মেডিকেলিও যন্ত্রপাতিঃ ক্যাটগাট

সার্জিক্যাল সুচারের ইতিহাসটার সূচনা হয়েছিল প্রায় ৫০০০ বছর আগে (৩০০০ খ্রি.পূ) যখন প্রাচীন মিশরীয়রা মমি তৈরি করতে এর ব্যবহার শুরু করে। ধারণা করা হয় তারা জীবন্ত মানবদেহেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করতো। সে সময়কার সূচগুলো মূলত কাঠ, পশুর হাড় বা ধাতুর তৈরী ছিল, আর সুতা তৈরি হতো উদ্ভিদতন্তু থেকে। প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতীয় শল্যচিকিৎসক সুশ্রুত কর্তৃক লিখিত ‘সুশ্রুত সংহিতা’ গ্রন্থে সুচারের বর্ণনা পাওয়া যায়। সমসাময়িক কালে গ্রিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিসও এ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন।

উদ্ভিদতন্তু ছেড়ে প্রথম কে প্রাণীজ তন্তু ব্যবহার করেছিলেন তা স্পষ্ট জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়, রোমান চিকিৎসক গ্যালেন (Galen of Pergamon) ২য় খ্রিস্টাব্দে প্রাণিজ ক্যাটগাটের ব্যবহার শুরু করেন। সেগুলো মূলত তৈরি হতো ভেড়া আর অন্যান্য গবাদি পশুর অন্ত্র থেকে।

বলা বাহুল্য, এসব সুচার ম্যাটেরিয়াল স্টেরিলাইজেশনের কোনো সুযোগ ছিল না এবং সংক্রমণ হার ছিল অত্যন্ত বেশি। ১৮৬০ সালে জোসেফ লিস্টার সর্বপ্রথম সুচার ম্যাটেরিয়ালের জীবাণুনাশক হিসেবে কার্বোলিক এসিড এবং পরবর্তীতে ক্রোমিক এসিড ব্যবহার করেন। একাজে আয়োডিনের ব্যবহার শুরু হয় ১৯০২ সালে আর রেডিয়েশনের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৫০ এর দশকে।

Absorbable প্রাকৃতিক ক্যাটগাট আর রূপার তৈরী সুচের ব্যবহার চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। তবে এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা ছিল স্টিচ absorption এর হার সম্পর্কে আগে থেকে তেমন কোনো ধারণা পাওয়া যেত না, কারো বেশি সময় লাগতো, কারো কম। এ সমস্যার সমাধানে ১৯২০ এর দশকে পলিভিনাইল এলকোহল থেকে তৈরি হয় non absorbable কৃত্রিম সুতা। ১৯৭০ এর দশকে পলিগ্লাইকোলিক এসিডের তৈরী absorbable কৃত্রিম সুতা প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের হাতে আসে।

পরবর্তী বছরগুলোতে সুচার টেকনিকের আরো উন্নতি হয়। প্রচলিত সুচ সুতার জায়গা নেয় এডহেসিভ গ্লু, স্ট্যাপলার, লেজার রেডিয়েশন এমন অনেক আধুনিক প্রযুক্তি। তা সত্ত্বেও ক্ষত নিরাময়ে catgut এর আবেদন এখনো অমলিন।

…….
লিখেছেনঃ
আব্দুর রাফি,
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ।

drferdous

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

উত্তপ্ত মমেক ক্যম্পাস ,হোস্টেল নিরাপত্তাজনিত সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি

Mon Sep 18 , 2017
  বরাবরের মতো অধিকার আদায়ের দাবিতে  আবারো উত্তপ্ত এম এম সি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী হোস্টেলের নিরাপত্তার জের ধরে  মোট ৬ দফা দাবী নিয়ে  এবারের আন্দোলন। দাবীগুলো  হল : ১.ছাত্র হোস্টেলে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন। ২. ছাত্র হোস্টেল এবং  অত্র ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সি সি ক্যামেরা স্থাপন। ৩. ছাত্র হোস্টেলে আইডি কার্ড প্রদর্শন […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট