• নিউজ

September 4, 2019 5:18 pm

প্রকাশকঃ

 

মানবদেহের প্রতিটি কিডনির উপরে একটি করে গ্রন্থি রয়েছে, যাকে এড্রেনাল গ্রন্থি বলা হয়।। এড্রেনাল গ্রন্থির আবার দুইটা অংশ রয়েছে, ভিতরের দিকে রয়েছে এড্রেনাল মেডুলা, এবং বাহিরের দিকে রয়েছে এড্রেনাল কর্টেক্স।

এড্রেনাল মেডুলা থেকে এড্রেনালিন এবং নর-এড্রেনালিন নামক দুইটা হরমোন ক্ষরিত হয়, যা সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম কে স্টিমুলেট করার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকে।

অপর দিকে এড্রেনাল কর্টেক্সের রয়েছে তিনটি অংশ,
জোনা গ্লোমেরুলোসা, জোনা ফ্যাসিকুলারিস,
জোনা রেটিকুলারিস।
জোনা গ্লোমেরুলোসা থেকে Aldosterone নামক একটি হরমোন বের হয়, যার কাজ হচ্ছে কিডনিতে Distal Tubules থেকে সোডিয়াম Reabsorption করে সোডিয়াম সমূহ শরিরে ধরে রাখা। এবং ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করা।

জোনা ফ্যাসিকুলারিস:
এড্রেনাল কর্টেক্সের জোনা ফ্যাসিকুলারিস এবং জোনা রেটিকুলারিস অংশ থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুইটা হরমোন ক্ষরিত হয়, একটি হচ্ছে কর্টিসল অপরটি হচ্ছে
এন্ড্রোজেন।।

এখানে আমরা কর্টিসল নিয়ে কিছুটা আলোচনা করবো, যাতে করে আমরা Cushing’s Syndrome বুঝতে পারি।

কর্টিসল হরমোন :

কর্টিসল হচ্ছে Glucocorticoeds শ্রেণীর একটি হরমোন, যাকে স্টেরয়েড হরমোনও বলা হয়।
যে কোনো Stress এর সময়, ভয়ের সময়, রাগের সময়, ডিপ্রেশনের সময় প্রচুর পরিমানে এই হরমোন
ক্ষরণ হয়, যা কিছুক্ষণ পরে আবার নিউট্রালাইজড হয়ে যায়। কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ হয়
পিটুইটারি গ্রন্থি দ্বারা।। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে Adreno-corticotrophine Hormone ক্ষরণ হয়, এবং তা কর্টিসল হরমোন ক্ষরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে।

কর্টিসল বা গ্লুকোকর্টিকয়েড হরমোনের কাজ :

১। Cortisol বা Glucocorticoids হরমোন সমূহ ইনফ্লামেশন এর বিরুদ্ধে কাজ করে, তথা কর্টিসল Anti-inflammatory mediator হিসাবে কাজ করে, এই কারণে সিভিয়ার ইনফ্লামেশনের চিকিৎসা হিসাবে Glucocorticoids বা স্টেরয়েড দেওয়া হয়।

২। এলার্জিক রিয়েকশানের বিরুদ্ধে কর্টিসল খুব দ্রুত কার্যকরী।।

৩। কিডনি থেকে সোডিয়াম রিটেনশন করে এবং ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দেয়।।

৪। Fasting এর সময় Gluconeogenesis এর মাধ্যমে Blood Glucose level নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। ইমিউনিটি নিয়ন্ত্রণ করে।।

৬। ব্লাড প্রেশার, রেস্পাইরেটরি রেট, এবং অন্যান্য নরমাল মেটাবলিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।।

৭। নরমাল গ্যাস্ট্রিক এসিড ক্ষরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
করে।

৮। ইউরিনের সাথে অপ্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম বের করে দেয়।

এবার আসি Crushing Syndrome. এর আলোচনায়।

what is Cushings syndrome??
Crushing Syndrome is a group of symptoms which occures as a result of
expose of Body to high level of Cortisol for long time: cortisol hormone either Exogenous Or Endogenous;

অর্থাৎ Cushing’s syndrome হচ্ছে অনেক গুলি উপসর্গের সমষ্টি যা মূলত শরিরের মাঝে দীর্ঘদিন যাবত অত্যাধিক পরিমান কর্টিসল হরমোনের প্রভাবে দেখা যায়। Circulation এর মধ্যে যদি দীর্ঘদিন যাবত অত্যাধিক পরিমান কর্টিসল থাকে, তাহলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যাকে সমষ্টিগত ভাবে Cushing syndrome বলে।।

কর্টিসলের অত্যাধিকতা Exogenous এবং Endogenous দুই ভাবে হতে পারে।

১।Exogenous :
যদি দীর্ঘদিন যাবত Glucocorticoids মেডিসিন
তথা prednisolone খাওয়া হয়, তাহলে Circulation এর মধ্যে কর্টিসলের মাত্রা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাবে, এবং
Cushing’s Syndrome ডেভেলপ করবে।।
যথা কেউ যদি দীর্ঘদিন যাবত Asthma, COPD কিংবা সোরিয়াসিস এর জন্য prednisolone কিংবা অন্যান্য গ্লুকোকর্টিকয়েড /স্টেরয়েড ব্যবহার করে, তবে তার Cushing syndrome হতে পারে।।

২। Endogenous :
Endogenous Excessive Cortisol এর প্রভাবে
Cushing syndrome হতে পারে।। অর্থাৎ যদি কোনো
কারণে শরিরের অভ্যান্তরীন কোনো কারণে
এড্রেনাল কর্টেক্স থেকে অতিরিক্ত পরিমান কর্টিসল হরমোন ক্ষরিত হয়, তাহলে Cushing syndrome হতে পারে।।

অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন ক্ষরণের কারণ.

(ক)
এড্রেনাল গ্ল্যান্ডে যদি কোনো টিউমার হয় (Adrenal adenoma) , কিংবা এড্রেনাল গ্ল্যান্ডে যদি কোনো ক্যান্সার হয় (Adrenal carcinoma) অথবা অজানা (iatrogenic) কোনো কারণে যদি অতিরিক্ত পরিমান কর্টিসল হরমোন ক্ষরণ হয়, তাহলে cushing Syndrome দেখা দিবে।

(খ)

যদি পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে কোনো টিউমার হয় যথা pituitary adenoma তাহলে ACTH এর ক্ষরণ বেড়ে যাবে, যা এড্রেনাল গ্ল্যান্ড কে স্টিমুলেট করে কর্টিসল হরমোনের পরিমান বাড়িয়ে দেয়। এবং আল্টিমেটলি cushing syndrome দেখা দিবে।

(গ) ব্রংকিয়াল কারসিনোমা হলেও ACTH এর পরিমান বেড়ে গিয়ে এড্রেনাল গ্ল্যান্ড থেকে কর্টিসল ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, এবং cushing syndrome দেখা দিবে।

(ঘ) iatrogenic Cause.

Cushing syndrome এর উপসর্গ :

Cushing syndrome এ যেহেতু কর্টিসলের প্রভাব অত্যাধিক বেড়ে যায়, তাই নিন্মের উপসর্গ গুলি দেখা দিবে।।

১। Psychosis and Depression:
কর্টিসলের পরিমান বেড়ে গেলে সেরেটোনিন এর পরিমান কমে যায়, আর সেরোটেনিনের পরিমান কমে
গেলে ডিপ্রেশন দেখা দেয়।।

২।Hyperglycemia:
অতিরিক্ত কর্টিসল Gluconeogenesis এর পরিমান বাড়িয়ে দেয়, যদি কর্টিসলের পরিমান বেড়ে যায়, তাহলে Non-carbohydrate substance থেকে যথা amino acid এবং Fatty acid থেকে প্রচুর পরিমান গ্লুকোজ তৈরি হবে , এবং ব্লাড গ্লুকোজ বেড়ে যাবে।
অর্থাৎ অতিরিক্ত কর্টিসল লিপিড এবং প্রোটিনকে
ভেঙ্গে গ্লুকোনিওজেনেসিস এর মাধ্যমে গ্লুকোজ তৈরি
করে, এবং হাইপারগ্লাইসেমিয়া করে।।।

৩।Moon Face :
হাইপারগ্লাইসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য pancreatic beta cell থেকে ইনসুলিন ক্ষরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
ইনসুলিন বেশি বেশি ক্ষরণ হলে গ্লুকোজ সমূহ কোষের ভিতর চলে যাবে, এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজ কোষের ভিতর De-Novo-Lypogenesis প্রকিয়ায়
ফ্যাটে রুপান্তরিত হবে।। এবং শরীরে ফ্যাটের পরিমান বাড়িয়ে দিবে।। এই ফ্যাট সমূহ Face এর মধ্যে
Deposition হলে Face চাঁদের মত গোলাকার হয়ে যায়, যাকে Moon face বলে।। এভাবে ক্ল্যাভিকলের উপরে গাঁড়ের নিছের দিকেও ফ্যাট ডিপোজিট হতে পারে।

৪।Glucoma and cataract :
cushing syndrome যদি পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের কোনো টিউমারের কারণে হয়ে থাকে তাহলে টিউমার কর্তৃক অপটিক নার্ভে প্রেশার পড়ে গ্লুকোমা এবং ক্যাটারাক্ট হতে পারে।

৫।Hirsuitism in female:
কর্টিসলের সাথে অতিরিক্ত Androgen হরমোন ক্ষরণ হয়, যার প্রভাবে মহিলাদের লোমহীন জায়গায় Hair কিংবা চুল উঠতে পারে, যাকে Hirsuitism বলে।।অত্যাধিক পরিমান প্রোলাক্টিন হরমোনের কারনেও hirsuitism দেখা দিতে পারে।

৬। Hair loss: অতিরিক্ত androgen এর কারণে পুরুষের hair loss হতে পারে।

৭।Hyspertension : যেহেতু কর্টিসলের অন্যতম একটি কাজ ছিলো রেনাল টিউবিউলস থেকে সোডিয়াম শোষণ করে শরিরে ধরে রাখা, তাই কর্টিসল লেভেল বেড়ে গেলে অতিরিক্ত পরিমান সোডিয়াম রিটেনশন হবে, এবং হাইপারটেনশন দেখা দিবে। এবং Cardiac Hypertrophy দেখা দিবে।

৮।Peptic Ulcer: কর্টিসলের কাজ ছিলো গ্যাস্ট্রিক এসিড ক্ষরণ নিয়ন্ত্রন করা, cushing syndrome এ যেহেতু অতিরিক্ত কর্টিসল ক্ষরণ হয়, তাই হাইড্রোক্লোরিক এসিড ক্ষরণের মাত্রা বেড়ে যাবে, এবং peptic Ulcer disease করবে।।।

৯। Hyperparathyroidism:
যেহেতু কর্টিসল ক্যালসিয়াম কে ইউরিনের সাথে বের করে দেয়, আবার ক্যালসিয়াম এর absorption কমিয়ে দেয়, তাই হাইপোক্যালসিমিয়া ডেভেলপ করে,
হাইপোক্যালসিমিয়া হলে অটোমেটিক ভাবে প্যারাথাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ শুরু হয়, যা intestine থেকে ক্যালসিয়াম এর absorption বাড়িয়ে দেয়,
আবার Bones থেকে Calicium বের করে দেয়, যেনো
calcium homeostasis বজায় থাকে।

১০।Pendulous abdomen:
অতিরিক্ত ফ্যাট abdomen wall এ জমাট বেঁধে, পেট ফুলে থাকে, কার্ডিওভাস্কুলার রিস্ক বেড়ে যায়, যাকে
Centripetal abdomen বলে।।

১১। Stria: পেটে চর্বি জমে পেট ফুলে যায়, স্কিন এর Thinckness ফ্যাট দ্বারা Dissolved হয়ে স্কিন Thin
হয়ে যায়, তাই প্রসারণ কিংবা পেশির টানাটান অবস্থার কারণে সেখানে কিছু লাল দাগ তৈরি হয়, যাকে stria বলে,
প্রেগন্যান্ট মহিলাদের মত এই দাগ গুলি তৈরি হয়।
কারণ প্রেগন্যান্ট এর সময়কালীন তাদের ও পেটের স্কিন সম্প্রসারিত হয়।

১২।Osteoporosis:
প্যারাথাইরয়েড হরমোনের প্রভাবে Bones থেকে ক্যালসিয়াম Resorption হয়ে Osteoporosis develop করে।

১৩।Bruising : স্কিন পাতলা থাকার কারণে সেখানে কিছু ব্লাড জমাট বেধে Bruis হতে পারে।

১৪। মহিলাদের ক্ষেত্রে Manstrual abnormality হতে
পারে।

১৫। ইনফেকশন এর ঝুঁকি বেড়ে যায়,

১৬।। ওজন বেড়ে যায়,

১৭। চিকিৎসা না করলে ডায়াবেটিস ডেভেলপ করবে।

১৮। হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেইণ স্ট্রোকের ঝুকি বাড়বে।

 

 

ইনভেস্টিগেশন:

1.Random plasma cortsol level.
2. CT scan of Adrenal gland
3. MRI of Pituitary Gland.
4. chest X-Ray etc

 

প্রতিরোধ :

১. ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোনো স্টেরয়েড ব্যবহার না করা।

২. দীর্ঘদিন স্টেরয়েড /গ্লুকোকর্টিকয়েড ব্যবহার করতে হলে রেগুলার কয়েকদিন পরপর ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চলা।

চিকিৎসা :

১. সঠিক ভাবে ড্রাগ হিস্ট্রি নিবে।।
যদি প্রেডনিসোলন কিংবা অন্যন্য কোনো গ্লুকোকর্টিকয়েড এর কারনে Cushing syndrome হয়ে থাকে, তাহলে ট্যাপারিং ডোজে স্টেরয়েড বন্ধ
করে দিতে হবে।

২. Symptomatic Treatment দিবে।
Example : Antihypertensive To Control
Hypertension.PPI for Peptic Ulcer etc

৩। Causative Treatment : যেই কারণে Cushing’s syndrome হয়েছে, তা খুজে বের করবে, যদি
কোনো টিউমারের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে টিউমার রিমোভ করবে।।

৪। Corticosteroid biosynthesis inhibitor
মেডিসিন দিবে।। উদাহরণস্বরূপ
a. Metyrapone
b. Aminoglutethimide
c. Ketoconazole

উপসর্গ দেখে Cushing’s syndrome মনে হলে একজন
Endocrinologist এর কাছে রেফার করবে।

মূল লেখক :

ইসমাইল আযহারি
DCMC:13-14

প্ল্যাটফর্ম ফিচার রাইটার

সুমাইয়া নার্গিস

শতামেক ( ২০১৬/১৭)

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ একাডেমিক,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
Advertisement
.