মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৪ কার্তিক ১৪৩৩ · ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
COVID-19

লাইফ ইন লকডাউন, ডে সেভেন

Platformপ্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:০০ · ৩ মিনিটে পড়ুন
লাইফ ইন লকডাউন, ডে সেভেন
ছবি - প্রতীকী
লেখার আকার

১৪ এপ্রিল ২০২০
ডা. শুভদীপ চন্দ

ছেলেটির বয়স চৌদ্দ, চুলে রাহুল কাট দেয়া, কানে হেডফোন। পেশায় বেসরকারি এম্বুলেন্স চালক। সারাদিন সরকারি হাসপাতালে থাকে। টুকটাক কাজ করে, খদ্দের খুঁজে। আমি বলেছিলাম- ‘তোকে পুলিশ ধরে না?’ বলে- ‘ধরে। আমাকে আটকাতে পারবে? বলি- খারাপ রোগী আছে। ছেড়ে দেয়।’ যেকোনো কথায় ফটফট উত্তর দেয়। শুধু ‘পড়াশোনা…?’ এ প্রশ্নে উদাস হয়ে থাকে। কিছু বলে না।

উপজেলা থেকে ড্রাইভার ঠিক করা হয়েছিল- করোনা সাসপেক্টেড রোগীর স্যাম্পল আনার জন্য। রোটেশন করে ডিউটি। কেউ রাজি হয় না। উল্টো ফোন করলে মোবাইল সুইচড অফ করে রেখে দেয়। এ ছেলেকে বলা হলো, এক কথায় রাজি। আমরাই বললাম- কাজটিতে রিস্ক আছে। বললো- ‘এটা কোনো ব্যাপার না!’ পিপিই পাওয়ার কথা শুনে চোখ চকমক করে উঠল। মনে হলো সমাবর্তনের গাউন পাচ্ছে! আমাদের স্যাম্পল কালেকশনে আর কোনো ঝামেলা নেই।

লকডাউনের আজ এক সপ্তাহ হতে চললো। এখন এটিই স্বাভাবিক। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা। অবাক হই না। মুদির দোকান গুলোয় মাল আনতে পারছে না। অল্প অল্প করে আনে। এখন দুপুরে শুকনো চানাচুর খাই। পুরি সিংগাড়ার চেহারাই ভুলে যাচ্ছি। ওই লোকগুলোর কিভাবে চলছে কে জানে! আজ এক নাপিত এসেছিলেন জ্বর নিয়ে। বললাম- ‘আয় কত হতো প্রতিদিন?’ বললেন ‘পাঁচ ছয়শো তো থাকতই।’ ‘এখন?’ বললেন অনেক কথা, কিন্তু কোনো অভিযোগ নেই। ‘যদি এভাবেই বাঁচা যায় তো আগে বাঁচি।’

রাজশাহী মেডিকেলের এক ছবি দেখেছিলাম- “হিরোস ওয়ার্ক হিয়ার”। আসলে কোথায় হিরো নেই? এ ছোট ছেলে এম্বুলেন্স ড্রাইভার, এ নাপিত ভদ্রলোক- প্রত্যেকেই হিরো। হিরোস আর এভ্রিহোয়্যার এন্ড ওয়ার্ক এভ্রিডে।

ছয় ডাক্তারের বহিস্কারাদেশ নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ক্ল্যাশ অফ প্রফেশন- কিভাবে জানি তৈরি হয়ে যায়! ইউএইচএফপিও স্যারেরা আজ গাড়ি পেলেন। সরকারি চাকরিতে অফিসিয়াল গাড়ির গর্ব ও আনন্দ কোনকিছুর সাথে তুলনীয় না। স্যার যেচে আমাদের তার গাড়ির ছবি দেখালেন। বললেন- ‘কালো হওয়াতে ভাল হয়েছে। কালোটাই সুন্দর।’

এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে কোন সুসংবাদ নেই। টেস্ট বাড়ছে, রোগী বাড়ছে, মৃত্যু বাড়ছে। মুম্বাইয়ে ধারাভি বস্তিতে আরো আক্রান্ত ধরা পড়লো। পৃথিবীর বৃহত্তম বস্তি। পাঁচ বর্গকিলোমিটারে প্রায় দশ লাখ লোকের বাস। কমন টয়লেট, গাদাগাদি করে জীবন যাপন। কর্তৃপক্ষ ফ্রি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বিতরণ শুরু করেছে। ছড়িয়ে পড়লে সম্ভবত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে যাবে।

আমাদের এম্বুলেন্সের জানালা গুলো ঝাপসা। একটুখানি উপরের দিকে স্বচ্ছ। ঝাপসা অংশ দিয়ে ভিতর বাহির কিছু দেখা যায় না। আমরা ওই এক চিলতে স্বচ্ছ অংশ কাঁচ দিয়ে আকাশ দেখি। রাস্তায় চলতে চলতে রাস্তা না দেখে, দিগন্ত না দেখে- আকাশ দেখার এ অভিজ্ঞতাটুকু নতুন।
আজ বাঙলা নববর্ষ। শুভ হোক নতুন বছর।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

মেডিক্যাল সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে এমবিএক্সে

বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ মিট বাংলাদেশ এক্সপোতে (এমবিএক্স) মেডিকেল এন্ড পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (এমপিপিই) খাতের ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন বাণিজ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২৪-২৫ এপ্রিল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হবে। ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি (মেডিক্যাল…

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

ওমিক্রন: করোনা ভাইরাসের একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার সদ্যপ্রাপ্ত করোনা ভ্যারিয়েন্টকে 'ওমিক্রন বি.১.১.৫২৯' নামকরণ করেছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন। একই সাথে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটিকে উদ্বেগজনক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয় ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং পরবর্তীতে হংকং, বেলজিয়াম, বোস্টয়ানা…

২৮ নভেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

৩য় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে টিকাদান কার্যক্রমে সিভিল সার্জন কার্যালয়, চট্টগ্রামের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১ বাংলাদেশে প্রথম বারের মত সুবিধা বঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে স্পেশাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়, চট্টগ্রাম। ʼভেক্সিনেশন ফর অলʼ শিরোনামে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে…

২৩ নভেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।