মুখ, নাক, গলা, অন্ননালী, ব্লাডার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, উরেথ্রাল, ওভারিয়ান, লিভার ক্যান্সারে।

৭) ধূমপান চোখের দৃষ্টিশক্তিকে নষ্ট করে।

৮) ধূমপান হাড্ডিকে ভঙ্গুর করে তোলো।

৯) ধূমপায়ী মহিলাদের মা হবার সম্ভাবনা কমে যায় এবং সন্তানের ঝুঁকি দেখা দেয়।

১০) ধূমপান পুরুষদের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ঘটায়।

যখন আপনি ধীরে ধীরে ধূমপান ছেড়ে দিবেন, যে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন গুলো আপনার শরীরে আসা শুরু হবে

১. ধূমপান ছেড়ে দেবার বিশ মিনিটের মাঝে আপনার হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসবে।

২. ১২ ঘন্টা পর কার্বন-মনোক্সাইড এর লেভেল অনেকটা কমে আসবে এবং দেহে অক্সিজেনের লেভেল বাড়তে থাকবে।

৩. একদিন পর হার্ট এট্যাকের সম্ভাবনা কমে আসবে, যেভাবে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো।

৪. দুই দিন পর মুখ ও নাকের নার্ভগুলো সতেজ হওয়া শুরু করবে এবং ব্যক্তি আবার ঘ্রাণশক্তি ফিরে পাবেন।

৫. ফুসফুস এক মাস পর সেরে ওঠা শুরু করবে, কাশি থাকলে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।

৬. নয় মাসের মধ্যে সিলিয়াগুলো আবার জেগে উঠবে, আপনার ফুসফুসকে ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচাবে।

৭. এক বছর পর রক্তনালীগুলো আবার খুলে যাবে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিকের দিকে মোড় নেবে।

৮. পাঁচ বছর পর আপনার স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

৯. দশ বছর পর ফুসফুসের ক্যান্সার এবং অন্যান্য ক্যান্সারে ভোগার সম্ভাবনা কমে যাবে। কারণ ডিএনএ রিপেয়ার হওয়া শুরু করবে তখন।

এইভাবে পয়েন্ট আকারে বলে যাওয়া যতোটা সহজ, ধূমপান ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা হয়তো ধূমপায়ী ব্যক্তিদের জন্য ততোটা সহজ নয়। প্রাথমিকভাবে ধূমপান ছেড়ে দিলে ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা কাজ করতে পারে, তবে সেটা সাময়িক সময়ের জন্যই। এইসব ঘটে নিকোটিন উইতড্রোয়াল এর জন্য। কাউন্সেলিং এবং কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি, কিছু এক্সেরসাইজ ধূমপানে পুনরায়ে জড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।