• প্রতিবেদন

December 28, 2014 11:18 pm

প্রকাশকঃ

প্রথম নারী চিকিৎসক – এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল এর সংক্ষিপ্ত জীবনকথাঃ

লেখকঃDr-Munzur E Murshid,
Research Medical Officer,UChicago Research Bangladesh

No512inW1
এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল – জন্ম ১৮২১ সালে। উনার বয়স যখন ১০ তখন পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক আসেন। নিউইয়র্ক এসে উনার বাবা ব্যবসায় সফল হতে পারলেন না এবং কিছুদিন পরে উনার বাবা মারা যান।পরিবারের হাল ধরতে এলিজাবেথ শিক্ষকতা শুরু করলেন।কিন্তু,এতে তিনি তৃপ্তি পাচ্ছিলেন-না ।তিনি মানব সেবার জন্য আরো বিস্তৃত পরিসরে কিছু করতে চাচ্ছিলেন।
ঠিক সেই সময়ে উনার প্রিয় বন্ধু মেরী ডোনাল্ডসন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সজ্জায়।চরম রক্ষনশীল সেই সমাজের ডোনাল্ডসন উনাকে(এলিজাবেথ কে) বোঝাতে থাকেন সে যদি এই অবস্থায় একজন নারী চিকিৎসক এর সরনাপন্ন হতে পারতেন তাহলে তার কষ্টটা যেন অনেক কম অনুভব করতেন।তিনি এলিজাবেথকে এও বোঝাতে থাকেন যে – এলিজাবেথ চিকিৎসক হওয়ার জন্য মেধা,ব্যক্তিত্ব,পরিশ্রম করার মানসিকতা তোমার আছে ,তুমি চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা করো এতে বহু মানুষ উপকৃ্ত হবে।
এক পর্যায়ে এলিজাবেথ ব্ল্যাক ওয়েল মনস্থির করলেন যে উনি চিকিৎসক হবেন।
কিন্তু,এজন্য তার অর্থ ও তথ্য(মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য)।মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য তিনি বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকদের কাছে চিঠি লিখতে লাগলেন।সবাই তাকে নিরুৎসাহিত করলেন। Dr.Joseph Warrington ‘ত প্রতি উত্তর করলেন এভাবে- “Elizabeth,it is of no use trying.Thee cannot gain admission to these schools.Thee must go to Paris and don masculine attire to gain the necessary knowledge.”
এলিজাবেথ কিন্তু দমে যাবার পাত্র নন। তিনি Governess এর দায়িত্ব নিয়ে Dr.John Dixon নামের চিকিৎসকের বাড়িতে থাকতে শুরু করলেন। এতে তার অর্থের যোগাড় হচ্ছিল সেই সাথে সেই ডাক্তার সাহেবের কাছ থেকে উনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানা বিষয় শিখছিলেন।এ বাড়ি থেকেই তিনি গ্রীক ও ল্যাটিন ভাষার ওপরও দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
অতপর সেই মাহেন্দ্রক্ষন এলো এলিজাবেথ ৬ নভেম্বর ১৯৪৭ সালে Geneva Medical College, Newyork এ ভর্তি হলেন।কিন্তু, নারী শিক্ষার্থী বলে শুরুতে তাকে বেশ প্রতিকূল পরিবেশ এর মধ্যে সময় পার করতে হলো।
সেই সময় সমপর্কে এলিজাবেথ উল্লেখ করেন এভাবে-
I had not the slightest idea of the commotion created by my appearance as a medical student in the little town. Very slowly I perceived that a doctor’s wife at the table avoided any communication with me, and that as I walked backwards and forwards to college the ladies stopped to stare at me, as at a curious animal. ”
কিন্তু, প্রচন্ড পরিশ্রম, একাগ্রতা , মেধা দিয়ে উনি মেডিক্যাল কলেজে উনার অবস্থান দৃঢ় করেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন শেষে উনি ফিলাডেলফিয়াতে রোগী দেখার সুযোগ পান। তিনি ‘Ship Fever(Typhus)’ এর ওপর থিসিস তৈরী করেন । উনার এই থিসিস ‘Buffalo Medical Journal’ এ প্রকাশিত হয়।
২৩ জানুয়ারী,১৮৪৯ সালে Geneva Medical College থেকে এলিজাবেথ ‘Doctor of Medicine’ ডিগ্রী অর্জন করেন। এলিজাবেথের M.D Degree পাওয়াকে Charles A. Lee উল্লেখ করছেন এভাবে- “This event will stand forth hereafter as a memorable example of what women can undertake and accomplish, too.”
এরপরে এলিজাবেথ ফ্রান্সের ‘ La Maternite ’ হাসপাতালে ও পরে লন্ডনের Bartholomew হাসপাতালে বেশ কিছুদিন নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের ওপর প্রশিক্ষন নেন।
১৯৫১ সালে তিনি আবার Newyork ফিরে আসেন। Newyork ফিরে প্র্যাকটিস শুরু করতে যেয়ে উনি আবার সামাজিক প্রতিকূল তার সম্মুক্ষীন হন।এ সময়টাকে তিনি উল্লেখ করেন এভাবে- “A blank wall of social and professional antagonism.”
তিনি শত প্রতিকূল তার মধ্যে ও অসহায় নারী ও শিশুদের জন্য ছোট্ট পরিসরে একটি ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন।
কিছুদিন পরে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে কিছুটা বড় পরিসরে
‘New York Infirmary for Indigent Women and Children’ নামক একটি হাসপাতাল চালু করেন ।সঙ্গে আছেন তার কাছেই প্রশিক্ষিত দুই বোন এমিলি ও মেরী।
এখানে তিনি আরো অনেক নারীকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে থাকেন ।তার এই সব কাজে বহু মানুষের উপকার হলেও তৎকালীন রক্ষনশীল সমাজ ভাবতে থাকে এগুলো তাদের প্রতি পরোক্ষ চোখ রাঙানি।ফলশ্রুতিতে, দেখা গেল এলিজাবেথের হাসপাতাল থেকে প্রশিক্ষিত নারীকে সহজে কোন মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি করছে না।
আগেই বলেছি এলিজাবেথ দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি নিজের অর্থ ও নানা উদারপন্থী মানুষের নানা ধরনের সাহায্যে ৯ টি অনুষদ ও ১৫ জন ছাত্রী নিয়ে ১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করলেন Woman’s Medical College of the New York Infirmary এর।
এর এক বছর পরে বোন এমিলির তত্ত্বাবধানে মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব দিয়ে উনি আবার ইংল্যান্ড পাড়ি জমান বাকি জীবনটা এই মহীয়সী নারী জন্মভূমি ইংল্যান্ডেই কাটিয়েছেন।
তথ্যসূত্রঃ
http://www.nlm.nih.gov/exhibition/blackwell/index.html
http://www.nlm.nih.gov/changingthefaceo…/…/biography_35.html

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.