CDC প্রদত্ত যথাযথ সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (PPE) সম্পর্কিত গাইডলাইন

২০ মার্চ ২০২০: ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক ও সরঞ্জামাদি (PPE) ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধে অপরিহার্য। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ান, নার্স, ডাক্তার যদি সঠিক PPE সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করেন, তাহলে রোগী এবং সেবাদানকারী নিরাপদ থাকবেন। যদি PPE সঠিক না হয় বা সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার না করা হয় কিংবা ভাইরাস আক্রান্ত/সম্ভাব্য রোগীর চিকিৎসায় নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ইউনিটের প্রত্যেকে এটি সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার না করেন, তাহলে রোগী এবং সেবাদানকারী সবাই অনিরাপদ। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। প্রতিকারের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ নেই এমন জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধই আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত চিকিৎসা।
আসুন দেখি আন্তর্জাতিক মানের গাইডলাইন অনুযায়ী করণীয় কি কি।
(CDC এর ওয়েবসাইট থেকে)


নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই যথাযথ PPE নির্বাচন করে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীকেই নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
১.কখন PPE ব্যবহার করতে হবে তা জানা
২.PPE ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
জ্ঞান।
৩.কিভাবে যথাযথভাবে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে PPE পরিধান,ব্যবহার এবং খুলে ফেলার মাধ্যমে নিজ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে জ্ঞান।
৪.কোন কোন উপায়ে সঠিকভাবে PPE কে জীবাণুমুক্ত করা যায়,সে সম্পর্কে জ্ঞান।
৫.PPE এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জ্ঞান।

যেকোন পুনর্ব্যবহারযোগ্য PPE ই ব্যবহারের আগে এবং পরে যথাযথভাবে পরিষ্কার করা ও বিশুদ্ধতা বজায় রাখা আবশ্যক।ধারাবাহিকভাবে PPE পরিধান এবং খুলে ফেলার যে স্বীকৃত পদ্ধতি আছে,সে সম্পর্কে স্বাস্থ্যকর্মীগণের সম্যক ধারণা থাকা উচিত। সেজন্যে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে ।

যেকোন কোভিড-১৯ রোগীকে অথবা করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির চিকিৎসায় নির্ধারিত PPE এর মধ্যে রয়েছে:


ফেইসমাস্ক

১.রোগীর ঘরে অথবা চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার পূর্বে মাস্ক পরিধান করতে হবে।
২.এরোসল উৎপন্নকারী প্রক্রিয়া সম্পাদনের সময় N95 Respirator পরিধান করতে হবে, যা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রদান করতে সক্ষম।
৩.রোগীর ঘর অথবা চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরে ফেইসমাস্ক অথবা N95 Respirator টি যথোপযুক্ত জায়গায় ফেলতে হবে এবং তারপরেই ভালভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। (হাত ধোয়ার আদর্শ পদ্ধতি প্রযোজ্য)

PAPR(Powered air purifying respirator) এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিবার ব্যবহারের পূর্বে তা ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

চোখের প্রতিরক্ষা :

১.চোখের প্রতিরক্ষার জন্য রোগীর ঘরে অথবা সেবাদান কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে অবশ্যই Goggles (সুরক্ষা চশমা) অথবা Disposable Face Shield ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত যেসব চশমা এবং কন্ট্যাক্ট লেন্স আছে, সেসব এ প্রতিরক্ষার কাজে যথেষ্ট নয়।
২.রোগীর ঘর থেকে বের হওয়ার পূর্বে চোখের প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি খুলে রাখতে হবে।
৩.চোখের প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত যেসব সরঞ্জামাদি বারংবার ব্যবহার করা যায়,প্রতিবার ব্যবহারের পূর্বে সেগুলো ভালমত ধুয়ে পরিষ্কার করে এবং জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে।
৪.যেকোন সরঞ্জাম যা একবারই ব্যবহার করা যায়,তা ব্যবহারের পর যথাস্থানে ফেলতে হবে। ঢাকনা ওয়ালা ময়লার ঝুড়ি যা থেকে পানি চুইয়ে পড়ে না এমন ঝুড়িতে মাস্ক, গ্লাভস, এপ্রন/গাউন ইত্যাদি উল্টো দিকে ভাঁজ করে ফেলতে হবে।

গ্লাভস

১.রোগীর ঘরে প্রবেশের পূর্বে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরিধান করতে হবে।
২.গ্লাভস ছিঁড়ে গেলে অথবা কাজ করতে করতে খুব বেশি পরিমাণে ময়লা হয়ে গেলে,তা পরিবর্তন করতে হবে।

গাউন

রোগীর ঘরে প্রবেশের পূর্বে পরিষ্কার এবং আলাদা করে রাখা গাউন পরিধান করতে হবে। ময়লা লেগে গেলেই গাউন পরিবর্তন করতে হবে। রোগীর ঘর ত্যাগের পূর্বেই গাউন খুলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। আর গাউন যদি Disposable হয়, তবে তা একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দিতে হবে। কাপড়ের তৈরি গাউন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করে বারবার ব্যবহার করা যায়।

গাউনের স্বল্পতা থাকলে নিম্নলিখিত দিকগুলোতে নজর রাখা উচিত:
১.Aerosol উৎপন্নকারী প্রক্রিয়া
২.পরিচর্যা কাজ, যেখানে নিজের ভিজে যাওয়ার অথবা পানির ঝাপটা আসার সম্ভাবনা থাকে।
৩.রোগীর সেবাপ্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম, যেখানে রোগ-জীবাণু স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে এবং কাপড়ে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমন :
-ড্রেসিং
-গোসল
-হস্তান্তর (চিকিৎসাপত্র/ফাইল, কলম, মোবাইল ফোন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি)
-স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রদান
-কাপড়-চোপড় পরিবর্তন
-ক্ষতস্থান পরিষ্কার
-যেকোন যন্ত্র ব্যবহার অথবা যত্ন

সুতরাং সঠিক PPE, সব স্বাস্থ্যকর্মী, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ – এই তিনের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবাদান সম্ভব।

স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষে এসকল বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জনমনে প্রত্যাশা।

Platform

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

কোভিড ১৯: মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০,০০০

Fri Mar 20 , 2020
২০ মার্চ ২০২০: বিশ্বের ১৮০ টি দেশে ছড়িয়ে পড়া মহামারি সংক্রামক রোগ কোভিড ১৯ এ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০,০৪৭ জন; যার মধ্যে শুধু ইতালিতেই মৃতের সংখ্যা ৩৪০৫ জন যা চীনের চেয়েও বেশি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চীনে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ৩২৪৮ জন। প্রথম কোভিড ১৯ সনাক্ত হওয়ার পর হতে […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট