খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন।

বিশ্বে ডায়াবেটিস প্রধান দেশ ভারতে ৫০ মিলিয়ন লোক ডায়াবেটিস টাইপ -২ তে আক্রান্ত। মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সময়মত সনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসাই এই রোগীদের সাধারণ জীবন যাপন করতে সাহায্য করবে। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত রোগ হচ্ছে ডায়াবেটিস, বিশেষভাবে ভারতে। একমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। International Journal of Diabetes এর মতে উন্নয়নশীল দেশে ডায়াবেটিস এখন স্বাস্থ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে প্রতিবছর ৩.৪ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় ডায়াবেটিসের কারণে। WHO এর মতে মধ্য আয়ের দেশ গুলোতে প্রায় ৮০% মানুষ মারা যায় টাইপ- ২ ডায়াবেটিস এর কারণে, যা ২০১৬-২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে। পরিসংখ্যান অনু্যায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৪৩৮ মিলিয়ন মানুষ টাইপ- ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে, ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিলো ২৮৫ মিলিয়ন। WHO এর এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়েছে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা ছিলো প্রায় ৭.১ মিলিয়ন। ২০৪০ সালে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হবে প্রায় ১৩.৬ মিলিয়ন। আশ্চর্যজনক হলে সত্য যে বাংলাদেশে আক্রান্ত ৫১.২ % রোগী জানে না যে সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং অনেকেই আছে যারা জানা সত্বে ও কোন চিকিৎসা নিচ্ছে না। তাই ডায়াবেটিস জনিত কারণে অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং মৃত্যুর পরিমাণ ও বেড়ে যাচ্ছে। আলোচনার সাপেক্ষে মৌলিক বিষয় হচ্ছে ডায়াবেটিস কি তা সঠিকভাবে জানা।

সহজভাবে বলতে গেলে অগ্নাশয় থেকে অপর্যাপ্ত ইনসুলিনের নিঃসরণ বা পর্যাপ্ত নিঃসরণ হওয়ার পর ও সেটা ঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় সৃষ্ট হওয়া শারীরিক সমস্যা হচ্ছে টাইপ -১ ডায়াবেটিস।
অন্যদিকে, অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন একেবারেই উৎপাদন না হওয়ার ফলে যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরী হয় সেটাই হচ্ছে টাইপ – ২ ডায়াবেটিস। সাধারণত দেহের রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে অগ্নাশয় থেকে নিঃসরণ হওয়া ইনসুলিন (একটি হরমোন)। ইনসুলিন রক্তে মূলত গ্লুকোজের কমায়, যখন রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বৃদ্ধি পায়, বিশেষভাবে খাওয়ার পর। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখার এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয় না।

ডায়াবেটিস হচ্ছে একটি দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা। রোগের প্রথমদিকে ঔষধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ, এবং রোগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাহ্যিকভাবে ইনসুলিন প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং সময়মত শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ রোগে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক হলে ও সত্যি বেশির ভাগ রোগীই এ ব্যাপারে একেবারেই সচেতন নয়।

সম্প্রতি ভারতের ৮ টি শহরের ৪০০০ ডায়াবেটিক রোগীদের উপর জরিপ করে জানা গেছে যে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক হারে এই ডায়াবেটিস এর কারণ তাদের খাদ্যাভ্যাস। এক্ষেত্রে প্রধাণ কারণ হলো ভাত, ময়দার রুটি, আলু বা ইত্যাদি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ভারতীয় উপমহাদেশে খাদ্য তালিকায় ক্যালরি থাকে উচ্চ মাত্রার, কিন্তু প্রয়োজনীয় আঁশ জাতীয় বা ফাইবার সৃমৃদ্ধ খাবার থাকে স্বল্প মাত্রায়। চেন্নাই এর ডা. ভি মোহন বলেন, ‘সাদা ভাত একটি উচ্চ শর্করা সমৃদ্ধ খাবার যা দ্রু ব্লাড সুগার লেভেল বাড়ায়।

Indian Academy of Diabetes এর প্রধাণ ডাক্তার যোশীর মতে ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য গ্রহণ করার ব্যাপারে ও সঠিক নিয়ম কানুন মেনে চলে না। অনেকেই খাবার এত দ্রুত খায় যে অগ্ন্যাশয় থেকে খাবার পরিপাকের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরী হয় না।
ডা. যোশী আরো বলেন, ‘দুবেলা খাবার গ্রহনের মধ্যবর্তী বিরতি বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয়রা সকালে ঘুম থেকে উঠার পর দুই থেকে তিন ঘন্টা পর খাবার খায় যা খুবই ক্ষতিকর। তাই সকলেরই উচিৎ ঘুম থেকে উঠার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাবার খাওয়া।’

ভারতীয় উপমহাদেশের লোকজনদের যেকোন উৎসব- অনুষ্ঠানে ভারী খাবার খাওয়ার একটা ঝোঁক থাকে, এবং ডায়াবেটিস রোগীরা ও তাই করে। ৩০ শতাংশ মানুষই তাদের ডায়েট ভুলে যায়, এবং সেসব উচ্চ ক্যালরির খাদ্য গ্রহণ করেন। Pharma Major Abbot কর্তৃক একটি জরিপে দেখা যায় এসময়ে ৬২% মানুষেরই বিএমআই থাকে ২২.৯ এর উপরে এবং ৬৫% মানুষেরই ব্লাড সুগার লেভেল থাকে অনিয়ন্ত্রিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, এক ধরনের ডায়েটে অগ্নাশয় কোষ গুলোকে নতুনভাবে গঠিত করতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন তৈরী করা অগ্নাশয় কোষগুলোকে বৃদ্ধি ও উন্নীত করে এবং টাইপ – ২ ডায়াবেটিস এর লক্ষণ (বেশি বেশি ক্ষুধা লাগা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, দূর্বলতা) গুলো হ্রাস করে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই গবেষণার ফলাফল মোটামুটি একটি সুসংবাদ বলা যায়। তাই, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েটের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকুন।

প্ল্যাটফর্ম ফিচার রাইটার :
Tahrim Mojumder (Ayesha)
Brahmanbaria Medical College
Session : 2015-16

সোনালী সাহা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

এমবিবিএস এর পর - আপনার ক্যারিয়ার এর নানা পথ........

Mon Jul 23 , 2018
অনেকেই এমবিবিএস এর পরে দেশে/দেশের বাইরে ক্যারিয়ার করার ব্যাপারে জানতে চেয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। সবার জন্য কমন উত্তর হিসেবে লিখছি। উল্লেখ্য তথ্যগুলো বিভিন্ন গ্রুপ এবং সিনিয়র ডাক্তারদের পোস্ট থেকে সংগৃহীত। এমবিবিএস করার পরঃ ১)বাংলাদেশে যা যা করতে পারেনঃ #চাকরিঃ সরকারি বিসিএস (২ বছর বাধ্যতামূলক গ্রামে থাকতে হবে), বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি মেডিকেল […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট