প্লাজমা দানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

প্লাজমা ডোনেশন খুবই সহজ ও নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতিতে ডোনারের শরীর থেকে সংগ্রহীত রক্ত sterile tube এর মাধ্যমে সেন্ত্রিফিউজ মেশিনে যায়। Plasmapheresis পদ্ধতিতে রক্ত থেকে প্লাজমা আলাদা হয়ে একটি প্লাজমা ব্যাগে জমা হয়। আর রক্ত পুনরায় ডোনারের শরীরে দিয়ে দেওয়া হয়। সময় লাগে ৬০-৯০ মিনিট। ডোনারের কিছু মেডিকেল টেস্ট ও বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়। প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের ১০ মি.লি. প্লাজমা ডোনেট করা যায়।

করোনা মহামারীর এই সংকটময় সময়ে করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়ে প্লাজমা দান করছেন অনেক প্লাজমা বীর। চিকিৎসকদের পাশাপাশি সকল স্তরের ব্যক্তিবর্গ এগিয়ে আসছেন মহতী এই উদ্যোগে।

করোনা আক্রান্তদের জন্য মেডিসিন ক্লাব এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, ট্রান্সফিউশন ডিপার্টমেন্টের সহায়তায় প্লাজমা দানে এগিয়ে আসেন যাত্রাবাড়ীর মো. সাদমান সাকিব তামিম। তাঁর বয়স ২১ বছর এবং রক্তের গ্রুপ AB+।

গত এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে তার নমুনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই মাসের ৫ তারিখ নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। মেডিসিন ক্লাব, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইউনিট থেকে যোগাযোগ করার পর তিনি গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে প্লাজমা ডোনেট করেন।

আরেকজন প্লাজমা বীর হচ্ছেন মো. মজনুর রহমান অপু, যিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। আসগর আলী হসপিটালে কর্মরত আছেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছিলেন কোভিড-১৯ এ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের জন্যে দরকার ছিলো ও পজিটিভ প্লাজমার, তাঁর নিকটাত্মীয়রা যোগাযোগ করেন মেডিসিন ক্লাব এর সাথে। আর, মেডিসিনিয়ানরা চেষ্টা করে তাঁর জন্যে এই প্লাজমা টুকু পৌঁছে দিতে।

করোনা থেকে সুস্থ হবার পরে তিনি এগিয়ে এসেছেন প্লাজমা থেরাপি নামক পরীক্ষামূলক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রধান নিয়ামক প্লাজমা দান করতে।

প্রসঙ্গত, প্লাজমার ৯০% ই পানি। তাই, কেউ প্লাজমা দান করলে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীর তা পূরণ করে ফেলে। স্বাভাবিক খাবার আর যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করলেই চলবে।

ডাক্তাররা ডোনারের শরীরের ওজনের হিসাবে ১০ মিলি লিটার/প্রতি কেজি প্লাজমা নিয়ে থাকেন। আপনার ওজন যদি ৫০ কেজি হয়, তবে মাত্র ৫০০ মিলি প্লাজমা নেওয়া হবে। ডোনারের বয়স আঠারো এবং তদূর্ধ্ব হতে হবে, ডোনারের ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি হতে হবে।

আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর মতে, একজন ব্যক্তি প্লাজমা দান করার ৪৮ ঘণ্টা পর পুনরায় প্লাজমা দান করতে পারেন। অর্থাৎ সপ্তাহে ২ বার চাইলেই আপনি প্লাজমা দিতে পারেন নিরাপদে। এজন্য শুধু বেশি করে পানি আর স্বাভাবিক খাবার দাবার খেতে হবে। তারপরও যদি কেউ আশঙ্কিত থাকেন, অন্তত প্রতি সপ্তাহে ১ বার তো প্লাজমা ডোনেট করতেই পারেন।

কখন প্লাজমা দান করতে পারবেন?

১। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হবার পর ২৮ দিন অতিবাহিত হলে অথবা,
২। আক্রান্ত ব্যক্তির সকল প্রকার উপসর্গমুক্তির পর ন্যূনতম ২৪ ঘন্টা ব্যবধানের মধ্যে সংঘটিত পর পর ২টি নেগেটিভ RT PCR টেস্টের ২য় টির ফলাফল নেগেটিভ আসার পর ১৪ দিন অতিবাহিত হতে হবে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয়:

১। এন্টিবডি টাইটার ন্যূনতম ১ঃ১৬০ থাকতে হবে।
২। যেসব মহিলা কখনো গর্ভধারণ করেছেন তারা প্লাজমা দানের জন্য উপযুক্ত নন৷

অংকন বনিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

মাস্ক ব্যবহার এবং ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানে করোনামুক্তি

Sun May 31 , 2020
রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ ডা. মুক্তা সারোয়ার এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর গতবছর শেষের দিকে ভিয়েতনামে গিয়েছিলাম। দুইটা জিনিস অবাক করার মতো ছিলো। একঃ সবাই স্কুটারে অভ্যস্ত। দুইঃ অনেকের মুখে মাস্ক। স্কুটার না হয় বুঝলাম, কিন্তু এই মাস্কের ব্যাপারটা খোলাসা হয় নি। গাইড বললো, শহরের দূষিত আবহাওয়া এবং […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট