এক্স রে এর সেকাল একাল..

১৮৯৫ সাল।যুগান্তকারী এক বছর।কারন ভুলক্রমে কিংবা দৈবক্রমে হলেও বিজ্ঞানী রন্টজেন আবিষ্কার করে ফেলেন এক্স-রে রশ্মি।সেই প্রথম এক্স-রেটা ছিলো একটা চাবির।আবিষ্কারের নেশায় বইটাতে কবে জানি পড়েছিলাম আজো মনে আছে।এই আবিষ্কারের কারনে ভাঙা হাড় কিংবা বুলেটের আঘাত খুব সহজেই বের করে ফেলতে পারলেন ডাক্তাররা।কিন্তু শতাব্দী পেরিয়ে গেলো, দাঁত আর টিউমারের এক্সরে প্রায় একই থেকে গেলো। এক্সরে সাদাকালো ছিলো,এখনো তাই আছে।কিন্তু তাই থাকবে কিনা সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবার।

একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ডাক্তার যদি সাদাকালো এক্স-রে’র বদলে রঙিন এক্সরে দিয়ে আক্রান্ত কোষ স্ক্যান করতে পারতেন তাহলে কেমন হতো? কালার এক্সরে ইমেজিং টেকনিক থাকলে আরো স্পষ্ট আর সঠিকভাবে রোগ ডায়াগনোসিস করা যেতো,সন্দেহ নেই।কিন্তু আমরা যখন এ চিন্তা মাথাতেও আনিনি ঠিক তখন নিউজিল্যান্ডের এক বাবা-পুত্রের কোম্পানি এই চিন্তাটাকে বাস্তবও করে ফেলেছে। একাজে সাহায্য নিয়েছে বিখ্যাত CERN(Conseil Européen pour la Recherche Nucléaire/ European Organization for Nuclear Research) এর একটি স্ক্যানারের।এই স্ক্যানারটা LHC( Large Hadron Collider) এ ব্যবহার করা হতো পার্টিকেল ট্র‍্যাকিং এর জন্যে।এটাকেই গত প্রায় দশ বছর যাবত উন্নত করার চেষ্টা করে মোটামুটি সফল হয়ে গেছেন বলা যায় নিউজিল্যান্ডের এই পারিবারিক কোম্পানি।কোম্পানিটির নাম মার্স বায়োইমেজিং।

এক্সরে কি? এইটা একটা তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। একই শক্তির তরঙ্গই যদি আরো ১০০০ গুণ ছোট হতো তাহলে আমরা তা দেখতে পেতাম। কিন্তু দৃশ্যমান আলো আমাদের শরীরের মধ্যে দিয়ে যেতে না পারলেও এই এক্সরে তা পারে(ভুতেরা এক্সরে দিয়ে তৈরি মেবি ?) ।মজা বাদ।
আমরা জানি যে ,এক্সরে সেনসেটিভ ফিল্ম বা সেন্সর একপাশে রেখে শরীরের অন্যপাশ দিয়ে এক্সরে প্রবাহিত করলে সেটা হাড়গোড়ে বাধা পায় বলে তা দেখায় সাদা,নরম টিস্যুতে বাধা প্রায় পায়না বলে কিছুটা গ্রে আর বাতাস যেখানে সেখানে কোন বাধা পায় না তাই কালো দেখায়।

এখন এই উন্নত এক্সরে মেশিন যেটা মার্স বায়োইমেজিং কোম্পানি বানালো তা স্পষ্টভাবে হাড়,নরম টিস্যুসহ শরীরের অন্যান্য জিনিসকে চিনে নিয়ে কালারফুল একটা চিত্র তৈরি করতে পারে। কারন এটা একটা পাওয়ারফুল চিপ ইউজ করে যার নাম Medipix3। আর মেশিনটার নাম দেয়া হয়েছে MARS Spectral X-ray Scanner। তো এই চিপটা ডিজিট্যাল ক্যামেরার চিপের মতোই-একটু উন্নত ধরনের তো অবশ্যই।তার উপর এটা সার্নের LHC তে ব্যবহৃত পার্টিকেল ট্র‍্যাকিং সেন্সর থেকে ডেভেলপ করা হয়েছে।এই চিপটা পিক্সেলকে হিট করা প্রতিটি ফোটনকে কাউন্ট করতে তো পারেই সেইসাথে তাদের এনার্জি লেভেলও ডিটেক্ট করতে পারে।

এই মেশিন বানাতে দশ বছর পরিশ্রম করেছেন বাবা-পুত্রের এই কোম্পানি বা দল যাই বলি।বাবা ফীল বাটলার, নিউজিল্যান্ডের কেন্টারবুরি ভার্সিটির ফিজিক্সের আর ছেলে অ্যান্থনি বাটলার,রেডিওলজিস্ট, ওটাগো ইউনিভার্সিটি।কিছুদিন আগে এই স্ক্যানার মেশিনটার একটা ছোট সাইজের মেশিন বানানো হয়েছে যেটা দিয়ে ফিল তার কব্জি আর গোড়ালির এক্সরে করেন।

ইয়েপ।পৃথিবীর প্রথম রঙিন এক্সরে।

তথ্যসূত্র এবং বিস্তারিত: –

1) https://www.smithsonianmag.com/smart-news/check-out-these-awesome-new-3d-full-color-x-rays-180969626/

2) https://home.cern/about/updates/2018/07/first-3d-colour-x-ray-human-using-cern-technology

লেখক:

হাসনাত বিন জুবায়ের
ফমেক,সেশন: ২০১৬-১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

MRCOG : the gold standard qualification of O & G

Tue Jul 24 , 2018
MRCOG : the gold standard qualification of O & গাইনোকোলোজিতে যারা ক্যারিয়ার করতে চান তাদের একটি বড় অংশ MRCOG এর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে থাকেন । অনেকে বিভিন্ন সময়ে MRCOG নিয়ে জানতে চেয়েছেন । তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব । ◾MRCOG কী ? Member/Fellow of the Royal College of Obstetricians […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট