বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এবং পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় ওই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগেই অন্য হাসপাতালে রেফার হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা রোগীকে নিয়ে বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে পুনরায় রোগীকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে আসা হয়।
রোগীকে জরুরি বিভাগে আনার সাথে সাথেই কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়। তবে রোগীর কোনো পালস না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদা রানী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যু ঘোষণার পরপরই অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তারা জরুরি বিভাগের ডাক্তারদের চেম্বার, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
হামলা ও ভাঙচুরের পর জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় সেবা নিতে আসা অন্যান্য সাধারণ ও মুমূর্ষু রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
কর্মস্থলে এমন হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে জীবন বাঁচাতে এসে উল্টো চিকিৎসকদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজেদের চরম অরক্ষিত মনে করছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।
তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত