মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১৩ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
সাহিত্য পাতা

শিউলীফুল – ডা.আল্ – আফরোজা সুলতানা

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০৫ · ৩ মিনিটে পড়ুন
শিউলীফুল – ডা.আল্ – আফরোজা সুলতানা
লেখার আকার

প্ল্যাটফর্ম সাহিত্য সপ্তাহ -১৯

” শিউলীফুল ”

লেখকঃ ডা.আল্ – আফরোজা সুলতানা
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ  (সিওমেক)
২০১১-১২

চশমার কাচ টা আলতো করে ঘসে নিয়ে আবার চোখে পড়লেন জব্বার সাহেব।
চারপাশ টা কি আসলেই ঘোলাটে?
নাকি চশমার কাচ ঘোলা তা ঠাহর করতে পারছেন না।
চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে বুঝলেন ঘোলাটে জিনিস গুলো আসলে কুয়াশা।
শীত তাহলে চলেই এল!
চাদর টা আরেকটু ভাল করে জাপটে নিলেন গায়ে।

কোথা থেকে যেন হাসনা হেনা র তীব্র গন্ধ এসে নাকে লাগল। এক মুহূর্ত যেন সুগন্ধ টা উনার চারপাশে এসে থমকে রইল।
উনি প্রায় ই বারান্দায় এসে বসলে সুগন্ধ টা পান। কিন্তু গাছটা কোথায় আজো ও বের করতে পারলেন না।
গাছটা খুব সম্ভবত লাগিয়েছিল শিউলি নাকি হাস্নাহেনা?।
ছিঃ ছিঃ! নিজের বউ এর নাম ই উনি মনে করতে পারছেন না!!
বয়সের ভারে ইদানীং আর কিছু ই মনে থাকছে না। কিছুক্ষন ভাবার পর মনে হল নাহ শিউলী ই হবে ওর নাম। শিউলী ফুলের মত ই কি কোমল ছিল মেয়েটা।
সাদামাটা চেহারা, বিশেষ কিছু না কিন্ত যখন বড় বড় চোখ মেলে ঘোমটার ফাকে দিয়ে তাকাত তখন উনার মনেহত ডুবে যাচ্ছেন কোন এক অতল জলের গভীরে।
অনন্তকাল ধরে এভাবেই ডুবতে চান।
অদ্ভুত অদ্ভুত শখ ছিল মেয়েটার। তারমধ্যে একটা ছিল হরেক রকম ফুলের গাছ লাগানো।
ঘুরতে ভালবাসত। কথা ছিল তাকে নিয়ে দেশ বিদেশ ঘুরবেন জব্বার সাহেব।
কিন্তু হুট করে একদিন কাউকে কিছু না বলে অজানা দেশে পাড়ি জমাল মেয়েটা।
খুব বেশি কি অভিমান ছিল তার?
হয়ত বা। জব্বার সাহেব তাকে সময় দিতে পারতেন না।
মেয়েটা সারাদিন বাসায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করত। কিভাবে তার দিন কাটত শুধু সেই জানে!
প্রথম প্রথম চঞ্চল কিশোরী দের মত ছিল সে।
তার যে বিয়ে হয়েছে, সংসার করতে হবে সেটা বোঝার মত মন তখন ও তইরি হয়নি।
সারাদিন শুধু ছুটাছুটি আর খিলখিল করে হাসত।
জব্বার সাহেব মুগ্ধ হয়ে দেখতেন সেই সব ছেলে মানুষী।
আর ভাবতেন এই বাচ্চা বউ কবে বড় হবে!
বাড়ির মুরুব্বিরা শিউলীর দস্যিপনা নিয়ে কথা শুনাতে শুরু করলে উনি শিউলী কে নিজের কাছে নিয়ে এলেন।
ভাল ই দিন যাচ্ছিল তাদের।
কিন্তু আস্তে আস্তে শিউলীর দস্যিপনা কমে গেল।
চারদেয়ালের মাঝে বন্দী শিউলী বোধহয়
খাচায় আটকে থাকা পাখির মত ছটফট করত।
তারপর একদিন অভিমানে খাচা ছেড়ে পালাল।
জব্বার সাহেব তাকে বলতেও পারলেন না কত ভাল বাসেন, আটকাতেও পারলেন না। তার আগেই……
এসব ভাবতে ভাবতেই আবার তীব্র গন্ধটা নাকে এসে লাগল।
কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার।
গন্ধ টা আসলে এখন মনেহচ্ছে
হাসনাহেনা র না, শিউলী ফুলের।

জব্বার সাহেবের চোখ ছলছল করে উঠল
আবার চশমারকাচ ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে…
তিনি ধরা গলায় ডেকে উঠলেন
“শিউলী, ও শিউলী…
আমার চশমাটা মুছে দাও তো! ?

 

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

মেঘেরা অন্তরীণ || পর্ব-০৫

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ০৪ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার ডা. শুভদীপ চন্দ একজন প্রতিপক্ষ থাকা ভালো, নইলে মানুষের মন এমন যে 'প্রতিপক্ষ' বানিয়ে নেয়। মন থেকে কখনো ভিলেন তৈরি হয় না, সবসময় সুপার ভিলেন তৈরি হয়। মেয়েরা বিয়ের পর সতীন না পেলে স্বামীর…

৪ জানুয়ারি ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

মেঘেরা অন্তরীণ || পর্ব-০৪

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২২ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার ডা. শুভদীপ চন্দ ইটের টুকরো হোক বা বালু কণা- পানিতে পড়লে একই রকম ডোবে। প্রেমে পড়লে জ্ঞানী আর মূর্খ একই তফাৎ। পতন একই রকম। আমার এক বন্ধু ছিল ক্যাম্পাসে। এখন জার্মানির ডাক্তার। রোজ চার-…

২২ ডিসেম্বর ২০২০বিস্তারিত পড়ুন

মেঘেরা অন্তরীণ || পর্ব-০৩

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার ডা. শুভদীপ চন্দ 'ঈশ কী পাষণ্ডের মত মেরেছে!' সেলাই দিতে দিতে পাশ থেকে বললো। যার হাতে সেলাই দেয়া হচ্ছে সে একজন নার্স। চোখ মুখ নির্বিকার। সুঁই ফোটানোর ব্যথা পাচ্ছে কী পাচ্ছে না বোঝা যাচ্ছে…

২০ ডিসেম্বর ২০২০বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।