সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

৪০ ভাগ চিকিৎসক আসলেই কি অনুপস্থিত?

৪০ ভাগ চিকিৎসক আসলেই কি অনুপস্থিত?

একটা মারাত্নক স্টান্টবাজি শুরু হয়েছে। স্টান্টের ধরণ এবার রাজনৈতিক না হলেও প্রশাসনিক।

দুঃখ হলো এই স্টান্টের খড়গ নেমে এসেছে শুধু ডাক্তারদের উপর। আবার ডাক্তার বিদ্বেষী জনতার কাছে ফেইসবুকে এই স্টান্টবাজির খবর চড়া দামে বিক্রী হচ্ছে, মানে লাইক/শেয়ার হচ্ছে!!

চিকিৎসকরা ফাঁকিবাজ।
চিকিৎসকরা ডিউটি করে না।
চিকিৎসকরা গ্রামে থাকে না।
চিকিৎসকরা অননুমোদিত ভাবে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন।

আপনি উপরের যে কোন একটা লাইন লিখে স্ট্যাটাস দিন। লাইকের বন্যায় ভেসে যাবে টাইমলাইন।

ডাক্তাররা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না এই রূপকথা সব বাজারেই খুব উচু দামে বিক্রি হয়।

হাসপাতাল এবং পুলিশ স্টেশন কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে। খোলা রাখতেই হয়। একবার ভাবুন তো এই ২৪ ঘন্টা কি করে চিকিৎসকরা কাজ করছেন। মানে অন্যান্য অফিসের কর্মকর্তাগণ যখন অফিস শেষে বাড়ি ফিরলেন, তখনো একজন চিকিৎসক হাসপাতালে পড়ে আছেন। ব্যাপারটা বাংলাদেশের ডাক্তারদের জন্য কতোখানি অমানবিক জানতে হলে আপনাকে দুটো দিন কষ্ট করে হাসপাতালে থাকতে হবে।

একজন চিকিৎসক সারা রাত নাইট ডিউটি করলেন, কিংবা টানা সকাল, বিকাল এবং রাতের ডিউটি করলেন। এরপর সকাল বেলা অন্য চিকিৎসককে হ্যান্ড ওভার বুঝিয়ে দিয়ে যখনই বিশ্রামে যাবেন, ঠিক তখনই যদি স্টান্টনায়কদের দল হাসপাতালে উপস্থিত হন তবে তো সেই চিকিৎসককে “অনুপস্থিত” ই দেখতে পাবে, তাই না?

তারমানে অনুপস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে চিকিৎসকদের সকাল, বিকাল, রাত এমন করে ২৪ ঘন্টাই হাসপাতালে থাকতে হবে আর এভাবে সপ্তাহে ৬ দিনই।

ও ভালো কথা, শুক্রবারে কিংবা পূজা-ঈদের ছুটিতেও কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ থাকে না। শুক্রবারে অবশ্য স্টান্টনায়করা হাসপাতাল পরিদর্শনেও যান না! যদি যেতেন, তবে দেখতে পেতেন, সেই দিনও হাসপাতালে চিকিৎসক তার চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা পর্যায়ে একজন ইউএনও এর অধীনে ২/৩ জন কর্মকর্তা থাকেন। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অধীনে থাকেন মোটামুটি ২১ জন কর্মকর্তা (বর্তমান অর্গানোগ্রামে) এদের মধ্যে ১০ জন থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মানে তারা প্রত্যেকেই ৬ষ্ঠ গ্রেডে বেতন পান এবং ইউএনও এর সমমর্যাদার কর্মকর্তা।

অর্থাৎ রাষ্ট্র মনে করে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে এই ২১ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু এখানে বাস্তবতা ২ টি।

বাস্তবতাঃ ১। কখনোই এই ২১ টি পদে সবগুলোতে চিকিৎসক পদায়ন হয় না। বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগের বেশী উপজেলা হাসপাতালে এই ২১ জন করে চিকিৎসক নেই।

বাস্তবতাঃ ২। ৫০ বেডের হাসপাতাল ৫০ এর চেয়ে অধিক রোগী দিয়েই শতকরা ৯০ ভাগ সময় ভরা থাকে।

আমি যখন রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলী হই, তখন হাতে গোণা ৩ জন মেডিকেল অফিসার আর ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। ২১ জনের কাজ করেছেন ৫ জন ডাক্তার! হাসপাতাল কিন্তু রাষ্ট্র বন্ধ করে নি। তার মানে মাসের ৩০ দিনের মর্নিং ইভিনিং নাইটের ৯০ খানা ডিউটি এই ৫ জন চিকিৎসক করেছেন।

এখন যদি আমার ঐ হাসপাতালে স্টান্ট সাম্রাজ্যের কোন মুকুটহীন সম্রাট গিয়ে উপস্থিত হন এবং সারাদিন সারারাত ডিউটি করা কোন চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখে তাকে শো কজ/শাস্তির ব্যবস্থা করেন – তাহলে বুঝে নিতে হবে একটি অসুস্থ সিস্টেমের বলি হচ্ছেন ডাক্তাররা।

এ ধরনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। আমি একটা টুকরো গপ্পো শোনালাম।

বলে রাখা ভালো, আমি কারো সাফাই গাইছি না। এদেশের চিকিৎসক এদেশেরই সন্তান। বাংলাদেশের মানুষেরা সবাই তো আর দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নন। আর ফাকিবাজ মানুষ সব পেশাতেই কিছু কিছু থাকেই।

এই যেমন ধরুণ, আমি ইন্টার্নী যখন করি, আমার সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে আমার পুরো ইন্টার্নীর সময়ে দেখেছিলাম মাত্র ৪/৫ দিন। প্রশাসনকে তিনি এমন গুড় খাইয়েছিলেন, যে তিনি ধরা ছোঁয়ার উর্ধ্বেই ছিলেন হয়তো। যদিও আমার বাকি শিক্ষকেরা তার অনুপস্থিতি বুঝতে দেন নি কোনদিন। সুতরাং এমন ডাক্তারও বাংলাদেশে আছে। কাজ না করে অনেক পেশার মানুষই এদেশে বেতন নিয়েছে, নিচ্ছে।

কিন্তু নিউজে যখন পড়ি শতকরা ৪০ ভাগ চিকিৎসক কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত, তখন লজ্জা হয়।

লজ্জা হয় না এই কারনে যে আমি একজন চিকিৎসক।
লজ্জা হয় এই কারনে কেন আমার ৫ জন সহকর্মী ২১ জনের ওয়ার্কলোড কাঁধে নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন রেখেছিলো জনগণের স্বাস্থ্যসেবা।

আমি এখন যে হাসপাতালে আছি, শুক্রবারেও আমাদের হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার, আইএমও, সহঃরেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার, আরএস এবং ক্ষেত্রবিশেষে সিনিয়র চিকিৎসক দেরও হাসপাতালে আসতে হয়।

কাদের জন্য করি এই অতিরিক্ত পরিশ্রম?
কীসের আশায় দেখাই অতিরিক্ত ডেডিকেশন?

একদিন আমিও তো শিরোনাম হবো।

এভাবে শিরোণাম হবার জন্য আমাদের মা-বাবা আমাদের ডাক্তারী পড়িয়েছিলো?

কেউ কিচ্ছু মনে রাখবে না,
আমরা কী করেছিলাম, কতোখানি করেছিলাম!

কেউ মনে রাখবে না, এদেশের হাসপাতালগুলো দুর্যোগে-উৎসবে-মহামারীতে কীভাবে খোলা ছিলো ২৪ ঘন্টা?

#হঠাৎ_হানা
#দিতে_নেই_মানা
#যদি_থাকে_জানা
#পুরো_গপ্পোখানা

কলাম লিখেছেনঃ ডা. রাজীব দে সরকার

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।