সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

আবু রায়হান ,যেন রবীন্দ্রনাথের “বীরপুরুষ” কবিতার খোকা

আবু রায়হান, ১০৯ নং ওয়ার্ডময় ঘুরে বেড়াচ্ছে।ঘুরে বেড়াচ্ছে বললে আসলে ভুল হবে।

একটু আগে একজন নার্স রোগীকে ইনজেকশান পুশ করলো ,আবু রায়হান সেই সিরিঞ্জ এর খোসা এবং ব্যাবহারিত ইনজেকশানের ভায়াল আলাদা করে ময়লার বক্সে ফেললো।আরেকজন রোগীর ড্রেন টিউব খালি করা দরকার , ওয়ার্ড বয় আর খালা্রা অন্য কাজে ব্যাস্ত থাকায় আবু রায়হান বীরদর্পে এগিয়ে গিয়ে নিখুঁতভাবে ড্রেন টিউব খালি করে দিলো।

কে এই আবু রায়হান? সে কি ওয়ার্ড বয়?

না , সে ৮ বছর বয়সি এক বালক। মাদ্রাসায় ২য় শ্রেনীর ছাত্র।তার মা ১০৯ নং ওয়ার্ডের একজন রোগী।চলুন ,আবু রায়হানের মায়ের গল্পটা আগে শুনি ।

হাতুড়ে দ্বারা এম আর করতে গিয়েছিলেন আবু রায়হানের মা রাজিয়া।যথারিতি প্রচুর রক্তক্ষরন নিয়ে ভর্তি হয় ঢাকা মেডিকেলের গাইনী বিভাগে।গাইনী বিভাগে তার রক্তক্ষরন বন্ধের চিকিৎসা দেয়া হয়।৫ দিন পর রাজিয়ার পেট ফুলতে শুরু করলে গাইনী বিভাগ হতে আমাদের কাছে রেফারাল পাঠানো হয়।স্যার রোগী দেখে নিমিষেই ধরে ফেলেন গাট(অন্ত্র) ইনজুরি হয়েছে। অর্থাৎ এম আর করতে গিয়ে হাতুড়ে রোগীর জরায়ু ফুটো করে তার অন্ত্রের দেয়ালে ক্ষত করেছে।গাইনী বিভাগ দ্রুত অপারেশান থিয়েটার ম্যানেজ করলো।আমাদের সার্জারী টিম অপারেশান শুরু করলাম।রোগীকে অজ্ঞান করার আগে তার ব্লাড প্রেশার পাওয়া যাচ্ছিলো না। রোগী ছিলো শকে।এনেস্থেটিস্ট বলেই দিলেন এই রোগী অজ্ঞান করার পর পুনরায় ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম। আল্লাহ্‌ ভরসা বলে অপারেশান শুরু করলাম।পেট খোলার পর দেখা গেলো পুরো পেট জুড়ে পায়খানা ছড়িয়ে আছে। এক জায়গায় অন্ত্রের দেয়ালে ইনজুরি খুজে পেলাম।সেখানে সেলাই দিতে গেলেও ছিড়ে আসছিলো।। ৫ দিনের পুরোনো কেস তাই পেটের নীচের অংশে প্রায় ১ লিটেরের মত পুজ জমা
ছিলো। যা হোক অন্ত্রের খারাপ অংশের প্রায় অনেকটা ফেলে দিয়ে জোড়া দেয়া হল।আমরা নিজেরাও সন্দিহান আদৌ অপারেশান সফল হবে কিনা।সফল হলেও ,অজ্ঞান অবস্থা থেকে রোগীর জ্ঞান ফিরবে কিনা।এনেস্থেসিয়ার ডাক্তারের ঘাম ঝড়ানো চেস্টায় রোগীর জ্ঞান ফিরলেও , রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। ওটি থেকে রাজিয়াকে সরাসরি আই সি ইউ তে ট্রান্সফার করা হল।

আই সি ইউ(ICU) তে টানা ৪ দিন থেকে কিছুটা উন্নতি হলে তাকে এইচ ডি ইউ(HDU) তে পাঠানো হয়।সেখানে কাটে আরো ৩ দিন। ইনফেকশান কন্ট্রল করতে আমরা তাকে ভালো একটা এন্টিবায়োটিক আর দ্রুত ক্ষত সারাতে ভিটামিন ঔষুধ এড করলাম। মানুষের বাড়িতে কাজ করে রোজগার করা রাজিয়ার পক্ষে এই ওষুধগুলো বাইরে থেকে কেনা স্বম্ভব ছিলো না।রাজিয়ার স্বামী হাসপাতালে আসার ২য় দিনেই চিকিৎসার খরচ যোগানোর ভয়ে তাকে ছেড়ে চলে গেছে।যে বোনটা এতোদিন তাকে দেখে রেখেছিলো সেও একদিন বলে বসলো “রোগী মরলে মরুক , ছুটি দিয়া দেন আমরা বাড়িত নিয়া যাই” ।একজন মৃতপ্রায় রোগীকে আবারো জীবনের আলো দেখানোর আশায় হার মানলো না কতিপয় তরুন ডাক্তার।তারা ওষুধ কেনার জন্যে অর্থের জোগাড় করে দিলো, হাসপাতালের সমাজ কল্যান বিভাগে সকাল দুপুর দৌড়াদৌড়ি করে পথ্যের ব্যাবস্থা করে দিলো।বোন চলে যাওয়ায় রাজিয়াকে দেখভাল করার আর কেউ ছিলো না। তরুন ডাক্তাররা , নার্স আর খালাদের সহোযোগিতায় রাজিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে নিলো। অপারেশানের জায়গায় ইনফেকশান থাকায় রাজিয়ার
উন্নতি হতে দেরি হচ্ছিলো। এতো সব খারাপ অবস্থা পার করে এতোদিন পর্যন্ত রজিয়ার বেঁচে থাকাটা আমাদের কাছে চিকিৎসা শাস্ত্রে্র একটা বড় মিরাকল।

একদিন সকালে রাউন্ড দিতে গিয়ে রাজিয়ার বেডের পাশে মিষ্টি চেহারার এক ছেলেকে আবিষ্কার করলাম।বেড ডক্টর বললো এই ছেলে রাজিয়ার একমাত্র সন্তান। রাজিয়া মানুষের বাড়ি গিয়ে কাজ করে এই ছেলেটার মুখে দুই বেলা ভাত তুলে দেয়ার জন্যেই। রাজিয়ার এই দশার কথা এতোদিন তার সন্তানকে জানানো হয় নাই। মায়ের সাথে সন্তানের অদৃশ্য সেই সুতোর টানেই হয়তো সন্তান ঠিকই খুজে খুজে চলে এসেছে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে। নাম জিজ্ঞেস করতেই লাজুক গলায় ছেলেটা জবাব দিলো “আবু রায়হান”। পরের কয়টা দিন যা করার আবু রায়হানই করলো আর আমরা অবিশ্বাস নিয়ে এই ৩ ফুটি ছেলেটার কার্যকলাপ দেখতে থাকলাম। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ঢাকা মেডিকেলের অলি গলি চিনতে খাবি খায়।আর ,আবু রায়হান এক দৌড়ে হাসপাতালের সামনের দোকানে গিয়ে ওষুধ কিনে আবার ঠিকমত ওয়ার্ডে ফিরে আসে।
মায়ের জন্যে খাবার এনে নিজ হাতে বেড়ে খাওয়ায়। ফল কেটে মায়ের মুখে তুলে দেয়। ড্রেসিং করার সময় মায়ের চিৎকার শুনে ছলছল চোখে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। শুধু আমরা ডাক্তাররাই না ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের সকল রোগী,নার্স,ওয়ার্ড বয় সবার প্রিয় হয়ে উঠে আবু রায়হান। অবশেষে সকল প্রতিকুলতা জয় করে রাজিয়া সম্পুর্ন সুস্থ হয়ে উঠলো।হাসিমুখে আমরা মা আর ছেলেকে বিদায় জানালাম।মাঝখানে কেটে যায় প্রায় দেড়টি মাস।

আবু রায়হানকে ঠিক যেনো ছোটোবেলায় পড়া রবীন্দ্রনাথের “বীরপুরুষ” কবিতার খোকা মনে হয় , যে কিনা বলছে-
এতো লোকের সঙ্গে লড়াই করে
ভাবছো খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে,লড়াই গেছে থেমে,
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে
বলছো, “ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিলো”
কি দুর্দশাই হত তা না হলে!!!!

লিখেছেন ঃ ডাঃ তানভির শুভ

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।