• ভাবনা

August 7, 2014 10:15 pm

প্রকাশকঃ

10338694_10203911267078625_2456444396888347491_nপ্ল্যাটফর্মে বইস্যা ভাবি…লেখক ডাঃ সেলিম শাহেদ

আগে সিনেমাতে কিংবা নাটকে একটা কমন দৃশ্য ছিল।যেখানে নায়ক রাজপথ ধরে হাঁটতে থাকে।এবং হাঁটতেই থাকে।যেখানে ক্যামেরা নায়কের মুখে ফোকাস না করে পায়ে ফোকাস করা থাকে।
পা আর ক্যামেরা সমানে সমানে চলতে থাকে রাজপথ ধরে।এক সময় নায়কের পায়ে থাকা জুতার সুখ-তলা খুলে যায়।নায়ক ঘামতে থাকে।মাঝে নায়ক এক অফিস থেকে আরেক অফিসে যায়।সেখানে ইন্টারভ্যুর পর ইন্টারভ্যু দেয়!
ইন্টারভ্যু শেষে বোর্ডের সবাই ‘না’ সূচক ঘাড় নাড়াতে থাকে।নায়ক বেরিয়ে আবার হাঁটতে থাকে।বাড়ী ফিরলে মা গ্লাসে করে পানি দিতে দিতে জিজ্ঞেস করে-
-কী রে কিছু হলো?
-চাচা মামা না থাকলে চাক্রি পাওয়া যায় না মা!
বলেই নায়ক বিধ্বস্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দেয়।ঘুমিয়ে পড়ে।ফোন বাজে ক্রিং ক্রিং।
নায়িকার ফোন।
-ওগো এপয়েনমেন্ট লেটারটা কী পেলে?জানো,আজকে না আমাকে দেখতে এসেছিল।
-কে?
-কে আবার!আব্বুর ফ্রেন্ডের ঐ যে একটা লোফার ছেলে আছে না!এক্সপোর্ট ইমপোর্টের ব্যবসা করে!আমি না করে দিয়েছি।
-বিয়ে করে ফেলো!
-ছি!মারুফ ছি!এরকম করে তুমি বলতে পাল্লে!আমি কী আর তোমার কাছে ছোনা-দানা-খানা-পিনা কিছু চেয়েছিলাম!আমি তো শুধু চেয়েছিলাম একটা এ-পয়েন-মেণ্ট লেটার।

হা হা।চাকুরীটা বাংগালী মধ্যবিত্ত মানসিকতায় কিংবা সংস্কৃতিতে এমনই একটা আরাধ্য ব্যাপার ছিল বছর বিশেক আগে।গার্মেন্টস শিল্পের ব্যাপক প্রসারের কারনে চাকুরী পাওয়ার সেই সেক্সি আবেদনটা এখন আর নেই।তবে সেটা সিনেমা নাটকে না থাকলেও ব্যক্তি জীবনে অবশ্যই আছে।এই চাকুরী পাওয়ার ব্যাপারটার কাছে আটকে থাকে জীবনের অনেক জৈবিক সম্পর্কের গতিপথ!

আজ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যক্যাডারে জয়েন করলো ছয়হাজার নতুন চিকিৎসক!আজ থেকেই তারা বেতন পাবে।প্রথম বেতন পাওয়ার রোমান্টিকতা কাজ করবে আগামী মাস থেকে।এ মিস্টি খেতে চাইবে,ও কে প্রথম মাসের বেতন পেয়ে কিছু দিতে ইচ্ছে করবে!ইত্যবিধ ব্যাপার সমূহ।
কিন্তু এর আড়ালে যে চ্যালেঞ্জগুলো ফেস করতে হবে তার জন্য তৈরী তো?
আগে থেকেই কিছু ইগো ঝেড়ে ফেলা ভালো!
যেমন,
প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হয়ে কেনো আমি নিজের চেয়ার কেনো নিজে মুছবো?
সাব-সেন্টারের টয়লেটে প্রাকৃ্তিক কর্ম সেরে সবাই ঠিক মতো পানি দেয় না কেন?
থানার এস-আই কে স্যার বললেও আমাকে রাম-রহিম-জন বলে কেনো?
ক্যাজুয়াল লিভ নিতে গেলে টি এইচ এফ পি ও কে ফ্লেক্সি করবো কেনো?
ফার্স্ট-ক্লাস অফিসার হয়ে টুলে বসে রোগী দেখবো কেনো?
এই ধরনের সামন্তবাদী ইগো ঝেড়ে ফেলে দিতে পারলে এই চাকরীটাকে কিছুটা হলেও এনজয় করার ব্যাপারে আমি তীব্র আশাবাদী!

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 1)

  1. Rehenuma says:

    apnar pura likha tai Khub shundor hoeche,kintu ekti point a ami shompurno vabe deemot posh on krchi ..ta holo “casual leave nite gele uhfpo k flexi kra” ,,,,amra aj entry level e join Krb, kintu onara ek ek jn 15-20 year job krar por oi post e giechen…Amdr eto senior Karo biruddhe eivabe ovijog Krata Amdr pokkher manaina…




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
Advertisement
.