রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

মেডিকেলিও যন্ত্রপাতিঃ পর্ব ১- স্ফিগমোম্যানোমিটার

আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম ওয়েবের নিয়মতি সিরিজ , মেডিকেলিও যন্ত্রপাতি । রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫৫তম ব্যাচের ছাত্র আব্দুর রাফি লিখেছেন ডাক্তারদের অতি প্রয়োজনীয় কিছু ইন্সট্রুমেন্ট এর ইতিহাস বৃত্তান্ত । আজকের পর্বে থাকছে আমাদের অতি পরিচিত “প্রেসার মাপার যন্ত্র” যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় ‘স্ফিগমোম্যানোমিটার’, তার ইতিহাস ।

রক্তচাপ পরিমাপের ইতিহাসটার সূচনা হয় ১৭৩৩ সালে যখন স্টিফেন হেলস ধারণা দেন হৃদপিন্ড দ্বারা সৃষ্ট চাপ রক্ত প্রবাহের পরিমাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তিনি একটা ঘোড়ার ধমনীতে টিউব প্রবেশ করান, যার অন্য প্রান্ত একটা কাচনলের সাথে যুক্ত ছিল। দেখা যায় কাচনলের ভেতর রক্তপ্রবাহ প্রায় ৯ ফুট পর্যন্ত উঠে যায়। অবশ্য পরিমাপকৃত রক্তচাপ ঘোড়াটির কোনো কাজে লাগার আগেই সে ইহলোক ত্যাগ করেছিল। :’-(

পরবর্তীতে ১৮২৮ সালে জিন লিওনার্দো ম্যারি পয়সুলি একটি ম্যানোমিটার তৈরি করেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘হিমোডায়নামোমিটার’। এতে একটি U আকৃতির টিউবের ভেতর পারদ ছিল এবং টিউবের মাথায় একটি ক্যানুলা লাগানো ছিল, যার ভেতর ছিল ‘retractable core’। ক্যানুলাটি যখন ধমনীতে প্রবেশ করানো হতো তখন রক্তপ্রবাহ এর কোরের উপর চাপ প্রয়োগ করতো এবং সেই চাপের প্রভাবে টিউবের ভেতরের পারদ উঠানামা করতো। পারদের উচ্চতার পার্থক্য থেকে রক্তচাপ পরিমাপ করা হতো। ১৮৪৭ সালে কার্ল লুডভিগ এ পদ্ধতির আরো আধুনিকায়ন করেন ম্যানোমিটারের পারদস্তম্ভের সাথে সঞ্চারণক্ষম কলম ও ঘূর্ণায়মান ড্রাম সংযুক্ত করে (অনেকটা বর্তমানে ব্যবহৃত স্পাইরোগ্রামের মতো)। ফলে রক্তচাপের graphical presentation সম্ভব হয় এবং এ যন্ত্রের নাম দেয়া হয় কাইমোগ্রাফ।
sphig

কিন্তু এ পদ্ধতিগুলোর সমস্যা হলো এতে ‘invasive measure’ দরকার পড়ে। “ধমনীতে রক্ত যে চাপে প্রবাহিত হয়, রক্তপ্রবাহ থামাতে তার সমান বিপরীত চাপ (counter pressure to stop circulation) প্রয়োগ করতে হয়”- এ ধারণার ভিত্তিতে ১৮৫৫ সালে প্রথম ‘non invasive’ পদ্ধতিতে রক্তচাপ মাপার চেষ্টা করা হয়। ১৮৬০ সালে এটিন জুলস ম্যারি সর্বপ্রথম আবদ্ধ গ্লাস চেম্বারে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় বিপরীত চাপ পরিমাপ করেন। ১৮৮১ সালে স্যামুয়েল সিগফ্রিড কার্ল রিটার ভন বাস্ক এ পদ্ধতিকে আরো উন্নত করেন। তিনি একটি রাবার ব্যাগ distal pulse এর উপর স্থাপন করেন এবং সেটিকে ততক্ষণ পর্যন্ত পানিপূর্ণ করেন, যতক্ষণ না সেই পালস বিলুপ্ত হয় অর্থাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে পিয়েরে পোটেন কম্প্রেসন ব্যাগে পানির পরিবর্তে বাতাস ব্যবহার শুরু করেন। ১৮৯৬ সালে সিপিয়ন রিভা রকি বাহুর চারপাশে কাফ বাধা শুরু করেন এবং বর্তমানে প্রচলিত রেডিয়াল পালস এর সাপেক্ষে রক্তচাপ পরিমাপের পদ্ধতি চালু করেন। কিন্তু এসব পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা হলো এতে কেবল systolic pressure ই মাপা সম্ভব ছিল।

1
প্রথম diastolic pressure মাপা সম্ভব হয় ১৯০৫ সালে যখন রাশিয়ান বিজ্ঞানী নিকোলাই কোরটকফ ‘korotkoff sound’ সনাক্ত করতে সক্ষম হন। যখন কাফ প্রেশার ও সিস্টোলিক প্রেশার সমান হয়, তখন বন্ধ ধমনীতে পুনরায় রক্ত চলাচল শুরু হয় এবং ‘korotkoff sound’ এর সূচনা হয়। ধমনীতে কাফের দুপাশে চাপের পার্থক্য এবং প্রতি হৃদস্পন্দনের সাথে সেই পার্থক্যের পরিবর্তন রক্তের ‘turbulent flow’ সৃষ্টি করে, যার ফলে ‘korotkoff sound’ এর সৃষ্টি হয়। যখন কাফ প্রেশার আর ডায়াস্টোলিক প্রেশার সমান হয় তখন ধমনীতে কাফের দুপাশে চাপের পার্থক্য থাকে না এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়। ফলে কোনো শব্দ শোনা যায় না। এভাবে systolic ও diastolic উভয় রক্তচাপই মাপা সম্ভব হয়।

এটিই মূলত আধুনিক sphygmomanometer এর বেসিক কনসেপ্ট। পরবর্তীতে রক্তচাপ পরিমাপ পদ্ধতির আরো উন্নতি হয়েছে, আধুনিক ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এবং আশা করা যায়, উন্নতির এ ধারা অব্যাহত থাকবে, আরো সহজীকরণ হবে জীবনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এ পদ্ধতির।

পরবর্তী টুল Reflex hammer

লিখেছেনঃ
ABDUR RAFI
56MBBS,RMC
SESSION 2014-15

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এবং পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় প্রচলিত চিকিৎসা নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে প্রচলিত, পরিপূরক ও সমন্বিত চিকিৎসা (Traditional, Complementary and Integrative Medicine – TCIM) ব্যবহার করেন। অথচ এসব চিকিৎসা পদ্ধতি কোথায় নিরাপদ, কার্যকর এবং উপযুক্ত, তা বোঝার জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণা তহবিলের ১ শতাংশেরও কম ব্যয় করা হয়। এমন সময়ে,

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।