১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (IASP) এই দিবসের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। ২০২৪-২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Changing the Narrative on Suicide”, (বাংলা: আত্নহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলাই) যার লক্ষ্য আত্মহত্যাকে ঘিরে নীরবতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করে সহমর্মিতা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ আত্মহত্যার কারণে প্রাণ হারান। বিষণ্নতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, শিক্ষাগত ও আর্থিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশেষ করে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী এবং সংকটাপন্ন মানুষদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি বেশি। WHO-এর তথ্যে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিছু কিশোর-কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা করার কথা বিবেচনা করে, যা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের জন্য সতর্কবার্তা।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ভূমিকা নয়, বরং পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কেউ যদি দীর্ঘদিন হতাশায় ভোগেন, নিজেকে গুটিয়ে নেন, “বেঁচে থাকতে চাই না” ধরনের কথা বলেন বা আচরণে হঠাৎ বড় পরিবর্তন দেখা যায়, তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নিতে উৎসাহিত করতে হবে।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে WHO-এর সহযোগিতায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং আত্মহত্যা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব সেবা আরও সহজলভ্য করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি সহানুভূতিশীল কথোপকথন, সময়মতো সাহায্য এবং সামাজিক সমর্থন একটি জীবন বাঁচাতে পারে। আসুন, আমরা বিচার নয়, সহমর্মিতা বেছে নিই; নীরবতা নয়, সচেতনতার আলো ছড়াই। কারণ, প্রতিটি জীবন মূল্যবান, এবং প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।
যদি কেউ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ক্ষতি করার ঝুঁকিতে থাকেন, তাকে একা না রেখে পরিবারের সদস্য, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দ্রুত নিয়ে যান।
প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
