রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

মেডিকেলিও যন্ত্রপাতিঃ থার্মোমিটার

ছোটবেলায় যখন জ্বর আসতো, সেই অসুস্থ সময়ে একটা আনন্দের উপলক্ষ্য ছিল বাবা যখন জিভের নিচে থার্মোমিটারটা রাখতেন। বাবার হাত থেকে নিয়ে যন্ত্রটা উঁচু করে ধরে খুব জ্ঞানীর মতো দেখতাম আর মনে মনে ভাবতাম বাবা আসলে ওর মধ্যে দেখেটা কি? কলেজে ওঠার আগ পর্যন্ত থার্মোমিটারের পারদটা কেবল খুঁজেই গেছি, চোখে পড়েনি (একটু গাধা টাইপের ছিলাম কিনা 🙂 )। সে যাক, আসল কথায় আসি। আমরা এখন যে ধরণের পারদ থার্মোমিটার ব্যবহার করি, সেটা প্রথম তৈরি করেছিলেন স্যার থমাস ক্লিফোর্ড আলবাট ১৮৬৬ সালের দিকে।

মানবদেহের তাপমাত্রা পরিমাপের ইতিহাসটা কিন্তু নতুন নয়। সেই প্রাচীন মিশরীয়, ভারতীয় বা গ্রিক সভ্যতায় যখন বিশ্বাস করা হতো যাবতীয় রোগের কারণ হলো কালো পিত্ত, হলুদ পিত্ত, রক্ত আর কফ তখন থেকেই এসবের পরিবর্তনের সাথে তাপমাত্রার সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়। তবে আধুনিক থার্মোমিটারের পূর্বপুরুষ হলো বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী গ্যালিলিও আবিষ্কৃত ‘ওয়াটার থার্মোস্কোপ’ (১৫৯২), যাতে একটি গ্লাস জারে পানির ভেতর কিছু রঙিন লিকুইড ক্রিস্টালের বল রাখা ছিল। তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে পানির আয়তন ও ঘনত্ব পরিবর্তন হতো আর তার সাপেক্ষে বলগুলো কখনো ডুবে যেত, কখনো ভেসে থাকত। বলের অবস্থান দেখে তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়েছে কিনা সেটা বলে দেয়া যেত; কিন্তু কতখানি পরিবর্তন হয়েছে সেটা বোঝা যেত না, কেননা গ্যালিলিও তাঁর থার্মোস্কোপে কোনো স্কেল ব্যবহার করেননি। এ সমস্যার সমাধান করেছিলেন আরেকজন ইতালীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানী সান্তোরিও সান্তোরি (১৬১২) থার্মোস্কোপের সাথে কার্যকরী স্কেল ব্যবহার করে।

থার্মোমিটারে পানি ব্যবহারের একটা অসুবিধা ছিল তাপে পানির সংকোচন প্রসারণ খুব ধীরে হয়। তাই পানির একটা উত্তম বিকল্প দরকার হয়ে পড়েছিল। ১৬৫৪ সালের দিকে ফার্দিনান্দ দ্য মেডিকি আবদ্ধ থার্মোমিটারে পানির পরিবর্তে এলকোহল ব্যবহার শুরু করেন। আর প্রথম পারদ থার্মোমিটার তৈরি করেন ডাচ পদার্থবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট ১৭১৪ সালে, যিনি আবার ফারেনহাইট স্কেল (১৭২৪) এরও জনক। আরেকটি স্কেল হলো সেলসিয়াস স্কেল, যার জনক সুইডিশ জ্যোতির্বিদ আন্দ্রে সেলসিয়াস (১৭৪২); যদিও এর প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায় ১৬৬৫ সালে ডাচ গণিতবিদ ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস এর গবেষণায়। তবে মজার বিষয় হলো সেলসিয়াসের তৈরী স্কেলটি ছিল বর্তমান সেলসিয়াস স্কেলের উল্টো। তিনি পানির স্ফুটনাঙ্ক কে 0 এবং বরফের গলনাঙ্ক কে 100 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হিসেবে ধরেন। 😮 পরবর্তীতে ১৭৪৪ সালে সুইডিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস একে বর্তমান রূপ দেন। অবশ্য সমসাময়িক কালে (১৭৪৩) আরো একজন একই ধরণের থার্মোমিটার তৈরি করেন; তিনি পদার্থবিজ্ঞানী জিন পিয়েরে ক্রিস্টিন।

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে মেডিকেল থার্মোমিটারের ব্যবহার খুবই সীমিত ছিল। ডাচ চিকিৎসক এন্টন দ্য হেন (১৭০৪-১৭৭৬) বলেছিলেন, রোগীর শরীরের তাপমাত্রার পার্থক্য তার রোগ সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারে। কিন্তু তাঁর চিকিৎসক বন্ধুরা তাঁর কথায় তেমন একটা পাত্তা দেননি। আর দেবেনই বা কেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্তও থার্মোমিটারগুলো ছিল প্রায় ১ ফুট লম্বা এবং সঠিক তাপমাত্রা দিতে সেগুলো প্রায় ২০ মিনিট সময় নিত। এত সময় ধরে তাপমাত্রা মাপলে তাঁরা রোগীর চিকিৎসা দেবেন কখন? এ সমস্যার সমাধান মিলল যখন স্যার থমাস ক্লিফোর্ড আলবাট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি মেডিকেল থার্মোমিটার তৈরি করেন, যার তাপমাত্রা মাপতে সময় লাগতো মাত্র ৫ মিনিট।

আজ আমরা জানি সুস্থ মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 36.3 থেকে 37.5 °C (97.34 থেকে 99.5 °F) এর মধ্যে থাকে। সিদ্ধান্তটা দিয়েছিলেন জার্মান চিকিৎসক প্রফেসর কার্ল রিনোল্ড অগাস্ট ওন্ডারলিক তাঁর বিখ্যাত গবেষণাপত্রে (১৮৬৮) যেখানে তিনি প্রায় পঁচিশ হাজার রোগীর ১ মিলিয়নেরও বেশি তাপমাত্রার রিডিং এর তথ্য সন্নিবেশিত করেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, চিকিৎসক হিসেবে তিনি নিশ্চয় খুব জনপ্রিয় ছিলেন। 🙂

জার্মান-আমেরিকান চিকিৎসক Theodor H. Benzinger ১৯৬৪ সালে প্রথম টিমপ্যানিক থার্মোমিটার তৈরি করেন এবং এতে ইনফ্রা রেড প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয় ১৯৮৪ সালে ডেভিড ফিলিপস এর হাত ধরে। তবে মজার বিষয় হলো সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষ কপালে হাত দিয়ে তাপমাত্রা দেখলেও কপালের তাপমাত্রা মাপার জন্য প্রথম থার্মোমিটার তৈরি হয় ১৯৯০ এর দশকে, যাতে একটি প্লাস্টিক স্ট্রিপে লিকুইড ক্রিস্টাল বসানো ছিল, যা তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে রং পরিবর্তন করতো। পরবর্তীতে অবশ্য এতে ইনফ্রা রেড প্রযুক্তি যুক্ত হয়।

পরবর্তী বছরগুলোতে দেহের তাপমাত্রা পরিমাপের পদ্ধতির আরো উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এই যেমন ২০১৬ সালে বাজারে আসা ‘Thermo’ ১৬ টি ইনফ্রা রেড সেন্সরের সাহায্যে Temporal artery এর তাপমাত্রা সর্বোচ্চ নিখুঁতভাবে মাপতে পারে এবং বয়স অনুসারে color-coded fever feedback দিতে পারে, যা একজন রোগী কিংবা চিকিৎসক খুব সহজেই তাঁর স্মার্টফোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। দেহের উষ্ণতা মাপার এ প্রযুক্তি দিন দিন আরো উন্নত হবে, এমনটা আশা করাই যায়। 🙂

………
আব্দুর রাফি,
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এবং পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় প্রচলিত চিকিৎসা নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে প্রচলিত, পরিপূরক ও সমন্বিত চিকিৎসা (Traditional, Complementary and Integrative Medicine – TCIM) ব্যবহার করেন। অথচ এসব চিকিৎসা পদ্ধতি কোথায় নিরাপদ, কার্যকর এবং উপযুক্ত, তা বোঝার জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণা তহবিলের ১ শতাংশেরও কম ব্যয় করা হয়। এমন সময়ে,

বিস্তারিত পড়ুন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টারনাল মেডিসিন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ “Inspiring the Future of Internal Medicine” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্টারনাল মেডিসিন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে Dhaka Medical College Internal Medicine Interest Group

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।