হতাশ হবার কিছু নেই,সহজভাবে নাও সবকিছু।
ইন্টার্ণশীপ শেষ করার পর বেশীরভাগ ডাক্তারই সবচেয়ে অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়।আগেভাগে নিজের অবস্থান বুঝে প্রোপার প্ল্যানিং করে নিতে পারলে এতটা কঠিন মনে হবে না জার্নিটা। এ পেশায় বেশীরভাগ ছেলেমেয়েই মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি থেকে আসা,কিছু উচ্চমধ্যবিত্ত ফ্যামিলি থেকে এবং অল্পসংখ্যক উচ্চবিত্ত থেকে।
১।যারা পাশ করার পর পরিবার থেকে ৫ বছর পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ নিতে পারবে তাদের জন্য জার্নিটা অনেক সহজ।তাদেরকে বলবো কোনদিকে না তাকিয়ে এমডি/এমএস কোর্সে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করো।এমআরসিপি বা এম আর সি এস দিতে পারো।কম সময়ে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য এটা ভালো অপশন।পরীক্ষা দিতে অনেক টাকা লাগে বলে চাইলেই কেউ এটা দিতে পারেনা। কেউ বেসিক সাবজেক্টে যেতে চাইলে সেখানেও ভালো সুযোগ রয়েছে।প্যাথলজি ছাড়া সকল বেসিক সাবজেক্টের এমডি কোর্স ৩ বছরের।তাই এখানে সময় যেমন কম লাগে তেমনি তাড়াতাড়ি প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়।এই ক্যাটাগরির ছেলেমেয়েদের বিসিএস না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি মনে করি। গ্রামে যেয়ে চিকিৎসা দেয়া যেমন তাদের জন্য কঠিন তেমনি পোস্ট গ্রাজুয়েশনেও অনেক দেরী করিয়ে দেয়। এছাড়া রিসার্চ লাইনে ক্যারিয়ার করার কথাও ভাবতে পারো।
২।এবার তাদের কথায় আসছি যারা পাশ করার পর পরিবারের কাছ থেকে খরচ নিতে পারবে না কিন্তু পরিবারের কেউ তার উপর নির্ভরশীল নয়। এরা প্রথমেই যেটা করতে পারো অল্পকিছুদিন (বছরখানেক)জব করে সেই সাথে এডমিশন টেস্টের জন্য প্রিপারেশন নিতে পারো।কোর্সে ঢোকার আগে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে পারো এটা তোমাকে হেল্প করবে।তোমার হাতে কেমন সময় আছে তার উপর নির্ভর করবে তুমি বড় কোর্সে ঢুকবে নাকি ছোট কোর্সে ঢুকবে।তবে সম্ভব হলে প্রথমেই এমডি বা এমএস এ চেষ্টা করা উচিৎ।গ্রামে গিয়ে ২ বছর চাকরী করার মানসিকতা থাকলে বিসিএস দিতে পারো।স্বামী-স্ত্রী দুজন একসাথে বিসিএস দিয়ে জবে ঢুকতে পারলে অনেক সুবিধা পাবে।যেমন দুই বছর পর যখন কোর্সে আসবে তখন দুজনই বেতন পাবে।বর্তমান স্কেলে বেতন দুজনের মিলে প্রায় ৮০,০০০ টাকা(আগামী জুলাই থেকে) যা স্বচ্ছলভাবে তোমাকে চলতে সাহায্য করবে।
৩।যাদের পাশ করার পর ফ্যামিলির দায়িত্ব নিতে হবে তারা অবশ্যই এবং অবশ্যই বিসিএস দেয়ার চেষ্টা করবে।না হলে নাই, কিন্তু এটাই তোমার জন্য বেস্ট অপশন।
যে দুই বছর গ্রামে থাকবে তখন জিপি করে সৎ ভাবেই তুমি মাসে বেতনের বাইরে ৩০০০০-৪০০০০ টাকা অতিরিক্ত(নূন্যতম) ইনকাম করতে পারবে।এই অতিরিক্ত জমানো টাকাটা তোমার প্রয়োজন হবে।তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য।
৫ বছরের জন্য স্টাডিতে ঢোকা তোমার জন্য সম্ভব না হলে ডিপ্লোমা কোর্সে ঢুকতে পারো।অল্প সময়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারবে এবং বিসিএস জব করলে অল্প কয়েকবছরের মাঝেই জুনিয়র কনসালট্যান্ট হওয়ার সুযোগ থাকবে।এনেস্থেশিয়া, গাইনী এন্ড অবস,কার্ডিওলজি,অর্থো,ইএনটি,এন্ডোক্রাইন,আই,স্কিন ইত্যাদি ক্লিনিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রথমে করে নিয়ে তুমি কম সময়ে প্রতিষ্ঠিত হরে পারবে,সেই সাথে পরে এমডি বা এমএস দিতে তো পারছোই।এখানে রিস্ক হলো পরে আবার ৫ বছরের কোর্সে ঢোকার স্ট্যামিনা তোমার থাকবে কিনা!তারপরও এটা ভাল অপশন।
কোর্স চলাকালীন সময়ে নিয়মিত রাউন্ড,মর্নিং সেশন,ক্লাশ ইতাদি করলে,বিগত বছরের রিটেন প্রশ্ন দেখলে ও সে অনুযায়ী নিয়মিত বই ঘাটাঘাটি করলে আজ অথবা কাল পাশ তুমি করবেই।
আত্নীয়ের বিয়েতে যেতে না পারা,বন্ধুদের সাথে ট্যুর মিস করা,পরিবারের সাথে সময় কাটাতে না পারা এগুলো আমাদের জীবনের নৈমত্তিক ঘটনা।এগুলোর বিনিময়েই একদিন বড় কিছু অর্জন করবে তুমি।
এরপরও অনেকেই কোর্স শেষ করতে পারবেনা,জীবনে অনেক সময় অনেক পরিস্থিতি সামনে এসে দাড়াবে যেখানে সেটার গুরুত্ব ডিগ্রির চেয়ে অনেক বেশী হতে পারে।তখন সেই পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজটিই করতে হবে।যে কোন পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারে যে সেই প্রকৃত বিজয়ী।
মনে রাখতে হবে জীবনের জন্য ক্যারিয়ার,ক্যারিয়ারের জন্য জীবন নয়। সবাই ক্লিনিক্যাল বিষয়ে ক্যারিয়ার করবে না।কেউ বেসিকে,কেউ পাবলিক হেলথে,কেউবা রিসার্চে আসবে।আবার কেউ স্বাস্থ্য প্রশাসনেও কাজ করবে।কোন কাজ ই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।নিজ অবস্থান থেকে নিজের কাজটুকু ঠিক ভাবে করতে পারাটাই সফলতা।
জীবনটাকে সহজভাবে নিতে হবে।জব,পড়াশোনা করতে হবে।মাঝেমাঝে একঘেয়েমী লাগলে বন্ধুবান্ধব বা কলিগদের সাথে আড্ডা দিতে হবে,ক্রিকেটে বাংলাদেশকে জিততে দেখে আনন্দে চিৎকার করতে হবে,পরিবারকেও যতটুকু সম্ভব সময় দিতে হবে,রাজনীতি ও দেশকে বুঝতে হবে।সবকিছু মিলিয়েই জীবন।আমাদের জীবনে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশী,টাইম শিডিউলটা একটু বেশীই প্যাকড,এই যা!
রোমাঞ্চ না থাকলে সে জীবনটাই বা কেমন?মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বা রোমাঞ্চকর আর কি হতে পারে?
Saurav Yadav Rizwan Ahmed Chowdhury