রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

আল্ট্রাসনোগ্রাফির ডাক্তার ও রোগীদের উদ্দেশ্যে

১৩ এপ্রিল, ২০২০:

ডা. শাহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি

করোনা যেহেতু এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে এবং শতকরা ৮০ ভাগ রোগীই উপসর্গ প্রকাশ করে না, সেহেতু -কোন রোগী, এই ভাইরাসের বাহক, কেউই তা হলফ করে বলতে পারবেন না। সুতরাং একদম ইমার্জেন্সি ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হবে- ডাক্তার, ডাক্তারের সহকারী, রোগী, এমনকি ঐ হাসপাতালের সমস্ত লোকের জন্য- জেনে-শুনে ও বুঝে আত্নহত্যা করার সামিল।

কেনো?
তা একটু ব্যাখ্যার দাবি রাখে- রোগী, ডাক্তার, রোগীর এটেন্টডেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য।

১) আল্ট্রাসনোগ্রাফির ক্ষেত্রে, রোগী ও ডাক্তারকে অত্যন্ত কাছাকাছি থাকতে হয়, কারণ রোগীর পেটে প্রোবটি বসাতে হয়। এতে করোনা মোকাবিলায় যে শারীরিক দুরত্ব প্রয়োজন, তা কোনোভাবেই রাখা সম্ভব হয় না।

২) কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর মাস্ক থাকলেও, বেশিরভাগ রোগীরই মাস্ক থাকে না।

৩) রোগীর হাত অরক্ষিত থাকে, সাথে শরীরও।

৪) যে প্রোবটি দিয়ে আল্ট্রা করা হয়, সেটা পরবর্তী রোগীর জন্য অনিরাপদ হতে পারে।

৫) রোগীকে যে সহকারী রেডি করেন তিনিও পরবর্তী রোগীর জন্য অনিরাপদ হয়ে যান।

৬) রোগী যে বেডে শোয়, সেই বেডও, পরবর্তী রোগীর জন্য অনিরাপদ হয়ে যায়।

৭) রোগী উঠা-নামায়, আসা যাওয়ায়, যতজনের এবং যতকিছুর সংস্পর্শে আসে সবই তখন অনিরাপদ হয়ে যায়।

৮) এরপরেও রোগীর হাঁচি, কাশি, জ্বর বা করোনার যে কোনো উপসর্গ থাকলেতো আর কোনো কথাই নাই, তখন সবই অনিরাপদ।

৯) কিছু কিছু ক্ষেত্রে, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য তথ্য গোপন করবে। ভেবে দেখুন, তথ্য গোপনের জন্যই নারায়নগঞ্জে, আজকে এই ভয়াবহ অবস্থা, যা সারাদেশেই বর্তমানে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কি ভয়ংকর ভেবে দেখেছেন?

এখন করনীয়ঃ

১) উপদেশকারী ডাক্তারের ক্ষেত্রেঃ
কোনো ইমার্জেন্সি প্রয়োজন ছাড়া রোগীকে আল্ট্রাসনোগ্রাফির উপদেশ লিখবেন না (প্লিজ)।

২) রোগীর ক্ষেত্রেঃ একদম ইমার্জেন্সি ছাড়া এবং নিজের ইচ্ছায় কখনো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে যাবেন না।

৩) হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রেঃ

  • রোগীসহ সকলকে যতটুকু সম্ভব, জীবানুনাশক দিয়ে হাত, পা ধোয়ার ব্যবস্থা, সম্ভব হলে শরীরে স্প্রে করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • কোনো রোগী/লোককেই মুখের মাস্ক ছাড়া প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
  • অবশ্যই, অবশ্যই এবং অবশ্যই প্রতিবার, আল্টাসনোগ্রাফির বেড, রোগীকে
    শোয়ানোর আগে ও পরে জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে দিতে হবে/নির্দিষ্ট ব্যাক্তিকে নির্দেশ দিতে হবে।

৪) ডাক্তার এবং সহকারীকে অবশ্যই ওয়ান টাইম ব্যবহারযোগ্য গ্লোবস ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতি রোগীর পরে সেটা ফেলে দেয়াই শ্রেয় (যেহেতু দাম বেশি না)

৫) প্রোব প্রতি রোগীর পরে নিরাপদ ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।

এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকলে রোগী এবং ডাক্তার উভয়ই ভয়ংকর বিপদে পরে যেতে পারেন। এবং উভয় পক্ষকেই প্রতিষ্ঠানের অপারগতায় কিংবা অব্যবস্থাপনায়, আল্ট্রাসনোগ্রাফি না করাই উত্তম।

বিশ্লেষণঃ
করোনা ভাইরাস, কোনো উপসর্গ ছাড়াই শতকরা ৮০ ভাগ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে ১৪ কিংবা তার বেশিদিনও আপনার শরীরে বাসা বেধে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি সম্পুর্ন সুস্থ থাকবেন। সুতরাং আপনি হাসপাতালে করোনা উপসর্গ ছাড়া, সুস্থ শরীরে আসার অর্থ এই নয় যে, আপনি করোনা ভাইরাস মুক্ত।
এমতাবস্থায় আপনি অরক্ষিত আল্ট্রাসনোগ্রাফির বেডে শুয়ে, আপনি (রোগী) সুস্থ হলেও পূর্ববর্তী রোগী থেকে ভাইরাস নিয়ে যেতে পারেন কিংবা আপনি ভাইরাস বহনকারী হলে, পরবর্তী রোগীর জন্য সেই ভাইরাসটি রেখে যেতে পারেন। একই রকম ঘটনা, ঘটতে পারে ডাক্তার ও তাঁর সহকারীর ক্ষেত্রে। এমতাবস্থায়, আপনি ডাক্তারের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ভয়ংকর বিপদে ফেলে দিতে পারেন। যেহেতু ডাক্তারের/সহকারীর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই শারীরিক দুরত্ব রাখা সম্ভব নয়।
সেহেতু শুরুতেই বড় ধাক্কাটা উনারাই খাবেন। এবং উনারা হয়ে যাবেন সুপারস্প্রেডার।

উপসংহারঃ
হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উপোরোক্ত অব্যবস্থাপনায় আপনি অপারগতা প্রকাশ করলে আপনার চাকুরীটা (স্থায়ী/অস্থায়ী) চলেও যেতে পারে।

শেষ কথাঃ
ইমার্জেন্সি না হলে আল্ট্রাসনোগ্রাফি না করাই ভালো। ডাক্তার এবং রোগী উভয়ের জন্যই।

রেজাল্টঃ
আক্রান্ত হলে লকডাউন।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।