• গাইডলাইন

October 16, 2016 10:39 pm

প্রকাশকঃ

লিখেছেন ঃ জাহিদ হাসান, প্ল্যাটফর্ম ক্যারিয়ার উইং চিফ

Life VS Dream! !
Post-Graduation in Asia after MBBS!
ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং করার সুবাদে কমন কিছু প্রশ্ন প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে যা এখানে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ
ইতিপূর্বে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন সম্পর্কিত আর্টিকেল পড়ে আশা করি আমরা বুঝতে পেরেছি যেকোন দেশেই ক্লিনিক্যাল ক্যারিয়ার করতে হলে প্রথমেই সে দেশের মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্ধারিত লাইসেন্স এক্সাম পাশ করতে হয়।
তবে গতানুগতিক এই নিয়মের বাহিরেও কিছু দেশে ক্লিনিক্যাল, প্যারা-ক্লিনিক্যাল এবং নন-ক্লিনিক্যাল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন করার সুবিধা রয়েছে। তবে এই সুযোগটির জন্য প্রত্যেকটি দেশের নিয়ম কান্ট্রি টু কান্ট্রি ভ্যারি করে। সে জন্যই মূলত এই আর্টিকেল।
INDIA:
এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন এর জন্য অন্যতম প্রধান পছন্দ হচ্ছে ইন্ডিয়া।
ইন্ডিয়ার মেডিকেল কাউন্সিল (MCI- Medical Council of India). এবং ইন্ডিয়ার লাইসেন্স এক্সামও MCI. অনেকেই প্রশ্ন করেছেন ইন্ডিয়ার পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন সিস্টেম টা কিরকম। কেউ কেউ হয়ত ভাবছেন MCI পাশ করলেই বোধহয় ইন্ডিয়ার লাইসেন্স পাওয়া যায়।
একমাত্র ইন্ডিয়ান নাগরিক হয়ে থাকলে কেবল তখনই আপনি এই MCI দিতে পারবেন! আমাদের দেশে ইন্ডিয়া থেকে যারা এমবিবিএস করতে আসে তারা কোর্স শেষে নিজেদের দেশে MCI পাশ করে ডাক্তার হয়।
তার মানে আপনি কখনোই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল রেজিস্টার্ড ফিজিশিয়ান কখনোই হতে পারবেন না। তবে ফরেইন ফিজিশিয়ান দের জন্য তাদের কিছু পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন এর অপশন আছে।
1. MD/MS in AIIMS (All India Institutte of Medical Science)
2. MD/MS in JIPMER (Jawahrlal Institute of Postgradute Medical Education and Research)
3. MD/MS by DNB (Diplomate of National Board)
AIIMS/JIPMER যেখানেই আপনি MD/MS করতে চান আপনাকে একটি ডিপ্লোম্যাটিক ওয়ে ফলো করতে হবে। AIIMS/JIPMER এ সরাসরি ফরেইন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটরা এপ্লাই করতে পারেনা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর যার যার দেশের ডিপ্লোম্যাটরা যাদের সিলেক্ট করবে শুধুমাত্র তারাই এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে আপনার করনীয় প্রথমেই আপনাকে মিনিস্ট্রি অফ হেলথ এ গিয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। যদি আপনাকে সিলেক্ট করা হয় তবে তারাই আপনার যাবতীয় কাজগুলো করবে। আর আপনি যে কোঠায় পরীক্ষা দিবেন সেটা ফরেইন কোঠা/ স্পন্সরড কোঠা বলে পরিচিত। সেই কোঠায় এশিয়ার দেশ গুলোর ক্যান্ডিডেটদের মাঝে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় যারা সর্বোচ্চ নাম্বার পাবে তাদেরকেই AIIMS/JIPMER থেকে বাছাই করা হবে MD/MS এর জন্য।
Duration: 3 Years
Post during MD/MS: Junior Resident
Question: 200 MCQ
Duration of Entrance exam: 3 Hours
Negative marking: 1/3
প্রতি বছর মে এবং নভেম্বর মাসে হয় এই পরীক্ষা। ফরেইন কোঠায় আপনি শুধুমাত্র একটি সাবজেক্টে MD/MS করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রতি বছর আপনি ৩০ দিনের লিভ পাবেন। প্রতি ৬ মাস পরপর এসেসমেন্ট হবে রেসিডেন্টদের যদি তাদের স্যাটিস্ফেক্টরি না হয় তবে আপনাকে কিক আউট করতে পারে কোর্স থেকে।
১ বছরের মাঝে কোর্স লিভ করলে ৫০ হাজার রুপি ফাইন দিতে হয় এবং ১ বছর পর কোর্স লিভ করলে ১ লাখ রুপি ফাইন দিতে হয়।
কোর্সের সময় যাবতীয় খরচ বাংলাদেশ সরকার আপনাকে বহন করবে। এটা এক ধরনের সরকারী স্কলারশীপের মতই।
কোর্স শেষে আপনাকে দেশে ফিরে আসতে হবে। তবে কখনো কখনো ২ বছরের জব করার অনুমতি দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার নিজের দেশের সরাকারের আন্তরিকতা প্রয়োজন।

MD/MS by DNB:
এটা ইন্ডিয়ার অটোনোমাস সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত। DNB তে ফরেইন ফিজিশিয়ানদের জন্য কোন এক্সাম দিতে হয়না। তবে এটা খুব ব্যায়সাপেক্ষ একটি ব্যাপার।
সাধারনত এভাবে এমডি/এমএস করতে গেলে ২৫-৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়। তবে এই এমডি/এমএস MCI দ্বারা স্বীকৃত। বিভিন্ন এজেন্সি / মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে সরাসরি নিজেই এপ্লাই করতে পারেন।
এছাড়াও ইন্ডিয়াতে ICMR-(Indian Council for Medical Research) নামে একটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট আছে যেখানে আপনি বিভিন্ন রিসার্চ কোর্স করতে পারেন। এছাড়াও এই ইন্সটিটিউটে অনেক গুলো ক্লিনিক্যাল এবং বেসিক সাইন্সের Ph.D করার যায়।
ইন্ডিয়াতে MHA (Masters in Hospital Administration) কোর্স বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে করা যায়। এছাড়াও সিংগাপুর,মালয়েশিয়ায় এই কোর্স করে ভাল জব অফার পাওয়া যায়।

Phillipine:
অনেক এজেন্সীর কালারফুল প্রস্পেক্টাসে দেখে থাকবেন ফিলিপাইনে পোস্টগ্র্যাজুয়েশনের কথা। ফিলিপাইনে আপনি খুব সহজেই এমডি/এমএস করতে পারবেন। সব মিলিয়ে খরচ হতে পারে ১৫-২০ লাখ টাকা। কিন্তু এটার ভ্যালু খুবই কম। আপনি যে ইউনিভার্সিটি/ যে হসপিটালের যেই কোর্স এ যাচ্ছেন যাবার আগে বিএমডিসি রিকগনিশন লিস্ট অবশ্যই দেখে যাবেন যে সেই ইউনিভার্সিটির সেই কোর্স বিএমডিসি রিকগনাইজড কিনা। তানাহলে পরবর্তীতে আপনি কোর্স শেষে বাংলাদেশ এর কোন ভ্যালু পাবেন না।

Japan:
জাপান ফিজিশিয়ানদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বর্তমানে। এশিয়ান দেশ গুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশী রিসার্চ হয় জাপানে। এখানে পড়াশুনার পদ্ধতিটাও একটু ভিন্ন।
জাপানে এমডি মানে এমবিবিএস সমমান। এরপর পোস্টগ্র্যাজুয়েশন বলতে শুধুমাত্র পিএইচডি কেই বুঝায়। আপনি বেসিক সাবজেক্ট এ পড়াশুনা করতে চাইলে পিএইচডি করতে হবে সেই সাবজেক্ট এর উপর, আবার ক্লিনিক্যাল পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করতে চাইলেও সেই বিষয়ের উপর জাপানে পিএইচডি করতে হবে।
পিএইচডি কোর্সগুলো মূলত রিসার্চ বেজড হয়। বেসিক সাবজেক্ট এ পিএইচডি করতে চাইলে বেসিক লাইনে রিসার্চ করতে হবে ক্লিনিক্যাল পিএইচডি করতে গেলে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ করতে হয়। জাপানে ক্যারিয়ার সুইচ করার আগে অবশ্যই রিসার্চ এর প্রতি ডেডিকেশন থাকতে হবে। তানাহলে আপনি সেখানে সারভাইভ করতে পারবেন না।
ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটরা জাপানে নট এলাউড। আপনার এমবিবিএস এর পর যেকোন একটা ডিগ্রী থাকতে হবে। যেমন ধরুন আপনি এমবিবিএস এর পর MPH করলেন, সো আপনি এখন জাপানে এপ্লাই করতে পারবেন। এমবিবিএস এর পর তারা অতিরিক্ত এক বছরের শিক্ষা জীবন রিকোয়ার করে।
জাপানে সবাই স্কলারশিপে পড়তে যায় কেননা সেখানে জীবন যাত্রার মান অনেক উন্নত এবং ব্যায়সাপেক্ষ। ইউরোপের মত জাপানে পার্ট টাইম জব করা যায়। কিন্তু একটা কথা সারা বিশ্বের যেকোন কোর্সের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যে পার্ট টাইম জব করে কখনো টিউশন ফি ম্যানেজ করা যায়না, বড়জোর পকেট মানি, লিভিং এবং একোমোডেশন ম্যানেজ করা যায়।
স্কলারশিপের জন্য কিছু অতিরিক্ত যোগ্যতা দেখাতে হয় যেমন ধরুন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি হতে পারেঃ
IELTS/TOEFL, GRE/GMAT. তারপর যেহেতু জাপানের পড়াশুনা রিসার্চ বেজড সুতরাং পাবলিকেশন বের করার চেষ্টা করুন। যদি পাবলিকেশন না থাকে তবে বিভিন্ন রিসার্চারের সাথে কাজ করে ১টা অথরশিপ নিতে পারেন। যদি সেটাও না থাকে তবে বারডেম, পিজি, আইসিডিডিআরবি তে কিছু রিসার্চ প্রজেক্ট এ ভলান্টিয়ারিং করে এক্সপেরিয়েন্স নিন সেটাও আপনাকে হেল্প করবে। তারপর গতানুগতিকভাবে ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে প্রফেসর স্যারদের মেইল করতে শুরু করুন। মনে রাখবেন আপনি রিসার্চ বেজড পড়াশুনার জন্য এপ্লাই করছেন সুতরাং রিসার্চ এর কিছু হলেও আপনার লাগবে। তাই আপনার যদি রিসার্চ এর কিছুই না থাকে তবে কমপক্ষে প্রফেসর স্যারদের কে মেইল করার আগে একটি রিসার্চ প্রপোজাল জুড়ে দিন। প্রপোজাল পছন্দ হয়ে গেলে স্যার নিজেই আপনাকে ইউনিভার্সিটি থেকে ফান্ডিং দিয়ে জাপানে নিয়ে যাবেন।
জাপানে পিএইচডি করার পর আপনি সেখানে হাইলি পেইড স্যালারী তে জব করতে পারবেন। জব অনেকটা এভেইলএবল । সুতরাং দুশ্চিন্তার কারন নেই। একটু ডেডীকেশন থাকলে জাপানে আপনি ইউরোপ/ আমেরিকার মত ক্যারিয়ার করতে পারবেন।

China:
চায়নাকে বর্তমান সময়ে অনেকেই পোস্টগ্র্যাজুয়েশনের জন্য বাছাই করে থাকে। ১০-১৫ লক্ষ টাকা সেলফ-ফান্ড থাকলে এমডি/এমএস করা যায় । এখন চায়নাতে ইংলিশ কারিকুলামে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করা যায়। বাংলাদেশে চাইনিজ এমডি/এমএস কে ডিপ্লোমা সমমান ভ্যালু করে।
আর স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আপনার ভাল সিজিপিএ, সিভি, এবং ভাল একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে স্কলারশিপ পেতে পারেন। চায়নাতে স্কলারশিপ ব্যাপারটা খুব কঠিন না। বিশেষ করে এমডি/এমএস এর জন্য। চায়নার একটি বিশেষত্ব হচ্ছে সেখানে রোবোটিক সার্জারি করা হয় এবং রোবোটিক সার্জারীর উপর ট্রেইনিং নেওয়া যায়, যেটা এশিয়াতে আর কোথাও সচরাচর হয়না। চায়নাতে আপনি রোবোটিক সার্জারী শিখে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম রোবোটিক সার্জারী শুরু করতে পারেন!!
চায়নাতে বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি Ph.D প্রোগ্রাম রান করে। কিন্তু বিএমডিসি সব ইউনিভার্সিটির পিএইচডি রিকগনাইজ করেনা। শুধুমাত্র শেনডং, সুচু এবং হেবেই ইউনিভার্সিটির পিএইচডিকে বিএমডিসি রিকগ্নাইজ করে।
*মালয়েশিয়া এবং সিংগাপুর নিয়ে ইতিপূর্বে একটি আর্টিকেল লেখা হয়েছিল।

উচচশিক্ষার জন্য হায়ার স্টাডি এব্রড ব্যাপারটা একটু কষ্টের । কিন্তু ধৈর্য্য সহকারে নিজের সবটুকু ইফোর্ট দিলে পুরু ব্যাপারটা খুব বেশি কঠিন কিছু না। কখনো এমন মনে হয় জীবন বুঝি এখানে থেমেই গেল! আসলে মূলত জীবন সেখান থেকেই শুরু হয় ! সেখান থেকে সব আবার শুরু করুন আপনি জিতে যাবেন !
Life is a full of magic box! Everything is possible if you can grab!

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ life vs dream, Post-Graduation in Asia,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 5)

  1. Sourav Raj says:

    Malaysia r singaporer link ta den keu??

  2. Dr.moniruzzaman says:

    MD/

    MS

  3. Arif says:

    Plz give me the link for Singapore?




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.