২০০১ সাল। তখন ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। দুপুরে ডাইনিংয়ে খেয়ে রুমে এসে শু’তে যাব এমন সময় ৩৭ব্যাচের ‘কামরুল’ ভাই একটা চিঠি নিয়ে আসলেন। আমেরিকার চিঠি। নামে মিল থাকায় পোস্টম্যান ভুল করে চিঠিটা উনাকে দিয়ে গেছেন। আমেরিকা থেকে আমাকে কে চিঠি লিখবে?! এই চিঠি আমার না বলে উনাকে ফেরত দিতে যাব এমন সময় হঠাৎ চোখে পড়ল খামের এক কোণায় ছোট করে A. C. Guyton লেখা। মনে পড়ল, মাসখানেক আগে ফিজিওলজি CVS কার্ড ফাইনাল দিয়ে হল থেকে বের হয়েই কলেজের পোস্ট-অফিস থেকে গাইটনের উদ্দেশ্যে একটা চিঠি পাঠিয়ে ছিলাম। তখন কে জানত উনি ঠিকই সেই চিঠির উত্তর দিবেন! কাঁপা কাঁপা হাতে খামটা খুলে চিঠিটা বের করলাম। ঘুমাতে যাচ্ছিলাম, উত্তেজনায় আমার ঘুম উধাও হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটির প্যাডে হাতে লেখা চিঠির শুরুটা এরকম- “Dear Dr. Kamrul, Thank you for your letter. I wish I could answer….”. বাংলাদেশের মত পৃথিবীর অপর প্রান্তের এক অপরিচিত দেশ থেকে মেডিকেল ফার্স্ট ইয়ারের এক ছাত্র তাঁকে চিঠি লিখেছে আর তার উত্তরে তিনি তাকে সম্বোধন করছেন ‘Dear Dr. Kamrul’ বলে। তাঁর মহানুভবতায় আমি অভিভূত হয়ে গেলাম। আমার চিঠিতে একটা প্রশ্ন ছিল, উনি মূলত সেটারই উত্তর দিয়েছেন। চিঠি পোস্ট করার মাত্র ১মাস ৫দিনের মাথায় আমি তাঁর উত্তর হাতে পাই। তাঁর চিঠি রাতারাতি আমাকে মাসুম থেকে ‘গাইটন-মাসুম’ এ পরিণত করল।

রেসিডেন্সিতে থাকা অবস্থায় গাইটন পোলিওতে আক্রান্ত হন। ফলস্বরূপ কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বাদ দিয়ে পরবর্তীতে তিনি ফিজিওলজিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। প্যারালাইজড হাত-পা নিয়েও টানা ৪০বছর তিনি তাঁর ফিজিওলজি টেক্স্ট বুক একাই রচনা ও পরিমার্জনা করেছেন। গাইটনের বই ফিজিওলজিতে সারা পৃথিবীতেই সর্বাধিক বিক্রিত মেডিকেল টেক্স্ট বুক। ২০০৩ সালের এই দিনে এই মহাত্মা কার এক্সিডেন্ট-এ মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা।
লেখক ঃ ডাঃ কামরুল ইসলাম মাসুম
but question ta e ba ki silo?r answer tai ba ki silo