রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ কর্তৃক চিকিৎসক ভিজিট এবং নৈতিকতাবোধ

মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন হতে, চিকিৎসা পেশা একটি মানবিক এবং মহৎ পেশা হিসেবে সমাজে স্বীকৃত পেশা। আর তাই দল মত নির্বিশেষে সবাই চিকিৎসা পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে সম্মানের চোখে দেখেন। আর সে জন্য চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উন্নত নৈতিক চরিত্রের এবং  মানবিক গুণ সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। আর সে জন্য সকল চিকিৎসক এবং নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে “মেডিক্যাল এথিক্স” অনুসরণ করে স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে হয়।

চিকিৎসক হিসেবে প্রত্যেক চিকিৎসকের দায়িত্ব অগ্রধিকার ভিত্তিতে রোগীর স্বার্থ রক্ষা করা এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া। নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য টেকনিশিয়ানরাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বীয় দায়িত্ব অনুযায়ী রোগীকে সার্ভিস দেয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসককে সহযোগিতা করে থাকেন।

রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাই একজন চিকিৎসক তার অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সম্ভব স্বল্পতম খরচের মধ্যে প্রয়েজনীয় অত্যাবশ্যক ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে রোগ নির্নয় করে এবং সম্ভব স্বল্পতম খরচের মধ্যে চিকিৎসা তথা “ঔষধ” প্রেসক্রাইব করে থাকেন।

ঔষধ কোম্পানি সমূহ তাদের উৎপাদিত ঔষধ বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে, চিকিৎসকদের চেম্বারে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি (এমআর) গণ চিকিৎসকদের কাছে নতুন প্রোডাক্ট পরিচিত করার উদ্দেশ্যে ভিজিট করে থাকেন।

তাছাড়া ঔষধ কোম্পানির স্পন্সরশীপে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাইন্টিফিক সেমিনার কিংবা সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং তারাও প্রকারান্তে চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করে থাকে।

তবে কখনো কখনো চিকিৎসক এবং ঔষধ কোম্পানির মধ্যকার এই সম্পর্ক যখন সীমাকে অতিক্রম করে, যখন কোম্পানী সমূহ চিকিৎসকদেরকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে ব্যবহার করার জন্য চিকিৎসকদেরকে বিলাসী সামগ্রী গিফ্ট বা উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করে তখন নৈতিকতার প্রশ্নটি উঠে আসে।

পক্ষান্তর চিকিৎসা শিক্ষার উদ্দেশ্যে আয়েজিত সাইন্টিফিক সেমিনার বা আন্তর্জাতিক সম্মেলন গুলো আয়োজনে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির সহযোগিতাকে কোন ভাবে অবমূল্যায়ন করার অবকাশ নেই।   তবে বর্তমানে এক্ষেত্রে ঔষধ কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন নিয়ে নৈতিকতাবোধ মূল্যায়নের প্রশ্ন উঠে এসেছে।

আর এ কারণেই ঔষধ কোম্পানি কর্তৃক আয়োজিত এসব অনুষ্ঠান ঔষধ কোম্পানির ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হলেও এথিক্যাল পয়েন্ট বা নৈতিক ভাবে এসব কর্মকাণ্ড আইনগতভাবে কতটা গ্রহনযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসক এবং ঔষধ কোম্পানির মধ্যে সম্পর্কটা পিউরলি পেশাগত। এবং তা এটুকুর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু যদি কোন ঔষধ কোম্পানির অনৈতিক কোন গিফ্ট বা উপঢৌকন চিকিৎসককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করে কিংবা রোগী যদি চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের কারণে কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তা হলে তার এ ধরনের কর্মকান্ড পেশাদারী নৈতিকতাবোধের পরিপন্থী।

চিকিৎসক এবং ঔষধ কোম্পানির মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকায় এটা নিয়ে প্রায়শঃই বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে।  বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে চিকিৎসকদের উপর ঔষধ কোম্পানির অনৈতিক প্রভাব ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি ডিজিএইচএস হতে সপ্তাহে দু’দিন চিকিৎসকদের ভিজিট করার জন্য ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভদের অনুমতি দিয়েছে। এই আদেশের মাধ্যমে ঔষধ কোম্পানির সাথে চিকিৎসকদের যোগাযোগ সৃষ্টি হবে এবং চিকিৎসকরা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির নতুন নতুন প্রোডাক্ট বা ঔষধ সম্পর্কে জানতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভরা যাতে অল্প সময়ে বেশী চিকিৎসকের কাছে / দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে পারেন বিশেষ করে জেলা হাসপাতাল অথবা বিশেষায়িত হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সে জন্য  আমার পরামর্শ তুলে ধরছি।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে এবং  দিনে মেডিকেল রিপ্রেজেনটিভরা ডাক্তারদের ডোর টু ডোর ভিজিট এর পরিবর্তে যদি একটি হল রুমে সেমিনার করে কোম্পানির প্রডাক্ট সম্পর্কে বর্ণনা করা হয় বা প্রমোশন করা হয় তা হলে সেটা অনেক বেশী সময় ও পরিশ্রম সাশ্রয়ী হবে বলে আমি মনে করি।

তবে, এই সেমিনারের জন্য কোম্পানিগুলো আগের থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিডিউল নিতে হবে। প্রতি সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত এক একদিন এক একটা কোম্পানি তার অডিও – ভিজুয়াল এইডস্ ব্যবহার করে তাদের প্রোডাক্ট প্রমোশন করবে। এক্ষেত্রে তাঁরা সেমিনার হলে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, ডিসপ্লে বোর্ডের ব্যবস্থাও করতে পারেন।

আশা করি, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে একদিকে চিকিৎসকরা যেমন নতুন নতুন ঔষধ সম্পর্কে আপডেটেড হবেন তেমনি ঔষধ কোম্পানি গুলোও সহজে অনেক চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে পারবে। আর সেই সাথে অনেক বিতর্কের অবসান হবে বলে আমি মনে করি।

লেখা :ডা.আজাদ হাসান

সিওমেক-২১

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।