মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬৯ কার্তিক ১৪৩৩ · ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
বিশেষ কলাম

“অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. শামছুজ্জামান স্যারকে যেমন দেখেছি”

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২১, ৪:৪৩ · ৩ মিনিটে পড়ুন
“অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. শামছুজ্জামান স্যারকে যেমন দেখেছি”
ছবিঃ অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামছুজ্জামান
লেখার আকার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৪ এপ্রিল, শনিবার, ২০২১

লেখাঃ আরাফাত তান্নুম

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর শুরুর দিক। করোনা কন্ট্রোল রুমে প্ল্যাটফর্মের হয়ে ভলান্টারি ওয়ার্ক করছি। প্রচুর মানুষের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, রেজাল্ট কিভাবে দ্রুত পৌঁছানো যায়, কী করে ডেটাগুলো সংরক্ষণ ও প্রেরণ করা যায়, সে কাজ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেফারেল সেন্টারে গিয়ে বুঝিয়ে দেবার দায়িত্ব পড়ল আমার উপর। সেখানেই স্যারের রুমে স্যারের সঙ্গে প্রথম দেখা। একজন গুণী এবং সজ্জ্বন, সদাহাস্যজ্বল পরিচালক ছিলেন তিনি। প্রথম দিনেই অনেক মজা করে কথা বললেন যেটা কিনা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিরল অনেকটাই।এরপর এম. আই. এস. এর হয়ে কাজ করতে যাওয়া বা প্ল্যাটফর্ম স্যাম্পল কালেকশনের জন্য যতরকম সাহায্য পাওয়া সম্ভব ছিল আমাদের, সবটাই তিনি করেছেন একদম একবারও বিরক্ত না হয়ে। নিজের অসুস্থতা বা অন্য যে কোন প্রয়োজনে স্যার সবসময় তার অদৃশ্য হাত দিয়ে ছিলেন আমার এবং আমাদের মাথার ওপরে।

ছবিঃ অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামছুজ্জামান

শুধু ডাক্তার ই নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্টাফ, টেকনোলজিস্ট সকলের পাশে সবসময় তিনি ছিলেন। তার কাছে যখনি কোনো আবদার নিয়ে যাওয়া হত, ‘না’ শব্দটি যেন তার অভিধানে ছিলই না। কেউ স্যারকে এসে কোন হেল্প চেয়েছেন, স্যারকে আল্লাহ তায়ালা সবার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার মত বড় করে দুনিয়াতে রেখেছিলেন এবং আমার দেখামতে উনি পুরোটাই ভাল কাজে ব্যবহার করেছিলেন!

ছবিঃ নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানে আজ করোনায় শহীদ হয়ে ঢুকলেন অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামছুজ্জামান

ব্যক্তিগতভাবে একজন পিতার মত তাকে আমি পেয়েছি। কোভিড টেস্ট করতে গেলেও উনি নিজ হাতে আমার স্যাম্পল নিতেন। যেকোনো সমস্যায় মনে হত, সমস্যা নেই, আমার স্যার তো আছেন ই! গলার কিছু অসুখে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল স্যারের, একদিন এমন কথা বলতে কষ্ট হওয়া সদা আসর জমিয়ে রাখা টাইপ স্যারের কন্ঠস্বর শুনে তৎক্ষনাৎ আমার চোখে পানি এসে গেল। বললাম, স্যার আপনি চলে গেলে, এই প্রতিষ্ঠান টা এতিম হয়ে যাবে একদম!কোভিডের সময়ে সবচেয়ে বেশি সার্ভিস দেয়া এ প্রতিষ্ঠান কে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ দিয়েছিলেন এবং সেই কৃতিত্বের দাবিদার স্যার, আমার দেখা একজন সত্যকারের হিরো। সততার দিক থেকেও তিনি একদম উপরের দিকের কেউ হবেন। রিটায়ার্মেন্টে যাবার দিনও উনি আমাদের কাজ নিয়ে অনেক কথা বলছিলেন। বলছিলেন, ‘আবার আমাদের দেখা হবে, ছবি তোলা হবে।’ নিশ্চয়ই অন্য কোন ভুবনে তা হবে! নিশ্চয়ই হবে!

পরিবার, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এই অমায়িক গুণী চিকিৎসক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, লেখক, কবি, সাহিত্যানুরাগী, আমার পিতৃসম মানুষটি তার জীবন উৎসর্গ করে চলে গেলেন। আল্লাহ তায়ালার কাছে তিনি নিজের জন্য যে সময়টুকু শেষ সময়ে চেয়েছিলেন তা যেন তিনি জান্নাতে বহুগুণে পেয়ে যান এই কামনা করি।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

‘মুসাফিরখানা’- এক ব্যতিক্রমী মহৎ উদ্যোগ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ০১ জুলাই, ২০২২, শুক্রবার 'মুসাফিরখানা' এমন একটি দাতব্য সংস্থা যেখানে ঢাকার বাইরে থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আগত মানুষজন বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই মহৎ উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমরা কথা বলেছি এর তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মাওলানা আহমাদ…

১ জুলাই ২০২২বিস্তারিত পড়ুন

রাতে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় পাঁচ বখাটের কারাদণ্ড

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১৩ জুন, ২০২২, সোমবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় ৫ তরুণকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন গত ১১ জুন, ২০২২, শনিবার রাতে…

বিএসএমএমইউতে অ্যাডভান্স ক্লিনিক্যাল ফেলোশিপ ট্রেনিং প্রোগ্রাম

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৬ এপ্রিল ২০২২, মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি ‘অ্যাডভান্স ক্লিনিক্যাল ফেলোশিপ ট্রেনিং প্রোগ্রামে’ আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উপ-রেজিস্ট্রার ডা. জিএম সাদিক হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে…

২৬ এপ্রিল ২০২২বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।