প্ল্যাটফর্ম সাহিত্য সপ্তাহ -৩৫
” অপেক্ষা “
লেখকঃ
এ এম আসিফ রহিম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
এইমাত্র ক্লাস শেষ হল।দেখতে দেখতে পিন পতন নিস্তব্ধতা ভেদ করে নির্জন করিডোর আবার কলকাকলীতে মেতে উঠলো ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে। সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই আবিদের! সমগ্র অবয়বে বিষন্ন অভিব্যক্তি মেখে নির্লিপ্ত হয়ে ঠাই বসে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নির্জন লেকচার গ্যালারীতে। আজ ক্লাসে ঢোকার পর থেকে তার চোখজোড়া সার্চ লাইটের মত হন্য হয়ে খুজেছে গ্যালারীর অন্যপাশে মেয়েদের স্থানে হৃদয়ের অনামিকা নীলাকে। নাহ নীলা আজ ক্লাসে আসেনি। ভাবতেই বুকের ভেতর টা কেমন যেন চিনচিন করে উঠলো। অথচ বেশিদিন হয়নি নীলার সাথে পরিচয়। কেন এত কস্ট? তাহলে কি নীলাকে ও ভালবেসে ফেলেছে? এনাটমি ডিসেকশন হলে পেন্ডিং আইটেম দিতে গিয়ে নীলার সাথে দেখা। এমন কিছু আহামরি সোন্দর্য্য নেই! ভারী একখানা সাদাসিধে মুখ দেখেই উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া হৈমন্তী কে মনে পড়ে গেল। ওর মুচকি হাসি ভাবলে বুকে ঝড় উঠে বড্ড মোহনীয়! একদিন এবডোমেন কার্ডের পর নীলার সাথে ডিসেকশন হলে অনেকক্ষন আলাপ হয়েছিল। ওর দিকে তাকালেই আবিদ যেন শুনতে পায় সোলসের সেই জনপ্রিয় গান ” মন শুধু মন ছুয়েছে — ” প্রতিদিন ওর ভাবনায় নীলা সারাক্ষন জুড়েই থাকে। অনেকদিন নীলাকে তার মনের আকুতি জানাতে চেয়েছে কিন্তু যতবারই বলতে গেছে ততবারই সদ্য কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাংস্কৃতিক সপ্তাহে কবিতায় প্রথম হওয়া জওয়াহের ভায়ের কবিতা ভীরু ভালবাসার দুটি লাইন মনে যায় ” হঠাত করে বলতে গেলে উলটো হলে? হবেটা কি? ”
আজ ফিজিওলজি ক্লাস নিচ্ছিলেন গুলশান ম্যাডাম। চেয়ারে বসে অনবরত মুখস্থ আউড়ে যান খুব বোরিং। হঠাত আবীরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন ” এই যে থার্ড রো কর্নার স্ট্যান্ড আপ ” ম্যাডাম পড়ার ফাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বললেন ” বলতো ইভেন্ট what are the event of systole ? ” আবিদের পালটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হল ” আচ্ছা ম্যাডাম বলুন তো what are the events of love ” কিন্তু কিছুই বলতে পারল না। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। অন্যসময় পড়া না পারলে আবিদের খুব কস্ট হয় রুমে গিয়ে একাকি বিছানায় কেদে বুক ভাসাত। কিন্তু আজ তেমন কিছুই হল না। ভালবাসা বুঝি মানুষকে এমনি করে বদলিয়ে দেয়। এতক্ষনে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাড়াল আবিদ। কানিংহ্যাম আর বিডির বই বুকে চেপে করিডোর দিয়ে ডিসেকশন হলের দিকে যেতেই দেখল মাঝখানের মাঠে একটি রক্তলাল গোলাপ ফুটে সুর্য্যের হাসিতে হেসে উঠেছে সেদিকে তাকিয়ে আবিদ ভাবলো কবে এভাবে নীলার হৃদয়ে তার ভালবাসা হেসে উঠবে এক হয়ে।
The quiet lecture gallery makes Abid’s unease feel more immediate than any dramatic declaration could. His searching for Neela among the seats, followed by the small physical ache when she is absent, captures how quickly a new connection can occupy someone’s thoughts. The contrast between the noisy corridor and his inward stillness also gives the scene emotional shape. That sense of waiting seems especially fitting for a story built from an ordinary meeting in the anatomy hall.