কিভাবে এলো ATLS?

১৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৬ সাল, James K styner নামে একজন অর্থোপেডিক সার্জন যিনি ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রাকটিস করেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন শেষে নিজের পরিবার নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতে ফিরছিলেন নিজের প্রাইভেট জেটে। সাথে ছিলো তার স্ত্রী ও তিন সন্তান। ছোট প্লেনটা তিনি নিজেই চালাচ্ছিলেন। মেক্সিকোতে রিফুয়েলিং এর পর ক্যানসাস পার হয়ে মাত্র নেব্রাস্কাতে ঢুকেছেন । ভারী মেঘের সাথে যুদ্ধ করে করে একসময় তার বিমান দূর্ঘটনায় পতিত হলো। ১৬৮ কিঃমিঃ বেগে তার বিমান জঙ্গলে ক্র‍্যাশ করলো। তার স্ত্রী ঘটনাস্থলেই মারা গেলেন। তার তিন সন্তান অচেতন ছিলো মাথায় আঘাত নিয়ে আর স্টাইনারের নিজের বুকের পাজরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিলো। সেই অবস্থায়ই তিনি জঙ্গলের পাশের রাস্তায় এসে একটা গাড়ি থামান, এবং গাড়ির আরোহীর সাহায্যে সবাই নিকটবর্তী হাঁসপাতালে গিয়ে পৌছান।

বাংলাদেশের মত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকেনা সেখানকার সব হাসপাতাল। কারন তাদের ছুটি আছে পরিবার আছে। বন্ধু বান্ধব আছে। যাদের বিয়েতে প্রাইভেট জেট নিয়ে বেড়াতে যান তারা।

যাই হোক, বন্ধ হাসপাতালের সবাইকে জড় করতে একটু বেগ পেতে হলো তাকে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন সেখানকার চিকিৎসকদের খুব অল্প জ্ঞানই আছে কিভাবে সিরিয়াস ট্রমা ম্যানেজ করতে হয়। বিশেষ করে তার বড় ছেলের cervical spine injury ম্যানেজ করতে চিকিৎসক তেমন কিছুই করলেন না। অথছ সেটা একটা প্রায়োরিটি ইস্যু। তিনি তখন তার পার্টনার ব্রুস মিলারকে ফোন করলেন । ব্রুস মিলার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা হেলিকপ্টারে তাদের ঐ হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করলেন।
সুস্থ হয়ে উঠার পরেই তিনি তৈরী করলেন এমন একটা সিস্টেম/ প্রটোকল যাতে খুব সীমিত রিসোর্স এর মধ্যে থেকেও serious trauma ম্যানেজ করা যাবে। তিনি বললেন,

When I can provide better care in the field with limited resources than my children and I received at the primary facility, there is something wrong with the system and system has to be changed.

তিনি তৈরী করলেন একটা তিন স্টেজের প্রটোকল যেটার মাধ্যমে কিভাবে একজন দূর্ঘটনায় পতিত লোককে সময়োপযোগী চিকিৎসা দেয়া যায় সেটা লিপিবদ্ধ আছে। এটার নাম দেয়া হলো – ATLS ( Advaced Trauma Life Support) .

তিনটা স্টেজের মধ্যে প্রথমেই করা হয় primary Survey যেখানে আহত ব্যাক্তির সকল vital signs assess করে সাথে সাথেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।
দ্বিতীয় ধাপে মাথা থেকে পা পর্যন্ত খুব ভালোভাবে পরীক্ষা অন্যান্য কোন আঘাত আছে কিনা দেখা যাকে বলা হয় secondary survey
তৃতীয় ধাপে আঘাতের উপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞের কেয়ার। যাকে বলা হচ্ছে Definitive care.
ATLS এর প্রবক্তা নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে যে সিস্টেম চালু করে গেছেন তা চলছে এখন পৃথীবীর অধিকাংশ দেশে। যা বাচাচ্ছে অনেক মানুষের জীবন।

লিখেছেনঃ
ডাঃ শুভ প্রসাদ
মেডিকেল অফিসার, নিটোর

ফয়সাল আবদুল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক হামলার বিরুদ্ধে আজ প্রতিবাদ সমাবেশ

Mon Jun 24 , 2019
বরগুনা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান (শেবাচিম ৩১তম ব্যাচ) কে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে এবং আসামী গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারাদেশের চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবীতে আজ ২৪ জুন ২০১৯ সকাল ১১ ঘটিকায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল এর প্রধান ফটকের সামনে সকল চিকিৎসক, ইন্টার্ণ ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহনে প্রতিবাদ […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট