ইনফেকশন প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল ইন কোভিড-১৯: আলোচনার সার সংক্ষেপ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১ জুলাই ২০২০, বুধবার

গত ২৯ জুন সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায় “প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল সোসাইটি” আয়োজন করে Infection Prevention And Control In Covid-19 শীর্ষক এক ওয়েবিনার

উক্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং উপস্থাপনা করেন ডা. তাসবিরুল ইসলাম, এমডি, এমআরসিপি (ইউ কে), এফআরসিপি, এফসিসিপি। তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে ক্লিনিকাল এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত। একইসাথে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি আরনেট হসপিটালের পালমোনারি এ্যান্ড ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল ডিরেক্টর পদে।

তিনি সহ যেসব প্যানেলিস্ট আলোচনা করেন, তাঁরা হলেন:

১) প্রফেসর ডা. মুহাম্মাদ আকরাম হোসেন, এমবিবিএস, এমফিল, এফআরসিপি (এডিন.)
সাবেক-প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলজি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

২) ডা. শাকিল ফরিদ
কনসালটেন্ট কার্ডিয়াক সার্জন উইথ স্পেশাল ইন্টারেস্ট ইন এয়োর্টিক সার্জারী, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটালস, এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, ইউ.কে.

৩) প্রফেসর ডা. জাহিদুল হাসান, এমবিবিএস, এমফিল, এমপিএইচ
সিনিয়র কনসালটেন্ট, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি এ্যান্ড ল্যাবরেটরি মেডিসিন, স্কয়ার হসপিটাল

৪) ডা. জাহেদ ইকরাম
কনসালটেন্ট ইন জেরিয়াট্রিক মেডিসিন, ওয়েস্টার্ন সাসেক্স হসপিটালস, এনএইচএস ট্রাস্ট, ইউ.কে.

৫) ডা. মুহাম্মাদ শামস্ তাবরিজ, এমডি
কনসালটেন্ট, ইনফেকশাস ডিজিস আ্যডভোকেট মেডিকেল সেন্টার, ইলিনয়, ক্লিনিক্যাল এসোসিয়েট প্রফেসর অব মেডিসিন, ইউআইসি


বক্তারা বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এর ইনফেকশন প্রিভেনশন এবং কন্ট্রোল বিষয়ে আলোচনা করেন। ইংল্যান্ড এর বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁরা যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা শেয়ার করেন এবং গঠনমূলক আলোচনা করেন।

প্রথমেই ডা. মো. শামস তাবরিজ বলেন Infectious Disease ও Infection Control বিষয় দুটোকে তিনি কিভাবে দেখেন। ডা. তাবরিজ বলেন, Infectious Disease মূলত Clinical Term যার সাথে Infection Control ও সম্পর্কযুক্ত। অপরদিকে Infection Control হলো একটা বিশেষায়িত ব্যবস্থা যেখানে প্রশাসনিক, রোগতত্ত্ববিদ, মাইক্রোবায়োলজিস্ট বা অন্যান্য স্পেশালিষ্টগণ যুক্ত থাকবেন এবং Infectious Disease এর সংক্রমণ হ্রাসের লক্ষ্যে একটি পন্থা বা কার্যপরিধি প্রণয়ন করে।

চটগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল বা ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে infection control এ নেয়া উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. আকরাম হোসেন বলেন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ইতিমধ্যেই Infection Control Committee -র অধীনে তাদের সকল ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সুরক্ষা সামগ্রী (যেমন- পিপিই) ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তারা আলাদা রুমের ব্যবস্থা করেছে।

স্কয়ার হাসপাতালের নেয়া উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হাসান বলেন, স্কয়ার হাসপাতালেও একটি কমিটির অধীনে সবাইকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। রোগ সংক্রমণ হ্রাসে সবাইকে সচেতনতার উদ্দেশ্যে স্কয়ার হাসপাতালে বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত চালু রয়েছে। হাসপাতালের বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থার জন্য তারা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এবং তার নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হয়।

তাঁরা উভয়েই দেশের প্রতিটা হাসপাতালে Infection Control Committee গঠনের ব্যাপারে জোর দেন। তাঁরা আরো উল্লেখ করেন, জ্বর, বমি, কাশি, পাতলা পায়খানা হলে রোগীকে অবশ্যই পজিটিভ ধরে নিতে হবে এবং রেজাল্ট নেগেটিভ আসলেও পজিটিভই ধরতে হবে। কেননা রেজাল্ট অনেক ক্ষেত্রেই করোনা উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও ভুল আসতেই পারে আর সেক্ষেত্রে রোগী আরো মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে যদি তাকে আইসোলেশনে না রাখা হয়। সুতরাং সিম্পটম থাকলেই করোনা পেশেন্ট ভেবেই চিকিৎসকদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডা. শাকিলকে বিভিন্ন মাস্কের ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, কাপড়ের মাস্ক সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা উচিৎ। যেহেতু অনেকেরই মাস্ক কিনার সামর্থ্য নেই গ্রামাঞ্চলে, তাই বাইরে গেলে কোন কাজে কাপড়ের মাস্ক পড়া উচিৎ।

সার্জিক্যাল মাস্ক, যেটায় তিনটা লেয়ার থাকে সেটাও সবাই পরতে পারবে। এক্ষেত্রে ভালো করে সিল করে নিতে হবে। জেনারেল ওয়ার্ড এ সার্জিক্যাল মাস্ক ইউজ করা যাবে। তবে এর সমস্যা হচ্ছে এটা রিইউজেবল না! এটাকে চার-পাঁচটা ঘন্টার উপরে ব্যবহার করা যায় না। ঘামে ভিজে এর কার্যকরীতা কমে যায়। তাই এটা সাবধানে ধরে ফেলে দিতে হবে।

আরেক ধরনের মাস্ক যা সার্জিক্যাল মাস্ক এর মতো পাওয়া যায়। এই মাস্ক এর স্ট্রাকচার পাতলা, ফিল্ট্রেশান ভালো তবে সিল করা যায় না ভালোভাবে।

N95 মাস্ক রেইউজেবল। ঘামে বা লিকুইড এ কার্যকরীতা কমবে না। কিন্তু এর দাম বেশি।

এক প্রশ্নে জাহিদুল হাসানকে এত ডাক্তার কেন মারা যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, চিকিৎসকগণ ডোনিং এবং ডোফিং ঠিকমতো নিয়ম মেনে করতে পারছেন না। এছাড়া তাদের ট্রেনিং পর্যাপ্ত নয় এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজ ঠিক মতো হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।


আলোচনার এক পর্যায়ে কোভিড এবং নন কোভিড পেশেন্টকে এক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে, ডা. জাহিদ হাসান বলেন, “বাংলাদেশের যেই অবস্থা তাতে কেউ আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা না পাওয়ার ভয়ে বলতে চায় না পজিটিভ হলেও। ডাক্তার না জেনে চিকিৎসা করান তাতে ডাক্তার আরো বেশি আক্রান্ত হন এবং আরো মানুষকে আক্রান্ত করেন। তাই সব হাসপাতালেই কোভিড এবং নন কোভিড ইউনিট সেপারেটলি রাখা উচিত! চিকিৎসকরা Level 1 PPE পরে রোগী ডিল করতে পারবে।”

ডা. শাকিল বলেন, “হাসপাতালে পজিটিভ না নেগেটিভ প্রমাণ করতে না পারলে রোগী নেয় না।
উদাহরণস্বরূপঃ কোন রোগী অসুস্থ হলে প্রথমে একজন ড্রাইভারকে ডাকা হয় অনেক ঝামেলা পেরিয়ে। তারপর তাকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রোগী নিতে চায় না। কোভিড নাকি নন কোভিড যাচাই করতে না পেরে রোগী।অবশেষে রাস্তায় মারা যান। তাই সব হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আলাদা ইউনিট করে নেয়া উচিৎ এখনই।”

ডা. তাসবির বলেন, “অবশ্যই ওয়ার্ড আলাদা করে নিতে হবে এবং যাতে কম ছড়ায় এবং কম এক্সপোজ হয় তাতে খেয়াল রাখতে হবে। ডাক্তারদের নিজের কথা চিন্তা করেই নিজের খেয়াল বেশি করে রাখতে হবে। অবশ্যই একই হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।”

বক্তারা আরও বলেন, টেস্টগুলায় এখনো viable এবং non- viable আলাদা করতে পারে না। করোনাভাইরাসের মৃত RNA থেকে যাওয়ায়ও এটা হয় এবং পজিটিভ আসে। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ এই ভাইরাস কালচার করা যায় না। তাই আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পরে একাধারে তিন দিন কোন সিম্পটম না থাকলে এইটা নেগেটিভ ধরে নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে টেস্ট করার দরকার নাই। এ সময় ভাইরাল লোড অনেক কমে যায়।

আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে আসার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা জানতে চাইলে তারা বলেন, আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পর টানা তিন দিন এন্টিবায়োটিক ছাড়া কোন সিম্পটম না থাকলে কাজে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি ডে ০ তে আক্রান্ত এবং ডে ফাইভ এ তা শেষ হয় তবে তাকে ১৩ দিন সেল্ফ আইসোলেশান এ থাকতে হবে। আবার কারো যদি ৭ম দিনে শেষ হয় আক্রমণ তবে তাকে ১২+৩= ১৫ দিন সেল্ফ আইসোলেশানে থাকতে হবে।

ডাক্তারদের নিয়ম তাদের জন্যই মানতে হবে। Donning, Doffing মানতে হবে। স্যানিটাইজ করতে হবে এবং রোগীদের নিয়ে জটিলতা কমাতে হবে। প্রতিদিন রোগীকে নিয়ে সিটি স্ক্যান করানোর দরকার নেই। অনেক এ ২৮-৩০ দিন আইসোলেশানে থাকেন নেগেটিভ আসা না পর্যন্ত। এসবের দরকার নেই। তিন দিন সিম্পটম না থাকলেই নেগেটিভ হয়ে গিয়েছে মনে করে কাজ করতে পারবেন।

তাঁরা আরো বলেন, হেলথ ওয়ার্কারদের প্রটেকশন বাড়াতে হবে। সাত দিন কাজ করে ছুটি নিলে এদেশের হিসেব এ ইনফেকশন কমবে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজ করতে হবে। হাত-মুখ-চোখ প্রটেক্ট করতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। Standard precaution মেইনটেইন করতে হবে।

ডা. শাকিল এবং ডা. তাসবির এর কাছে তাদের প্রকাশিত বই, যা মেডিকেল গাইডলাইনের সহায়ক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা জানান, বইয়ের নাম Fighting Covid-19 on the front line (বইটি ডাউনলোড করুন)। ২৫০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে কি নোটস আছে বাংলাদেশের পলিসি মেকার দের জন্য। বইয়ে উল্লিখিত Diagnosis and Medical Treatment অংশটি থানা পর্যায়ের জন্য। অক্সিজেন থেরাপি এবং ইনফেকশন কন্ট্রোল সম্পর্কে লিখেছেন ডা. তাসবির। বইয়ে Speciality Plan সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। Maintenance of Covid-19 at Upazila and Thana level এ ট্রায়াজ সম্পর্কে বিস্তারিত আছে, যা লিখেছেন অধ্যাপক এস. এ. ফাত্তাহ এবং ডা. সামিউল হুদা। জোনিং প্ল্যান এবং কিভাবে কোভিড পেশেন্ট আর গ্রিন পেশেন্ট আলাদা রাখা হবে উপজেলা হাসপাতালে তা ভালো করে দেখানো হয়েছে উক্ত অংশে। নিজেদের করা ভুল থেকে শিখে বাংলাদেশের মানুষকে সাহায্য করতেই এই গাইডলাইন করা হয়েছে।

ডা. তাবরিজ এর কাছে Favipiravir এবং Ramdisvir এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, Favipiravir নিয়ে এখনো গবেষণা হয় নি বাংলাদেশে। Remdisivir নিয়ে প্রিলিমিনারি রিপোর্ট এ দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকার স্থায়িত্ব কমাচ্ছে। ৪ দিন করে থাকা কমিয়ে দিচ্ছে। এইটা প্রয়োগ করা হয় যারা সিভিয়ার পেশেন্ট এবং সাত-দশ দিনের মধ্যে ভর্তি হচ্ছে তাদের জন্য। সাত-দশ দিন পরে ভর্তি হলে আসলে কোন কার্যকারিতা থাকে না তাই রোগীকে দেয়া হয় না। কারণ তখন Cytokine Phase এ চলে যায়। এই কোর্স আইসিইউ তে ভেন্টিলেশান এ অথবা High flow nasal cannula তে থাকা পেশেন্ট দের ১০ দিন এর ডোজ এবং নন আইসিইউতে থাকা পেশেন্ট দের পাঁচ দিনেই কাজ হচ্ছে এবং সুস্থ হচ্ছে। এসব প্রয়োগ করতে হবে সিলেক্টিভ কেইস এ।

ডোনিং, ডোফিং প্রসঙ্গে ডা. শাকিল বলেন, “যুক্তরাজ্যে আমাদের এখানে সবাই হাসপাতালে এসে প্রথমে স্ক্রাবিং করে, তারপর মাস্ক এবং দরকার মতো পিপিই পরেন। কেউই আগে থেকে পরে আসেন না। দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা এ বিষয়ে ভুল করছেন। কারণ তারা বাইরে থেকে জীবাণু বয়ে নিয়ে আসছেন এবং হাসপাতালের পরিবেশকে নোংরা আর জীবাণু বহন করে নিয়ে এসে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এভাবে তারা তাদের সহকর্মী এবং স্বাস্থ্য সেবার নিয়োজিত থাকা বাকিদের এবং রোগীদের আক্রান্ত করছেন। এটা মোটেই ভালো নয়।”

ডা. জাহিদুল হাসানকে ডাক্তারদের সাত দিন ছুটি দিয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন কতটুকু কার্যকর এবং স্কয়ার হাসপাতালে Donning and Doffing কিভাবে করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনারা এসে হাসপাতালে আলাদা রুমে ঢোকার সময় Donning করেন এবং বের হওয়ায় সময় আলাদা রুমে Doffing করে বের হোন। তাঁরা ডিউটি করেন ৭-১০ দিন এবং হাসপাতালে এই পুরোটা সময় থাকেন আলাদা রুমে। বাসায় যেতে দেয়া হয় না। ডিউটি শেষে সমপরিমাণ কার্যদিবসের ছুটি দেয়া হয় এবং দেয়ার আগে চেক করে পাঠানো হয় আক্রান্ত কি না। যাতে করে পরিবারের কাউকে আক্রান্ত করতে না পারেন।

এই বিষয়ে মমেকহা এর প্রফেসর আকরাম বলেন, “আমাদের পুরো হাসপাতাল এয়ার কন্ডিশনড ছিল। এখন একটা ব্লক আলাদা করা হয়েছে কোভিড এরিয়া হিসেবে এবং নন কোভিড হিসেবে। ৭-১০ দিন করেই সবাই কাজ করে এবং পরে ১৪ দিন এর ছুটি দেয়া হয়।”

ডা. শাকিল বাংলাদেশ এ আক্রান্ত ডাক্তার দের সংখ্যা অনেক বেশি দেখা যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন,
“বাংলাদেশে ডাক্তারদের সংখ্যা অনেক কম। তার তুলনায় জনগণের সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে এই ব্যাপার এ সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। এই সময়ে বাংলাদেশের ডাক্তারদের টানা সাত দিন Coverall পরিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ অমানবিক। তাদের একা একা হোটেল এ থাকতে না দিয়ে নির্দিষ্ট দিন কাজ করিয়ে বাকি সময় পরিবারের সাথে থাকতে দেয়া উচিত নিরাপদ দূরত্ব মেইনটেইন করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

আমি ইংল্যান্ড এর নিয়মটা বলি, এখানে তিন দিন কোভিড ইউনিট এ কাজ করে তিনদিন ছুটি আবার তিনদিন নন কোভিড ইউনিট এ কাজ করে আবার তিনদিন ছুটি এবং আবার তিনদিন কোভিড ইউনিট এ।”

ডা. তাবরিজকে প্রশ্ন করা হয় কোভিড এবং নন কোভিড পেশেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর্মী এক করিডোর ব্যবহার করতে পারবেন কি না। তিনি বলেন, “কোভিড পজিটিভ এবং সাসপেক্টেড কোভিড পেশেন্টকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় টেস্ট করাতে যেতে হয় বা সিটি স্ক্যান করতে হয়। আমরা জানি মূলত হাঁচি কাশির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। তাই পেশেন্ট এবং যেই ডাক্তার অথবা বাহক নিয়ে যাবেন রোগীকে তাদের উভয়ই মাস্ক পড়া থাকলেই সংক্রমণ আর হবে না। সবাই সচেতন থেকেই একই করিডোর ব্যবহার করতে পারবেন।

আমি আরো কিছু বলতে চাই, আমাদের তিনটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে ডাক্তার দের।
1. Decrease exposure time
2. Monitoring symptoms
3. Maintaining distance

৭ দিন কাজ করে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের নিয়ম বেশি কার্যকর হচ্ছে না, কারণ তারা হোটেলেও থাকছেন একই সময়ে এবং এতে অনেক ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড এ ছয় ফুট দূরত্ব মানতে হবে। কিন্ত আমাদের রোগীর সংখ্যা বেশি এবং এই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন থাকায় ডাক্তারের সংখ্যা কম। তাই ২-৩ ফুট এর মধ্যে বেডগুলা রাখা হচ্ছে এবং সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের ডাক্তারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সাত দিন কাজ করে সাত দিন ছুটি দিয়ে পরিবারের সাথে নিরাপদ দূরত্ব মেইনটেইন করে থাকতে হবে। আবার সাত দিন পরে কাজ করবে। এতে পিপিই এর স্বল্পতাও কমানো যাবে।”

ডা. তাসবির প্রফেসর জাহিদুল হাসান এবং প্রফেসর মোহাম্মদ আকরামকে প্রশ্ন করেন যে অনেক জায়গায় টাইটার ছাড়া প্লাজমা দেয়া হচ্ছে অথবা পুরো রক্ত দেয়া হচ্ছে। তাদের হাসপাতালের প্রটোকলে কি বলা আছে এই ব্যাপারে। স্কয়ার হাসপাতালের প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের হাসপাতালে টাইটার দেখতে পারি না। তাই আমরা ডাটা ভ্যালুতে পাঁচের নিচে থাকলে প্লাজমা নেই না। আমরা একচুয়াল ক্যালকুলেশান জানি না। তাই অন্যান্য রিকোয়েরমেন্টস পূর্ণ করলে আমরা প্লাজমা নেই।” ময়মনসিংহ মেডিকেলের প্রফেসর আকরাম বলেন, “আমরা এতদিন কিট না পাওয়ায় নেই নি প্লাজমা। এখন সরকারের antibody titre না দেখে আমরা প্লাজমা থেরাপি তে যাবো না।”

ডা. তাসবির বলেন, “আমরা গবেষণায় দেখেছি ৫০০ রোগীর মধ্যে ২৩-২৫% থাকেন সুপার ডোনার। বাকিরা খুব ভালো প্লাজমা ডোনার নন। তাই টাইটার না মেনে প্লাজমা নেয়া হলে কোন কাজে লাগবে না।”

সব শেষে ডা. তাসবির বলেন, “বাংলাদেশের ডাক্তারদের বেতন দিতে হবে সময়মতো, যা অনেক জায়গায় হচ্ছে না। তাদের সেইফটি এনসিউর করতে হবে। এবং আমরা যারা নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশের, তারাও দেশের জন্য কাজ করতে চাই। সুতরাং আমাদের সাথে এক হয়ে কাজ করতে হবে।”

১৮০ মিনিটের এই ওয়েবিনারে প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীপল কুমার অধিকারী উক্ত ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করা সকল প্যানেলিস্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তীতেও এরকম ওয়েবিনার আয়োজন করার মাধ্যমে চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

ওয়েবিনারের সকল আলোচনা থেকে সরাসরি উক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্যানেলিস্টদের বক্তব্যের প্রাসংগিকতা বুঝতে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি দেখার অনুরোধ রইলো।

লিংকঃ https://www.facebook.com/Platform.med.org/videos/551257868904697/

সংকলন ও অনুলিখন:

মেহেনাজ সুলতানা তামান্না
ফির দাউস আলম

Platform

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

কোভিড-১৯ এ মৃত্যুবরণ করলেন আল রাজী হাসপাতালের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ

Wed Jul 1 , 2020
প্ল্যাটফর্ম নিউজ, বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০ করোনা মহামারীতে শহীদ হলেন আরেকজন চিকিৎসক। এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন ডা. রুহুল আমিন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা: রুহুল আমিন, রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটের আল রাজী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি গরিব মানুষের বন্ধু […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট