স্বাধীনতা পদকে ভূষিত ডা. নূরুন্নাহার ফাতেমা বেগম অথবা একজন পথ প্রদর্শক শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

নিউজটি শেয়ার করুন

চিকিৎসা বিদ্যায় স্বাধীনতা পদক ২০১৯ এ ভুষিত হয়েছেন, বরেন্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নূরুন্নাহার ফাতেমা বেগম। প্ল্যাটফর্ম সামাজিক পেশাগত ফোরামে তারই সহকর্মী ডা. মোফাজ্জল হোসাইন এর একটি লেখা তুলে ধরা হল।

আমাদের দেশ ও জাতির গর্ব এক পথিকৃত অদম্য পরিশ্রমী নিভৃত শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্রফেসর ডাঃ নূরূন নাহার ফাতেমা বেগম ম্যাডাম। পরিশ্রম এর ক্লান্তি তাকে দেয়নি অবসর।

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। একা একা নীরবে শুরু করেছিলেন। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভরসা করে পথ চলা শুরু করেছিলেন। মহান দয়ালু আল্লাহ তায়ালা তাকে সাহস যুগিয়েছেন, পথের ক্লান্তি অতিক্রম করতে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করেছেন। তাইতো তিনি আমাদের সেনাবাহিনীর চিকিৎসা কোরের শুধু নয় তিনি আমাদের দেশের গর্ব ও অমূল্য সম্পদ।

চিকিৎসা বিদ্যায় অনবদ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ আমাদের সবার প্রিয় আইকন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ নূরূন নাহার ফাতেমা বেগম ম্যাডাম কে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাসে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই ম্যাডাম কে ও ম্যাডামের পরিবারের সকল সদস্যদের।

এই পুরস্কার স্বীকৃতি সেই সকল ত্যাগ তিতীক্ষা ও সংগ্রাম এর যেদিন থেকে ম্যাডাম একাই একটি ডিপার্টমেন্ট অফ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি। যখন গুরুতর অসুস্থ জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত বাচ্চাদের মৃত্যুই ছিল নিয়তি। এই ছোট্ট ছোট্ট অসুস্থ বাচ্চাদের যেকোনো ইন্টারভেনশনের জন্য যে এ্যনাশথেশিয়া দেয়া প্রয়োজন সেই প্রয়োজনীয় এ্যনাশথেশিয়া কেউ দিতে চাইতোনা। ম্যাডাম নিজেই তখন রোগীর বাবা মা কে বুঝিয়ে নিজেই এ্যনাশথেশিয়ার ঝুঁকি নিয়ে একাই ছিলেন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির ইন্টারভেনশনলজিষ্ট।

শুধু তাই নয় পোষ্ট ইন্টারভেনশনের রোগীর নিবিড় পরিচর্যা দেখাশোনা সহ অভিভাবক কে বাচ্চার অবস্থা সন্মোন্ধে অবহিত করা। দীর্ঘ পঁচিশ বছর আগে যাত্রা যখন শুরু করেন তখন আমরা অনেকেই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র মাত্র।
আমরা ম্যাডাম এর ছাত্র হিসেবে অনেক পরে দেখার সুযোগ হয়েছে কিন্তু বুঝতামনা কিছুই। বাচ্চাদের আবার হৃদরোগ! যখন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলাম তখন আমাদের এই বিষয়ে কিছুই পড়ানো হয় নি, ডেভিডশন পড়েছি আর এম আর খান স্যার এর ছোট্ট বই “ইশেন্স অফ পেডিয়াট্রিকস” এর দ্বিতীয় এডিশান পেয়েছিলাম যেখানে পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি ছিলো বলে মনে পড়েনা।

সেনাবাহিনীর চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করার পর অর্থপেডিক সার্জারি পড়ার ইচ্ছে ছিলো, আমার মেডিক্যাল কলেজের হাড় গোড় সব রেখে দিয়েছিলাম, (পরে আমার কোর্সমেট আব্দুল কাদের কে সেগুলো দিয়ে দিয়েছি যখন সে এম এস অর্থোপেডিক সার্জারিতে চান্স পায়) । ঢাকা সিএমএইচ এ এসে পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ চোখে পড়ে, ম্যাডাম তখন মেজর হিসেবে তার ডিপার্টমেন্টের একজন একমাত্র শ্পেশালিষ্ট ও সর্বে-সর্বা। এতো পরিশ্রমী উদ্দ্যমি এক চিকিৎসক একাই একটা বিভাগ চালাচ্ছেন এটা দেখেই অর্থোপেডিক সার্জারি পড়ার ইচ্ছা ছেড়ে পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি পড়ার ইচ্ছা জাগ্রত হলো যদিও সেই সময়ে ২০০৪ সনে সেনাবাহিনীতে গাইনী এন্ড অবস এবং শিশু বিভাগে কোনো ছেলে ডাক্তার কাজ করতোনা।

ডি জি এম এস সিলেকশন বোর্ড কি মনে করে আমাকে সিলেক্ট করলো। দুই বছর অপেক্ষার পর শিশু বিভাগে কাজ করার সুযোগ হলো। তখন থেকে শিশু সে হোক সদ্যজাত কিংবা কিশোর তার হৃদয়ের শব্দ শুনে ধরে নিতে পারি যে হৃদয়ের শব্দ স্বাভাবিক নাকি ঝামেলা আছে। আমরা যারা ঢাকা সিএমএইচে শিশু বিভাগে ম্যাডাম এর অধীনে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের কখনও জন্মগত হৃদরোগী ধরার চেষ্টা চলমান, হাসপাতালে ভর্তি রোগী হোক কিংবা বহিরবিভাগের ব্যস্ততার সময়ের রোগী বুকে স্টেথোস্কোপ বসালে হৃদয়ের খবর নেয়া আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। আর সেটা শিখেছি আমরা আমাদের পথিকৃত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূরূন নাহার ফাতেমা ম্যাডাম এর কাছ থেকে।

আমরা উনার কর্মব্যাস্ততার মাঝে স্নেহধন্য কিন্ত ম্যাডাম এর ব্যাস্ত কর্ম জীবনের জন্য সন্তানেরা উনার সংগ বঞ্চিত হয়েছে। আমাদের অফিস শুরু হতো সকাল আটটা কিন্ত ম্যাডাম এর অফিস শুরু সকাল সাড়ে সাতটায় আর শেষ হতো রোগীর অবস্থার উন্নতির ওপর ভিত্তি করে। যেহেতু একাই একটা ডিপার্টমেন্ট সামলাতে হতো যারা পেডিয়াট্রিসিয়ান তারা বুঝতে পারবেন ব্যস্ততা কাকে বলে যদি কাউকে একা পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ সামলাতে হয়।

সেই প্রশিক্ষণের সময় থেকে অদ্যাবধি এখনও মনে হয় আমরা কেউ এতোটা পরিশ্রম করতে পারিনা যতোটা ম্যাডাম পারেন। আজকের এই স্বীকৃতি এই কথা মনে করিয়ে দেয় “তোমার কৃতির তুলনায় তুমি যে মহৎ”
আমাদের সমস্ত অপ্রতুলতা কে অতিক্রম করেই আজ থেকে বহুদিন আগে থেকে ম্যাডাম শুধু বাংলাদেশের পরিমন্ডলেই নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তুলে সগৌরবে বিচরন করে চলেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তিনি একজন রেফারেন্স পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিষ্ট যিনি ইউরোপ আমেরিকা থেকে অষ্ট্রেলিয়া পর্যন্ত দীপ্ত পদচিহ্ন রেখে যাচ্ছেন।

আমাদের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক রোগী এমনও আসে যাদের জটিল জন্মগত হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ নেই। তাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে ম্যাডাম শিশু হৃদরোগীদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া থেকে শুরু করে যতটা সম্ভব সাহায্য করে থাকেন।

As Rome was not built in a day, it’s take long time to become a Icon Pioneer Paediatric Cardiologist of Bangladesh Brigadier General Professor Dr. Nurun Nahar Fatema Begum.

লেখকঃ
Dr Md Mofazzol Hossain
Paediatrician CMH Jashore
SSMC 21st Batch

ওয়েব টিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

ফিরে দেখা ত্রিভুবন বিমান দুর্ঘটনাঃ ভাল থাকুক ওপারের নবীন ডাক্তাররা

Tue Mar 12 , 2019
সম্পাদকীয় ফিরে দেখা ত্রিভুবন বিমান দুর্ঘটনাঃ ভাল থাকুক ওপারের নবীন ডাক্তাররা ১২ই মার্চ, ২০১৮! চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা শেষ করে, দেশের পথে উড়ে যাচ্ছে জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের কয়েকজন মেডিকেল শিক্ষার্থী। চোখে মুখে পাঁচ বছরের ক্লান্তি। সদ্য শেষ হওয়া দীর্ঘ পরীক্ষার যাঁতাকলে পরিশ্রান্ত। তবুও মনের মাঝে উচ্ছ্বাস, কিছুদিন পরেই নামের […]

Platform of Medical & Dental Society

Platform is a non-profit voluntary group of Bangladeshi doctors, medical and dental students, working to preserve doctors right and help them about career and other sectors by bringing out the positives, prospects & opportunities regarding health sector. It is a voluntary effort to build a positive Bangladesh by improving our health sector and motivating the doctors through positive thinking and doing. Platform started its journey on September 26, 2013.

Organization portfolio:
Click here for details
Platform Logo