কোভিড -১৯ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলো আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১১ জুন ২০২০ , বৃহস্পতিবার

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিভিন্ন নির্বীজকরন যন্ত্র আবিষ্কার হচ্ছে। তবে সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে ব্যবহৃত জীবাণুনাশক যন্ত্রগুলো ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

জীবাণুমুক্তকরণ যন্ত্র গুলোর ব্যবহার:

জীবাণুমুক্তকরণ টানেল, বুথ এবং ঝরনা :
ব্যক্তি  চলাচলের সময় ২০-৩০ সেকেন্ড সময়ে টানেল,  বুথ ও ঝরনাগুলো ব্যক্তির উপর স্প্রে করে জীবাণুনাশক ছড়িয়ে দিয়ে কোনো  ব্যক্তির পোশাক বা ত্বকে থাকা ভাইরাস কে নিষ্ক্রিয় করতে চেষ্টা করে।

 

অতিবেগুনি রশ্মি-নির্গমনকারী  যন্ত্র:
অতিবেগুনি রশ্মি-নির্গমনকারী  যন্ত্র থেকে নির্গত রশ্মি  কয়েক মিনিটের মধ্যে ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। ওজোন স্তর হতে এ রশ্মি নির্গত হয়ে
এটি মানুষের ত্বকে পৌঁছে।

 

তবে এ রশ্মি জীবাণুমুক্তকারক হিসেবে ব্যবহার এর জন্য কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয় ।হাসপাতাল এবং বিমানে এ রশ্মি ব্যবহার করা হয়।


ভাইরাস ধ্বংসে যন্ত্রগুলো কার্যকরী হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই যন্ত্রগুলো শুধু ভাইরাসের বিস্তারকে আটকাতে সহায়তা করে না, ব্যবহারকৃত ব্যক্তির  ও ক্ষতি করতে পারে।

ব্রিটিশ-ভিত্তিক অকুপেশনাল মেডিসিন জার্নালের একটি প্রতিবেদন সতর্ক করেছে: “রাসায়নিক পদার্থ তরল আকারে প্রয়োগ করা গেলে নিরাপদ হতে পারে, তবে শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসে প্রবেশ করলে অত্যন্ত বিষাক্ত।”

এই জাতীয় টানেলগুলোতে সাধারণত ব্যবহৃত হয় এমন জীবাণুনাশক নিয়ে প্রতিবেদনে বলা ছিল, কর্নিয়ার সাথে রাসায়নিক পদার্থের সরাসরি সংযোগ চোখের ক্ষতি করতে পারে এবং ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে যে এ্যারোসোলাইজড কণাগুলি সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মিউকাস মেমব্রেন এর ( মুখ এবং নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণ) সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, শ্বাসকষ্টে জ্বালা, ফোলাভাব এবং আলসার সৃষ্টি করে ।কিছু রাসায়নিক পদার্থ রক্তে মিশে দেহ তন্ত্রকে  প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ,  কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট ।

ভাইরাসটি ধ্বংসে অতিবেগুনী বিকিরণ ব্যবহার করা হলে ১৫ মিনিট  প্রয়োজন হয় ,যা চোখ এবং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং এটি  ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

ডিউক-এন ইউ এস মেডিকেল স্কুলের ডাঃ ক্রিস্টেন কোলম্যান বলেছিলেন যে তিনি কোভিড -১৯-এর বিরুদ্ধে জনগণের সুরক্ষার জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতির নকশা প্রচেষ্টার প্রশংসনীয় তবে, “চরম স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ঝুঁকি রয়েছে বলে মানব দেহের জীবাণুনাশক যন্ত্র ব্যবহার উচিত নয়”।

বায়োএরোসোল গবেষণা বিশেষজ্ঞ বলেছেন: “রাসায়নিক জীবাণুনাশকগুলি মানুষের শরীরের বাইরের অণুজীবগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, তবে জীবাণুনাশকগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হলে মানুষের জন্য বিষাক্তকর। ইনহেলেশন এবং সরাসরি সংযোগ এর মাধ্যমে রাসায়নিক জীবাণুনাশকগুলির  সংস্পর্শে ত্বক, চোখ এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। ”

খাদ্য-গ্রেডের ইথাইল অ্যালকোহল এবং আইসোপ্রোপিনল, উভয় অ্যালকোহল ব্যবহার হ্যান্ড স্যানিটাইজার হিসাবে নিরাপদ তবে অধিক সময় ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি, মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে বলে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সিনিয়র সংক্রামক রোগ পরামর্শদাতা অধ্যাপক ডেল ফিশার বলেছেন, “এ জাতীয় ওয়াক-থ্রু টানেল কার্যকর হওয়ার কোনও প্রমাণ নেই। এমনকি জামাকাপড় এবং ত্বককে জীবাণুমুক্ত করার পরেও, কোভিড -১৯ এর ছড়াতে বাধা দেবে এমন প্রমাণ নেই ।” অধ্যাপক ফিশার বলেছিলেন যে ,ভাইরাস পরিধান করা পোশাকে থাকে না,  বরং সংক্রামিত ব্যক্তির ভিতরে রয়েছে।  রাস্তায় দূষিত পোশাকের সাথে ভাইরাসটি থাকে না। তিনি আরও যোগ করেছেন: “দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের পরিষ্কারের জন্য তৈরি করা জীবাণুনাশকগুলো মানুষ বা প্রাণীর উপর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেনি।” তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, কয়েক মাস ধরে দিনে কয়েকবার জীবাণুনাশক ব্যবহারের ফলে প্রদাহজনক পরিস্থিতি এবং ক্যান্সার হতে পারে।

ট্যান টক সেনগ হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী ড। ব্রেন্ডা আঙ্গা সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাও সুই হক স্কুল অফ পাবলিক হেলথের সহযোগী অধ্যাপক হু লিয়াং এর সাথে একমত হয়েছেন। প্রফেসর হু বলেন, জীবাণুনাশকগুলির ব্যবহারের উচ্চ মাত্রা বিরক্তিকর হতে পারে এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং তিনি আরও বলেন: “এই জীবাণুনাশক টানেলগুলি জনসাধারণের আস্থার জন্য যথোপযুক্ত নয়  এবং এর উপযুক্ত ব্যবহার আগে নিশ্চিত না করলে জনগণের ব্যবহারের জন্য কতটুকু নিরাপদ তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না “।

তথ্যসূত্র: The LANCET MICROBE &
SRAITS TIME GRAPHICS

Gowri Chanda

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

পেরিফেরি কথন - ৩: বালতি টেস্ট

Thu Jun 11 , 2020
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০ ডা. মোবাশ্বের আহমেদ মেডিকেল অফিসার পীরগাছা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, রংপুর পেরিফেরিতে গিয়ে প্রথম এই টেস্ট এর নাম শুনি। প্যাথলোজিষ্ট হাসতে হাসতে বলল, “স্যার এর অপর নাম উইন্ডো টেস্ট!” আমিতো রীতিমতো অবাক। এ আবার কি? এক রোগীর সিরাম-ইলেকট্রোলাইট করতে দিয়েছিলাম। সোডিয়াম লেভেল জানাটা চিকিৎসার জন্য খুব জরুরী […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট