মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬৫ কার্তিক ১৪৩৩ · ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
হেলথ টিপস

আপনার খাবার : দাঁতের বন্ধু না শত্রু !!

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০১৬, ২:২৯ · ৪ মিনিটে পড়ুন
আপনার খাবার : দাঁতের বন্ধু না শত্রু !!
লেখার আকার

পাঠক, এমন একটি খাবারের নাম ভাবুন তো, যা আপনার দাঁতের শত্রু? উত্তর প্রায় সবারই জানা। চকলেট, মিষ্টি, কোমল পানীয় – তাই তো?
এবার দাঁতের একটি “বন্ধু” খাবারের নাম ভাবুন। এটা কিছুটা অপরিচিত ঠেকছে, তাই নয় কি? জ্বী পাঠক, দাঁতের “শত্রু” খাবার যেমন আছে, তেমনি দাঁতের “বন্ধু” খাবারের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়!

যেমন, ললিপপের কথাই ধরা যাক। সুকরোজ (Sucrose) মিশিয়ে তৈরি করা ললিপপ দাঁতের জন্য ক্ষতিকর, কারণ সুকরোজ দাঁতের সবচেয়ে বেশি ক্ষয় করে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান রাজ্যের বাসিন্দা, ১০ বছর বয়সী ক্ষুদে উদ্যোক্তা Alina Morse, “Zollipop” নামে এমন এক ললিপপ তৈরি করেছে, যা নিশ্চিন্তে খেতে পারবে সবাই, দাঁত ক্ষয়ে যাবার ভয় নেই।
পার্থক্য একটাই, ওতে Sucrose এর বদলে যোগ করা হয়েছে Xylitol, Erythritol আর Stevia। এরকম chewing gum তৈরির কাহিনী অবশ্য নতুন নয়, তবে ললিপপ এটিই প্রথম!

zollipops-2152402-regular

তাহলে দেখা যাচ্ছে, একই খাবার, তার তৈরির উপাদানভেদে দাঁতের ক্ষতি করতেও পারে, আবার না-ও করতে পারে। দাঁতের ক্ষতি না করলে সেটাকে আমরা বলি “tooth-friendly খাবার”।

আর এখন sugar এর ক্ষতির মাত্রা বিবেচনা করে এর বিভিন্ন বিকল্প (substitute) ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন-
১) Xylitol (এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত)
২) Erythritol
৩) Sorbitol
৪) Maltitol
৫) Isomalt
৬) Isomaltulose
৭) Sucralose
৮) Tagatose
৯) Stevia
১০) Aspartame, ইত্যাদি।
এসব বিকল্প ব্যবহারে দাঁতের ক্ষতি তো হবেই না, স্বাদেও কমতি হবে না। সুতরাং, প্যাকেটজাত মিষ্টি খাবার কেনার সময় ওপরে দেওয়া নামগুলো মাথায় রাখুন।

কোনো খাবার দাঁতের জন্যে ভাল, না মন্দ – কীভাবে বোঝা যাবে?

-মূলত দাঁতে লেগে থাকা খাদ্যকণা (বিশেষত শর্করা) মুখে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গাঁজিত (fermentated) হয়ে অ্যাসিড তৈরি হয়। এই অ্যাসিডই দাঁতকে ক্ষয় করে ফেলে।
সুতরাং, যেসব খাবার-
● মুখের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা fermentate হয় না,
● দাঁতের গায়ে বা ফাঁকে ফাঁকে দীর্ঘসময় আটকে থাকে না, বরং মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে (detergent action)
● মুখে লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি করে দন্তক্ষয় প্রতিরোধ করে
– সেসব খাবারকে উপকারী(tooth friendly) বলা যেতে পারে।

কোন্ খাবারগুলো tooth friendly, অর্থাৎ দাঁতের জন্যে উপকারী?

●অপরিশোধিত শর্করা, যেমন- লাল চালের ভাত, আটার রুটি।
●আঁশসমৃদ্ধ খাবার, যেমন-
○ফল – পেয়ারা, আম, আপেল(খোসাসহ), নাশপাতি(খোসাসহ), কলা, কমলা, খেজুর, স্ট্রবেরি, আখ।
○শাকসবজি – শালগম, আলু, গাজর, মটরশুঁটি, টমেটো, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক, ব্রকোলি, সেলেরি।
○ডাল
○ওটস (oats)
○বাদাম – আমন্ড, পেস্তা, চিনাবাদাম, আখরোট।
●পনির (Cheddar, Swiss, Mozzarella)
●Black tea.
– এসব খাবারে “tooth friendly” খাবারের বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে।

অপরপক্ষে চিনিযুক্ত স্ন্যাকস, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়, পাউরুটি, মিষ্টি, বিসকিট, কেক, চিপস, ক্র্যাকারস জাতীয় খাবার যথেচ্ছভাবে খেলে দাঁতের ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু তাই বলে এসব খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করা-ও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এক্ষেত্রে যা করণীয় –

●এসব খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ কোন উপলক্ষ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
●আপনার বাচ্চা কে মিষ্টি জতীয় দ্রব্য খেতে দিন তার মিল টাইম এর আগে অথবা মিল এর সাথে এবং খাওয়ার পরপরই দাঁত ব্রাস করে ফেলতে বলুন। আর তা সম্ভব না হলে অন্তত ভালোভাবে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে বলুন এবং একই অভ্যাস আপনি নিজেও গড়ে তুলুন।
●পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে।
●দিনে অবশ্যই দু’বার দাঁত ব্রাস করতে হবে। মাঝেমাঝে ফ্লস এবং মাউথওয়াস ব্যবহার করা ভাল।
অনেকেই রাতে ব্রাশ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন ,এই ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করুন
●প্রতি ৬ মাস পরপর ডেন্টিস্টের কাছে চেক-আপ করাতে হবে।

সুতরাং পাঠক, দাঁতের সুস্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে খাদ্য গ্রহণ করুন। দাঁতের প্রতি যত্নশীল হোন। তাহলে, আপনার দাঁতও সারাজীবন আপনার সঙ্গী হয়ে থাকবে, অকালে দাঁত হারাতে হবে না।

Reference:
1. www.dentalhealthweek.com
2. en.m.wikipedia.org
3. everydayhealth.com
4. Textbook of preventive and community dentistry by SS Hiremath
5. zollipops.com

 

লিখেছেন ঃ ইফফাত সামরিন মুনা
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ (৪র্থ বর্ষ)

ট্যাগ:Healthy teeth
খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

স্ক্যাবিস: একটি চর্মরোগ

স্ক্যাবিস (Scabies) হলো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত বিরক্তিকর চর্মরোগ, যা Sarcoptes scabiei নামক ক্ষুদ্র আকারের পরজীবী মাইটের (mite) আক্রমণে হয়। এটি একটি সংক্রামক রোগ, যা সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা বা তোয়ালে থেকে ছড়াতে পারে। স্ক্যাবিস…

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশে প্রথম ৫ জন রোগীর মধ্যে রিও ভাইরাস শনাক্ত

দেশে প্রথম বারে ৫ জন রোগীর রিও ভাইরাস শনাক্ত করা গেছে। এই ভাইরাস নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত করেছে ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর)। তবে তেমন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় নি এবং রোগীরা নিশ্চিন্তে বাড়ি চলে গেছে। তবে আমাদের…

১০ জানুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

‘প্যারাসিটামল’ অনেক সময় পেটব্যথাজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

প্যারাসিটামল একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ যা মূলত জ্বর এবং মৃদু থেকে মাঝারি ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অ্যানালজেসিক ও অ্যান্টিপাইরেটিক ওষুধ হিসেবে পরিচিত। যদিও এটি সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, তবুও অতিরিক্ত ব্যবহার বা দীর্ঘমেয়াদী সেবনে বিভিন্ন…

৫ জানুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।