• ক্যারিয়ার

October 19, 2016 12:57 pm

প্রকাশকঃ

লিখেছেন ঃ ডা. মোহিব নীরব
‘Every minutes matters’ কুরিয়ার কোম্পানি FedEx আজকের বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড হবার পেছনে এর প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেড স্মিথের একটি মিথ প্রচলিত আছে। ২৪ হাজার ডলারের বিমানের ফুয়েল বাকি অথচ তখন তাঁর পকেটে মাত্র ৫ হাজার ডলার, আর কিছুক্ষণের মাঝে বাকি অর্থ যোগাড় না করতে পারলে তাঁর মিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং নষ্ট হয়ে যাবে। ফ্লাইট বাতিলের কিছুক্ষণ আগে ফ্রেড তাঁর সর্বস্ব বাজি রাখলেন ব্ল্যাক জ্যাকের টেবিলে। ২৭ হাজার ডলার জিতলেন, ফ্লাইট উড়লো, এর ৩০ বছর পর ২৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে FedEx।

আপনার রেসিডেন্সি প্রস্তুতির সাথে ফ্রেড স্মিথের সম্পর্ক কি? কাদের জন্য লিখছি এ লেখা? ফ্রেডের তো বাজি ধরার জন্য ফান্ড ছিল, আমি আমার সেই ব্যাচমেটের জন্য লিখেছি যে ৫ বছর আগে এমবিবিএস পাশ করেছে, বিসিএস হয়নি, ক্লিনিক ডিউটির অপমান আর টানাটানির সংসারে ডাক্তার হবার প্রায়শ্চিত্ত করছে। ধোবাউড়া বা ভোলার তজুমুদ্দিনের সেই কলিগের জন্য লিখছি সপ্তাহে ৭ দিন, বছরে ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টা মাত্র দু’জন মেডিকেল অফিসার মিলে থ্যাঙ্কলেস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সামলাচ্ছে। আমার সেই বড় আপুর জন্য লিখছি চাকরি, সংসার, দুই শিশু সন্তান নিয়েও যার পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যায় নি, অথবা সেই জুনিয়রের জন্য শারীরিক অসুস্থতা যতটা না তার চেয়ে বেশি আরেকটা ফেইলরের ভয়ে যে কাল/পরশু সর্বশেষ দিনেও রেসিডেন্সির ফর্ম ফিলাপ করবে না। ফ্রেডের চাইতে আপনি হারাবেন অনেক বেশি বাজিটা না ধরলে।

দুই বছর চাকরির পর আজ প্রথম বিএসএমএমইউতে আবার নিজ ডিপার্টমেন্টে প্রশিক্ষণে জয়েন করেছি। যে স্যারকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি এবং ভয় পাই, রাউন্ডের মাঝে আমার হাবিজাবি লেখার কথা তিনি জানেন বললেন। তাই এসব লেখালেখির রিস্ক আমার জন্যেও দিন দিন বাড়ছে, তবুও স্বল্প সময়ে রেসিডেন্সি এডমিশনে প্রস্তুতির আমার নিজের স্ট্র্যাটেজি এবং আনুষঙ্গিক কিছু ব্যাপার লিখছি।

প্রথমত, আপনাকে রেসিডেন্সিতে চান্স পাওয়াবে মাইক্রোবায়োলজি। কিভাবে? রেসিডেন্সি পরীক্ষার মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সময়। জানামতে তিন ঘন্টায় ২০০টা এমসিকিইউ এর ১০০০টা স্টেম। বেসিক এবং ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টের অন্যান্য বিষয় যেমন ফিজিওলজি, মেডিসিনের বিভিন্ন স্পেশালিটির প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা থাকলেও প্রশ্ন পড়ে এবং বুঝে উত্তর দিতে অনেক সময় বের হয়ে যায়। কিন্তু মাইক্রোবায়োলজির ক্ষেত্রে প্রশ্ন ঘুরানো বা উত্তর বুঝে দেয়ার ক্ষেত্রে টাইম লসের সুযোগ কম, আপনি পাড়লে তাৎক্ষনিকভাবে পাড়বেন না পারলে মিস। গতবার ৩৬টার মত মাইক্রোবায়োলজির প্রশ্ন এসেছে(সর্বোচ্চ এবং তথ্যের উৎস গাইড বই)। মাইক্রোবায়োলজি আপনাকে এডভান্টেজ দেবে।

পড়বেনঃ বাজারে পাওয়া যায় ৩টি গাইডই, পড়া বলতে চোখ বোলানো। তিনটা বই পড়ার সময় নেই বলতে পারেন, আমি বলবো মুখস্ত করার সময় না পেলেও অন্তত চোখ বুলান। প্রশ্ন যেহেতু রিপিট হয়, এবং গাইডগুলো নির্ভুল নয়, এক সংগে একই চাপ্টার তিন জায়গা থেকে পড়লে একই সঙ্গে তিন বার পড়া হবে, ভুল-অসঙ্গতি ধরা পড়বে। সম্ভব হলে লেঞ্জ রিভিউ এর চ্যাপ্টার সামারিগুলো একবার অন্তত চোখ বোলাবেন সময় থাকলে। কেন মাইক্রোতে প্রশ্ন বেশি সে আলোচনার সাথে প্রস্তুতির কোন সম্পর্ক নেই তাই এ লেখা লিখব না।

দ্বিতীয়ত, আপনাকে রেসিডেন্সি থেকে ছিটকে দেবে এনাটমি। অন্য সকল সাবজেক্টে অনুমান করা যায় প্রশ্ন উত্তর পরীক্ষার্থীদের কাছাকাছি থাকে, পার্থক্য মূলত হয় এনাটমি এবং যে ফ্যাকাল্টিতে পরীক্ষা দিচ্ছেন সে ফ্যাকাল্টি ছাড়া অন্যান্য সাব্জেক্ট থেকে আসা প্রশ্নে(যেমন মেডিসিনের ক্ষেত্রে গাইনি, অপথ্যালমোলজি, ইএনটি ইত্যাদি)। এনাটমি থেকে গত বছরের কোন প্রশ্ন ব্যখ্যাসহ যেন বাদ না যায়। তবে মূল ফোকাস দিতে হবে হিস্টোলজি, জেনারেল এনাটমি, হেড নেক, ব্রেন, থোরাক্স-এবডমেন। এক্সট্রিমিটি প্রশ্নের বাইরে তেমন পড়ার সময় এখন নেই। এনাটমি পড়া খুব ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়, কিন্তু মনে রাখবেন শুধুমাত্র এনাটমির জন্যে রেসিডেন্সি মিস হবে আপনার।

পড়বেনঃ হিস্টোলজি ও জেনারেল এনাটমির জন্য যে টপিক্স থেকে বারবার আসছে (এক্সাক্ট বলাটা গ্যাম্বল হবে) সেগুলো গাইডের বাইরে দত্তের জেনারেল এনাটমি(খুব স্লিম বই), জ্যাঙ্কুরিয়া(প্লিজ নাক কুঁচকাবেন না) থেকে অন্তত লিম্ফেটিক সিস্টেমটা(আরো এক দুটো দেখতে হয়) দেখে যাবেন। যে টপিক্সগুলো বারবার এসেছে দত্ত থেকে পড়বেন। এনাটমি পড়ার সময় জেনারেল সার্জারি ছাড়াও, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি, ইউরোলজি, ইএনটি, অপথ্যালমোলজি, কার্ডিওথোরাসিক, ভাস্কুলার, নিউরোসার্জারি পরীক্ষার্থীরা একই এনাটমি প্রশ্নে পরীক্ষা দেবেন এবং তাঁদের জন্য অন্তত দু একটি প্রশ্ন এনাটমি থেকে টাচ করা হবে এটা মাথায় রেখে পড়লে এনাটমির টপিকগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিরক্তি কেটে যাবে।

তৃতীয়ত, প্যাথোলজি হচ্ছে গোলপোস্ট সামলানোর মত। অন্য সবাই যা পারে আপনাকেও তাই পারতে হবে। বেশি না হলেও চলবে কিন্তু অল্প চেষ্টায় এটা চাইলে সমান প্রিপারেশনে আসা সম্ভব।

পড়বেনঃ রবিনস প্যাথোলজির নিউপ্ল্যাশিয়া চ্যাপ্টার, ইনফ্ল্যাম্যাশন মূল বই থেকে সম্ভব লাইন বাই লাইন পড়তে হবে। অনকোলজির অন্তত ৭টা সাবজেক্ট এবার রেসিডেন্সিতে আছে তাই টিউমার চ্যাপ্টার(সকল বক্স) হট কেক। ইনফ্ল্যামাশান চ্যাপ্টার থেকে ট্রিকি প্রশ্ন হয় এটা ঠাণ্ডায় মাথায়, জানা থাকলে কমন পড়লেও ঠাণ্ডা মাথায় উত্তর দিতে হবে। জেনারেল প্যাথোলজির বাকি টপিকগুলো গাইড থেকে যতটা বিস্তারিত পড়া যায়, জেনেটিক্স পচা শামুক, যার পা কাটে পরীক্ষার হলে বুঝবেন ও না। স্মিডি যদি আগে থেকে পড়া থাকে একবার চোখ বুলিয়ে যাবেন।

চতুর্থতঃ ফিজিওলজি গোলক ধাঁধাঁ বলেন, চোরাবালি বলেন আবার অংকের মত সরল যাই বলেন পরীক্ষার হলে এটা নিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না। আরেকটু চিন্তা করলেই উত্তরটা কারেক্ট করা যেত এটা ভাবতে ভাবতেই সময় বের হয়ে যাবে। ক্রিকেট খেলা দেখার অভ্যাস আছে যাঁদের তাঁরা রান রেটের হিসেবে পরীক্ষার সময় চেক করতে পারেন, ১৮০ মিনিটে ২০০ প্রশ্ন এবং ফিজিওলজি হচ্ছে পর পর দু তিনটা উইকেট গেলে বাংলাদেশ দল যে চাপে পড়ে সেরকম সময়, প্রশ্ন কঠিন সহজ, পিছলা যাই হোক এই সেগমেন্টে উইকেট দেয়া(প্যানিক হওয়া), বা রিকোয়ার্ড রান রেট(সময় ক্ষেপণ) করা যাবে না। ফিজিওলজি যদি প্রশ্ন রিপিট হয় তবে অবশ্যই প্রশ্নটা দু বার পড়বেন ঘুরিয়ে করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হবেন।

পড়বেনঃ পারতপক্ষে গাইডের বাইরে পড়বেন না। ডেভিডসনের চ্যাপ্টারের আগের বেসিক অংশটা থেকে মূলত মেডিসিন রিলেটেড ফিজিওলজি আসে এটা না পড়ে পরীক্ষার হলে যাবেন না। রডি যদি আগে পড়া না থাকে তবে সেটাও চোখ বুলাবেন না। তবে বলে রাখি রডি হচ্ছে স্যামসন রাইটের বেশ পুরনো একটা এডিশনের থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেয়া(আফসোস আন্ডার গ্র্যাডে এই বইটা পড়ানো হয় না তবে এটায় রিসার্চ ফাইন্ডিং অংশটা বিরক্তিকর, ফ্রেশার্সরা পরে পড়ে নিয়েন)।

পঞ্চমতঃ ফার্মাকোলজি এবং বায়োকেমিস্ট্রি। জেনারেল ফার্মার বারবার আসা টপিক, এন্টিবায়োটিক, বিভিন্ন সিস্টেমের বিভিন্ন ক্লাসিফিকেশন/গ্রুপের ড্রাগের নাম এর বাইরে নতুন করে শুধুমাত্র এন্টিক্যান্সার ড্রাগটা সম্ভব হলে লিপিংকট থেকে একবার হলে পড়ে নিতে অনুরোধ করবো। একটা প্রশ্নও যদি আসে এগিয়ে থাকবেন। বায়োকেমিস্ট্রি মেটাবলিসম/পিএইচ/ইলেক্ট্রোলাইট ইম্ব্যালান্স যদি সময় থাকে ছক বানিয়ে পড়ার টেবিলের সামনের দেয়ালে টানিয়ে রাখেন, যতই ভালো পারেন মুখস্ত না করে ক্যালকুলেশন/কোরিলেশনে ফেলে দেন নইলে পরীক্ষার হলে মাথা হ্যাং করতে পারে।

পড়বেনঃ গাইড এবং অবশ্যই অবশ্যই ডেভিডসনের চ্যাপ্টারের আগের বেসিক অংশ, সম্ভব হলে রিলেটেড চ্যাপ্টারের ভেতরের অংশ যেমন চ্যাপ্টার ১৬ ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মেটাবোলিসম, চ্যাপ্টার ৫ নিউট্রিশন এন্ড এনভায়রনমেন্ট বক্স, ইমেজ, ফ্লো চার্ট পড়তে হবে।

ষষ্ঠতঃ মেডিসিন এন্ড এলাইড। ইতিপূর্বে আসা টপিক্সের বিস্তারিত গাইড থেকে পড়বেন, দিলিপ স্যারের নোট যদি আগে পড়া থাকে সেটা দেখবেন, ডেভিডসন খুব ভালো দখলে থাকলে চোখ বুলাবেন নইলে বিস্তারিত তোলা রইলো। তবে অবশ্যই রিলেটেড চ্যাপ্টারের বেসিক অংশ যেন বাদ না পড়ে। এ অংশটা আপনার পড়াশোনার এক্সটেনশন পরীক্ষা করবে, তাই অন্তত গাইডটুকু শেষ করে যাবেন। চ্যাপ্টার ওয়াইজ ডেভিডসনের বাইরে চ্যাপ্টার ৩,৪, (মলেকুলার, জেনেটিক ফ্যাক্টর্স), ১২,১৩,১৪ ইনফেকশাস ডিজিস, প্যালিয়েটিভ কেয়ার আলাদা করে সময় পেলে দেখবেন।

সপ্তমঃ আপনার থার্ড ইয়ার থেকে ইন্টার্নশিপে রেসিডুয়াল নলেজ থেকে আপনার ফ্যাকাল্টির বাইরে গাইনি, অপথ্যালমোলজি, ইএনটি মোটা দাগে উত্তর দিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নের বাইরে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। তবে পড়তে চাইলে পেডিয়াট্রিক্স থেকে কিছু টপিক্স আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন।

২০০টা প্রশ্ন, অনেক বড় টেম্পারমেন্টের পরীক্ষা। একজন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আপনি সারা জীবনে যা পড়েছেন সেগুলোই এখানে আসবে, নতুন কিছু নয়। আপনার যদি প্রস্তুতি খুব ভালো না ও হয়, আপনি যদি মাথা ঠাণ্ডা রাখেন, মনবল অটুট রাখেন সেক্ষেত্রে আপনার সাবকনশাস মেমরি থেকে জীবনে যদি একবার চোখ বুলিয়ে থাকেন সে প্রশ্নের উত্তর পারবেন, কারণ আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে মাত্র দুটো অপশন থেকে হয় সত্য নয় মিথ্যা। শেষ ১০ মিনিটে যদি ২০টাও পূরণ করতে হয় তবু কোন কিছু ফাঁকা রেখে আসবেন না, নিজের পরিশ্রমের উপর ভরসা রাখুন, যদি হওয়ার হয় একটা সিটের জন্যে ৩০০ জন পরীক্ষা দিলেও আপনার হবে, নিজে নিজে নিজের সম্ভাবনা নষ্ট করবেন না।

 

এই বিষয়ে আরও জানতে চাইলে,
http://www.platform-med.org/%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%A1%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%A8-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F/

http://www.platform-med.org/%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%A1%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%A8-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-2/

555 Total Views 2 Views Today
শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ BSMMU রেসিডেন্সি, residency, রেসিডেন্সি ২০১৭, রেসিডেন্সি এডমিশন টেস্ট মার্চ ২০১৭,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 5)

  1. Fatema Keya says:

    2016te intern ses kora doctor ra ki march a mphill dite parbe 2017 te??




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

.