মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬৯ কার্তিক ১৪৩৩ · ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
নিউজ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ডা. লোটে শেরিং এর বক্তব্যের চুম্বক অংশ

ওয়েব টিমপ্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১:১১ · ৩ মিনিটে পড়ুন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ডা. লোটে শেরিং এর বক্তব্যের চুম্বক অংশ
লেখার আকার

১৯৯৬ সাল,দিন তারিখটা ঠিক সঠিক মনে নেই আমার।আমি তখন ফোর্থ ইয়ারে পড়াশোনা করতেছি।

আমি প্রচন্ড ব্যাথায় কাতর,দুই একবার বমিও করেছি।পরদিন ভোর সকালেই বড় ভাই তানজিং দর্জি (ম-২৪)(একসাথেই থাকতাম ২০ নাম্বার রুমে।বর্তমান তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী,মঞ্চে উপস্থিত) আমাকে নিয়ে যান আউটডোরে।

সেখানকার চিকিৎসক আমার পুরো বক্তব্য না শোনেই আমাকে ওমিপ্রাজল সহ আর কিছু ঔষধ লিখে দেন।আমি চলে আসলাম হলে।

ঔষধ খেয়ে কোনো উন্নতি হলোনা।বিকালে,আবার গেলাম ঐ স্যারের কাছে।তিনি আমার অবস্থা দেখে স্টুডেন্ট কেবিনে ভর্তি হতে বললেন।আমি ভর্তি হয়ে গেলাম।

পরের দিন বেশ কয়েকজন স্যাররা মিলে মেডিকেল বোর্ড বসল।কিন্তু সেটাও ফলপ্রসু হলোনা।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একজন স্যার আসলেন আমার কাছে।উসি এসে আমাকে দেখেই বললেল।আরে ওর তো এপেন্ডিসাইটিস।

এটা খুবই সহজ অপারেশন,আমি নিজেও হাজারখানেক এপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করেছি।বাবা তোমার ভয় নেই।স্যারের এই কথাগুলো এখনও আমার স্পষ্ট মনে পড়ে।

সেদিন রাতেই আমার অপারেশন হলো,কিছুদিন পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি।

সেদিনের ঐ মানুষটি ছিলেন খাদেম স্যার।পরবর্তীতে যিনি হয়ে উঠলেন আমার আদর্শ।আমাদের সম্পর্ক ক্রমে উন্নত হতে থাকল।

আমি এমবিবিএস শেষ করার পর এফসিপিএস করি বাংলাদেশেই।পার্ট টু পরীক্ষার ফলাফল যখন হবে বিকালের দিকে আমরা সবাই বসে আছি নিচ তলায় রেজাল্টের অপেক্ষায়। হঠাৎ স্যার আসলেন,আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন,” You have done it”.

আলহামদুলিল্লাহ।

সেদিনকার পর ২০০২ সালে জুন মাসের দিকে আমি ফিরে যায় আমার নিজ দেশ ভুটানে।সেখানে একটা হাসপাতালে কাজ শুরু করি জেনারেল সার্জন হিসাবে।প্রথমদিনই আমি ছুটে গিয়েছিলাম মন্দিরে দোয়া নিতে।

এরপরদিন,এপেন্ডিসাইটিসের একজন রোগী আসল।আমি আমার জুনিয়র কলিগকে বললাম তুমি এটা করে ফেল,খুবই সহজ কাজ।না পারলে তো আমি আছিই।প্রায় ১০ মিনিট পর ও আমাকে ডাকল।আমাকে যেতেই হবে।

আমি যাওয়ার সময় অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসা একজন সুন্দরী মহিলা এসে আমার সাথে পরিচিত হয়ে বলতেছেন,আমি এই হাসপাতালেরই একজন নতুন ডাক্তার।কদিনক’দিন আগেই কাজ শুরু করেছি।

(মঞ্চের দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে)

ঐদিনের সেই মহিলাটিই হলেন আমার স্ত্রী। যিনি এখন আমার সামনে উপস্থিত। আর ঐ এপেন্ডিসাইটিসের রোগী ছিলেন উনারই চাচা।

সেদিন আমি বুঝলাম এপেন্ডিসাইটিসের গুরুত্ব।

তারপর হেঁসে হেঁসেই বললেন,কে বলছে আমাদের দেহে এপেনডিস্কের কোনো Function নেই। Appendix has a great role in our society.

-ডাঃ লোটে শেরিং

একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। আসলে আপনিই একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য।

ডাক্তার সমাজের জন্য তাঁর উপদেশঃ

Don’t Be Ambious,Do Your Best.Be A Good Human Being.”আগে আপনি একজন ভালে মানুষ হন,আপনি এমনিতেই একজন ভালো ডাক্তার হয়ে যাবেন।”

আর ঐ যে বলে না,আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।

ভালো থাকবেন সবাই।

Naymurmur Rashid

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

ভোলায় অবহেলায় রোগী মৃত্যু অভিযোগে চিকিৎসককে মারধর

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ভোলায় অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসককে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। আজ (১১ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল চিকিৎসককে মারধর করেন। পরবর্তীতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা…

১১ এপ্রিল ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে মার্কিন কোম্পানি

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫ দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে মার্কিন কোম্পানি বাংলা ইউএস এলএলসি। আগামি ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় চারদিনের বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলা ইউএস এলএলসি-এর প্রধান…

১০ এপ্রিল ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

চিকিৎসকের সহায়তায় স্পিডবোটেই সন্তান প্রসব

বুধবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৫ গতকাল মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্পিডবোটে যাত্রা করা এক প্রসূতি স্পিডবোটেই সন্তান প্রসব করেন। কাকতালীয়ভাবে স্পিডবোটে এক চিকিৎসক থাকায় প্রসূতিকে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পেকুয়ার মগনামা ঘাটের…

৯ এপ্রিল ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।