• অভিজ্ঞতা

July 21, 2016 1:37 pm

প্রকাশকঃ

পর্ব ২ : কি নিয়ে পড়ব, কোথায় পড়ব, টিউশন ফি এবং স্কলারশীপ সূযোগ সমূহ।

কি নিয়ে পড়ব ? 
প্রশ্নটা যেমন কঠিন, উওরটাও ঠিক তেমনি কঠিন। কোন বিষয়ে রেসিডেন্সি দিবো এটা ঠিক করা যেমন খুবই কঠিন একটি কাজ, তেমনি কোন বিষয়ে রির্সাচ করব বা কোন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ব ঠিক করাও কঠিন একটি বিষয়। পাবলিক হেলথ না রিসার্চ,,,অনেকের মতে পাবলিক হেলথ আর রিসার্চ একই বিষয়, কিন্তু আমি মনে করি সেটা না,,দুটোতে কিছু ব্যাসিক পার্থক্য আছে। হ্যা এটা ঠিক যে, পাবলিক হেলথেও রিসার্চ হয়, কিন্তু পিউর রিসার্চ সাবজেক্ট গুলো বলতে গেলে পুরোটাই ল্যাব বেইস্ট। সুতরাং কিসে পড়বেন এটা সম্পুর্ন আপনার নিজের উপর। কিসে আপনার ইন্টারেস্ট বা কোন বিষয়ে আপনি নিজেকে সম্পূর্ন ডেডিকেট করতে পারবেন, সেটাও আপনাকেই ঠিক করতে হবে,,,এমন না যে,, ‘ ও পাবলিক হেলথ বা মলিকুলার বায়োলজি পড়তেছে, আমিও পড়ব ‘। তাই যদি হয়, তাহলে আমি বলব আপনি ভুল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।

উন্নত দেশগুলো তাদের রিসার্চ স্কেটরগুলোকে এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পর্যায়ে নিয়া গেছে যা কল্পনাতীত। আশা করি আমরাও একদিন তাদের সমকক্ষ হব।
ভাই আগেই বলে দিচ্ছি, কোন সাবজেক্ট এর ফিউচার কেমন, বা জব স্কেটর কেমন, দয়া করে এই প্রশ্ন কেউ করেবনা, কারন এর উওর আমার নিজেরও জানা নাই। একটা কথাই শুধু বলতে পারি যে, মন থেকে করলে সবই পাওয়া সম্ভব।

যাইহোক যে বিষয় গুলোতে সাধারনত আমরা উচ্চশিক্ষার জন্য পড়তে পারি বা আমাদের এমবিবিএস এর পর যে বিষয়গুলোর উপর মাস্টার্স করার সুযোগ পাওয়া যায় তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দিচ্ছি,,

Research sector:
molecular biology, cell biology
molecular medicine
biomedicine
biochemistry, microbiology, immunology, virology
tumor biology, cancer and stem cell biology, oncology
cardiovascular medicine, sports medicine
infection biology
neuroscience, neurobiology, cognitive and behaviour science, psychology etc.

public health sector:
public health, epidemology
global health, international health
health economics
medical informatics
food and nutrition, global nutrition
infectious disease control
health care management etc.

বি:দ্র: রিসার্চ সেক্টরের বিষয় গুলোতে যদি পরতে চান, তাহলে অবশ্যই অ্যাপ্লাইের আগে উক্ত কোর্সের প্রফেসরদের সাথে যোগাযোগ করে নিবেন যে আপনার এমবিবিএস ডিগ্রী উক্ত কোর্স এর জন্য এলিজিবল কিনা,, সাধারনত সব গুলো কোর্সেই এলিজিবল হয়, কিন্তু এটা দেশ থেকে দেশে এমনকি একই দেশের ভার্সিটি থেকে ভার্সিটি ভ্যারি করে। এটা নিয়া নিজের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।

কোথায় পড়ব :
উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমেই যে দেশগুলো সবার পচ্ছন্দের তালিকায় থাকে তা হল, আমেরিকা, ইউরোপের কিছু দেশ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া। আমি শুধু ইউরোপের দেশ এবং ভার্সিটিগুলোর উপর তথ্য আলোকপাত করব।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, নানা ক্যাটাগরিতে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ ও ভার্সিটির রেংকিং করে থাকে, চাইলেই চেক করে নিতে পারেন। তবে মেডিকেল উচ্চশিক্ষার জন্য,, ইউকে, সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, ডেনমার্ক, ও নেদারল্যান্ড কে এগিয়ে রাখবো আমি।
কিছু ভার্সিটি ও রিসার্চ ইনিস্টিটিউট এর নাম আমি সাজেস্ট করতে পারি যে গুলো মেডিকেল উচ্চশিক্ষার জন্য বিখ্যাত

SWEDEN: Karolinska institute, uppsala, Lund, Stockholm, Gothenburg, Umea.
NORWAY : NTNU, Oslo, Bergen.
GERMANY : Uni of Ulm, Albert Lunming uni, Freidrich Alexander Uni, Uni of Munich, Charite uni medicine of Berlin.
DENMARK: uni of southern denmark, Aarhus Uni, Uni of Cophenhagen.
NETHERLAND: Uni of amsterdam, uni of Leiden.
Uk: মোটামুটি সব ভার্সিটি গুলো বিশ্বমানের।
SWITZERLAND : ETH Zurich.

**** যেসব মাস্টারস প্রোগ্রাম, এবং ভার্সিটির কথা বলা হয়েছে, শুধু যে এগুলোই তা কিন্তু না,, আরও অনেক আছে, নেটে সার্চ করা শুরু করুন, সব পেয়ে যাবেন।

স্কলারশিপ এর সুযোগ সমূহ:
এইবার আসি সবচেয়ে গুরুওপূর্ন কথায়,, স্কলারশিপ। উন্নত দেশগুলো আমাদের মত উন্নয়নশিল দেশগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ সুবিধা দিয়ে থাকে। শুধু সরকারী স্কলারশিপ না, নানা আন্তর্জাতিক সংগঠনও স্কলারশিপ সহ নানা রকম ফানডিং সুবিধা দিয়ে থাকে, এরমধ্যে কোনটা ফুল ফান্ড আবার কোনটা শুধু কয়েক সেমিস্টারের জন্য ফান্ড দিয়ে থাকে। আপনারা জানেন যে, আমেরিকা এবং ইউরোপের স্কলারশিপ সিস্টেমে কিছু পার্থক্য আছে,,যাই হোক এটা নিয়ে আর কথা তুললামনা।

ইউরোপের স্কলারশিপ গুলোকে সাধারনত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথমত, বিভিন্ন দেশের সরকার প্রদও স্কলারশিপ, এগুলো সাধারনত ফুল ফান্ডেড হয়ে থাকে, টিউশন ফি, লিভিং কস্ট, ট্রাভেল কস্ট।
আর একটা হল, বিভিন্ন ভার্সিটি প্রদও স্কলারশিপ,, মোটামুটি ইউরোপের সব ভার্সিটি এই স্কলারশিপগুলো দিয়ে থাকে। এগুলোকে বলা হয় টিউশন ফি ওয়েবার,, কারন এগুলো শুধু আপনার টিউশন ফি মাফ করবে, লিভিং কস্ট দিবেনা। আবার অনেক ভার্সিটি আছে যেগুলো টিউশন ফির পাশাপাশি ২৫%.৫০% ভাবে ফান্ডিং দিয়ে থাকে। এখন লিভিং কস্ট কিভাবে বেয়ার করবেন সেটা আপনার বিষয়। তবে ইউরোপের আর একটা সুবিধা হল, আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসা পেয়ে যান, তাহলে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন। আর পার্ট টাইম জবের ব্যাপারে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
ইউরোপের কয়েকটা দেশে টিউশন ফি নাই, তারমধ্যে অন্যতম নরওয়ে এবং জার্মানি। নরওয়ের সব সরকারী ভার্সিটিতে টিউশন ফি ফ্রি, কিন্তু জার্মানির কিছু কিছু ভার্সিটিতে কিছু মাস্টারস এ টিউশন ফি আছে।

বিভিন্ন দেশের সরকার প্রদও স্কলারশিপ সমূহঃ

sweden : Swedish institute scholarship (SI)
সুইডেনের সবচেয়ে সম্মানজনক স্কলারশিপ। এটি ফুল ফান্ডেড। সাধারনত প্রতি বছর নভেম্বর এরদিকে এটি ওপেন হয়। সুইডেনের সকল ভার্সিটিতে কিছু নির্দিষ্ট মাস্টারস এ এই স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে। সিলেকশন প্রসিডিউর খুবই কঠিন এবং প্রায় প্রতি বছর এদের এলিজিবল ক্রাইটেরিয়া পরিবর্তন হয়। এদের ওয়েব সাইটে আপনি যা জানতে চান, সব ধরনের তথ্য পেয়ে যাবেন।

Norway : Quota Scholarship
সুইডেনের এসআই এর মত নরওয়ের স্কলারশিপ এটি। দুঃখজনক ব্যাপার এই বছর নরওয়ে সরকার হঠাৎ করে এটি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী বছরগুলোতে আবার চালু করবে কিনা, কোন ধারনা নেই। কোটা সম্পর্কে আর একটা কথা হচ্ছে, সব মেডিকেল কলেজের ছাএরা এতে অ্যাপ্লাই করতে পারেনা। আপনি নরওয়েতে যে ভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করবেন, সেই ভার্সিটির যদি আপনার ভার্সিটির সাথে, কোলাবোরেশন থাকে তবেই আপনি অ্যাপ্লাই করতে পারবেন।

Netherland : Netherland Fellowship Program ( NFP)
Germany : DAAD scholarship
UK : Commonwealth scholarship
স্কলারশিপ সম্পর্কে সকল ধরনের তথ্য স্কলারশিপগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে খুজলেই পেয়ে যাবেন। আাশা করি পরবর্তি পোস্টে প্রয়োজনীয় সকল ওয়েবসাইটের লিংক গুলো দিতে পারব।
বিভিন্ন ভার্সিটির মাস্টারস এবং স্কলারশিপ সম্পর্কে তথ্য উক্ত ভার্সিটির ওয়েবসাইট গুলোতে খুব সুন্দরভাবে পেয়ে যাবেন। এগুলো সাধারনত আপনি যখন মাস্টারস এ অ্যাপ্লাই করবেন, তখনই অ্যপ্লাই করতে পারবেন। ভার্সিটি থেকে ভার্সিটি অ্যাপ্লিকেশন টাইমলাইন, এলিজিবল ক্রাইটেরিয়া, সিলেকশন প্রসিডিউর বিভিন্ন।

এবার আসি অন্য এক স্কলারশিপ নিয়ে, যেটা EU দিয়ে থাকে,, ERASMUS MUNDUS Scholarship.
EM সম্পর্কে মজার কথা হচ্ছে, আপনি গোটা ইউরোপ ঘুরে ঘুরে মাস্টার্স করবেন। মানে EU এর বিভি্ন্ন দেশের বিভিন্ন ভার্সিটিতে মাস্টার্স এর এক একেকটা সেমিস্টার করবেন। এটিও ফুল ফান্ডেড।

এছাড়াও বিভিন্ন দেশের কিছু আন্তর্জাতিক ওরগানাইজেশন আছে যেগুলো বিভিন্ন সুযোগ দিয়ে থাকে। বিস্তারিত সব নেটে খুজলেই পাবেন।

ইউরোপের স্কলারশিপ ও মাস্টারস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভাবে যে টুকু পারসি তুলে ধরলাম, এবং একটা ধারনা দেবার চেষ্টা করলাম। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে যতটুকু জানতে পেরেছি তার পুরোটাই আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম। এর বাহিরেও অনেক তথ্য আছে যা আপনারা নেটে খোজ করতে থাকলে পেয়ে যাবেন, আর আপনাদের কেউযদি আরও কিছু জেনে থাকেন, আশা করব আপনার তথ্যগুলো সবার সাথে শেয়ার করবেন।

ডা. অভিজিৎ রায়,রংপুর মেডিকেল কলেজ 

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ নন ক্লিনিকাল বা রিসার্চ লাইন/পাবলিক হেলথ, নন ক্লিনিকাল/রিসার্চ লাইন /পাবলিক হেলথ এবং বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কথাঃ পর্ব ১, বিদেশ, বিদেশে উচ্চ শিক্ষা,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 5)

  1. Sayma Rahman Khan dekh…

  2. পিয়াল শাফি

  3. Dr. Md. Shahin Aktar Roni says:

    I am now in mphil mycrobiology course..i want to go for phd or for job in foreign after complete my course.. i want to go with scolarship and with government order…how i apply?




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
Advertisement
.