• নির্বাচিত লেখা

November 8, 2016 12:41 am

প্রকাশকঃ

আরে এই scene আমি আগে দেখেছি ,আর এক মুহুর্ত পরে কী ঘটবে আমি জানি । কখনো আসিনি তবু কোন জায়গা চেনা চেনা লাগে ,হঠাৎ করে মনে হয় পাশে বসা মানুষ একটু পর কী বলবে আগে থেকেই জানি । অদ্ভুত এই অনুভূতির নাম –“ডেজাভু” (Déjà vu)

অনেক উঁচু থেকে পরে যাচ্ছি-মাঝে মাঝে চোখে ঘুম লেগে আসলে এরকম হয় । ঘুম ভাঙলে আগের রাতের স্বপ্নের রেশ রয়ে যায় মাথার ভেতর । যদিও অধিকাংশ স্বপ্নই ভুলে যাই , অবচেতন মনে জমা থেকে যায় স্বপ্নের খুঁটিনাটি । স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি হয়, কখনো কখনো হিন্দি সিরিয়ালের মত স্বপ্নেরও নেক্সট এপিসোড দেখি । স্বপ্নদৃশ্যগুলো অবচেতন মনের স্মৃতি । একই দৃশ্যের যখন মুখোমুখি হই CONSCIOUS MIND এ তখন অবাক হই ,মাথার গণ্ডগোল ভেবে এড়িয়ে যাই ।

“অমরত্বের প্রত্যাশা নেই ,নেই কোন দাবী দাওয়া…এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকে চাওয়া । মুহুর্ত যায় জন্মের মত অন্ধ জাতিস্বর , গত জন্মের ভুলে যাওয়া স্মৃতি বিস্মৃত অক্ষর”-কবীর সুমনের গতজন্ম বা পরজন্মে বিশ্বাস নেই কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের “নিষাদ” কিম্বা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের প্যারালাল ইউনিভার্স কনফিউজ করে । হ্যাঁ জাতিস্মর বা প্যারালাল ইউনিভার্স ডেজাভুর আরেকটা ব্যাখ্যা ।

অদৃষ্টবাদীরা বলেন মানুষের সব কিছু পূর্ব নির্ধারিত । ইংরেজিতে যাকে বলে-LIFE UNFOLDS । ঘুড়ির সুতো-নাটাই যেমন ঘুরে ঘুরে সুতো ছাড়ে ঘুড়িটা আরো দূরে উড়ে যায় তেমনি মানুষের জীবন । জীবনের মুহুর্তগুলো একটার উপর আরেকটা রোল করে সাজানো , সেই রোলটা পেছন দিকে REWIND করেই বর্তমান । আগেরকালে ওয়াকম্যানের ক্যাসেট জড়িয়ে গেলে ক্যাসেটটা খুলে পেন্সিল বা কলম দিয়ে ফিতা টাইট করতে হত ঠিক তেমনি ডেজাভু হলে আমাদের সময়ের ক্যাসেট প্যাঁচ খেয়ে যায় , ঘটনাগুলো একটার উপর আরেকটা খানিক ওভারল্যাপ করে যায় ।
deja-vu
ছোট্ট একটা খেলা-চোখ বন্ধ করে মাত্র দশ সেকেন্ড কোন একটা স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করুন । … ছোট বেলার কোন স্মৃতি । … আনন্দ কিম্বা মন খারাপ করার স্মৃতি ? … হ্যাঁ এবার মিলিয়ে দেখেনতো আপনার সেই স্মৃতিতে কোন একটা বিশেষ দৃশ্য আছে ? অথবা কোন বিশেষ মানুষ ? সেই প্রিয় মুখটা দেখতে পাচ্ছেন না এখন? সে মানুষটা স্মৃতিতে কোন কথা বলছে বা স্মৃতিতে কোন শব্দ আছে যেমন বৃষ্টির শব্দ? বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারালো সেদিনের সেই মিছিলের বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগানের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন তো ? স্মৃতির শব্দ শুনতে পাচ্ছেন ? স্মৃতিতে কোন গন্ধ ? প্রিয় মানুষের বডি স্প্রের সৌরভ মনে পরে ? মায়ের মায়া ভরা ঘ্রাণ পাচ্ছেন কিম্বা গতকাল লোকাল বাসে প্রচন্ড ভীরে পাশে দাঁড়ানো ভোটকা লোকটার বিশ্রী ঘামের গন্ধ জীবনে ভুলতে পারবেন ? এভাবেই কোন কোন স্পর্শ ভোলা সম্ভব নয় , কোন বিশেষ পরিস্থিতি যেমন এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার সময়ের টেনশন মনে থাকবে সবসময় । মানুষের স্মৃতি কখনো একটা তথ্য সঞ্চয় করে রাখেনা । সবগুলো অনুভূতি জমা করে রাখে , তাই ছেকাটেকা খেলে কোন মানুষকে ভোলা অতটা সহজ নয় কারণ চোখে দেখার অনুভূতি বা স্পর্শের অনুভূতি মস্তিষ্কের একই অংশে জমা থাকেনা । এবং সবগুলো স্মৃতি একই সাথে কার্যকর থাকেনা , অবচেতন মনের অংশ হয়ে এক কোণায় পরে থাকে ।

লাইভ খেলা দেখার সময় PATH WAY OF VISION ব্রেইনের ভিশন সেন্টারে দৃশ্যের অনুভূতি পাঠায় । ব্রেইনের ভিশন সেন্টার এবং অন্যান্য সেন্টারের তথ্য আরো কিছু প্রসেসিং এর কয়েক ন্যানো সেকেণ্ড পর CONSCIOUS MIND সেটা লাইভ খেলা হিসেবে INTERPRET করে । কোন কারণে ভিশন সেন্টারে দৃশ্যের অনুভূতি ALREADY চলে গেছে কিন্তু সেটা CONSCIOUS MIND এখনো INTERPRET করেনি মানে SCENEটা CONSCIOUS LEVELএ পৌছায়নি -এমন হলে আগের দৃশ্যটা ব্রেইনে জমা থাকে কিন্তু সেটা CONSCIOUS MIND এখনো দেখেনি । এরকম সিচুয়েশনে ভিশন সেন্টার CONSCIOUS MIND কে জানায় সে এই দৃশ্য আগেই দেখেছে অর্থাৎ CONSCIOUS MIND ঘটনাটা প্রথমবার দেখেও মনে করে এটা আগে দেখেছে । ব্যাপারটা পিসি কয়েক সেকেন্ড হ্যাং করার মত । আমাদের CONSCIOUS MIND মাঝে মাঝে হ্যাং করে থাকে , তখন নতুন কোন দৃশ্যকে দেখার সেন্টার আগেই দেখে বসে থাকে বলে CONSCIOUS MIND নতুন দৃশ্যটাকে আগে দেখেছে বলে মনে করে । তাই LEVEL OF PERCEPTION ( INTERPRETATION ) এ কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের দেরির জন্যে ডেজাভু হয় । ডেজাভুর এটাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা । এছাড়া TEMPORAL LOBE EPILEPSY , MEMORY RECONSTRUCTION THEORY এরকম অনেক সায়েন্টেফিক ও গাঁজাখুরি ব্যাখা আছে ডেজাভুর ।

ব্যাখা যাই থাকুক ডেজাভু আমার কাছে খুব আজব লাগে । ডেজাভু কোন সিক্সথ সেন্স না বা আগে থেকে করা ভবিষ্যতবাণীও না বরং একটা স্ন্যাপ শট । ছবি তোলার মত সব কিছু যেরকম স্থির-স্থবির হয়ে থাকে কিন্তু নিশ্চিত এর পর মুহুর্তে এটাই ঘটবে ডেজাভুর ক্ষেত্রেও তাই । ডেজাভু নিয়ে গবেষণা যতটা বিলিওন বিলিওন ডলারের ল্যাবে হচ্ছে তার চাইতেও বেশী ভালো আমরা নিজেরা নিজেরাই করতে পারি যদি ব্যাপারটা জানা থাকে । অন্তত মাথায় গণ্ডগোল ভেবে নিজেকে নিউরোসিসের রোগী যেন না ভাবি তাই আমার এই লেখা (জানিনা কেউ মাথামুন্ডু বুঝতে পেরেছেন কিনা!) ।

ডেজাভু কেন গুরুত্বপূর্ণ !!! ডেজাভু হলে আপনি কয়েক সেকেন্ডের এডভান্টেজ পাচ্ছেন । মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে হলেও ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন । ধরুন আপনি এই মুহুর্তে উত্তর কোরিয়ার আণবিক বোমার সুইচ হাতে নিয়ে বসে আছেন এবং আপনার উপর নির্দেশ এসেছে আণবিক বোমা লঞ্চ করতে , তখনই আপনার ডেজাভু হলো । কী পারবেন তো আণবিক যুদ্ধ হতে পৃথিবীকে বাঁচাতে ? হ্যাঁ ডেজাভু হচ্ছে ভবিষ্যতে যাবার টাইম মেশিন , একটা ধাঁধাঁ যার সমাধান হলে ২০১৬ এর ০৮ নভেম্বর রাত ১২টা ৩২ এ বসে আপনি ২০৬৩ তে যেতে পারবেন। অভিনন্দন

লিখেছেন:
ডা. মোহিব নীরব
প্রতিষ্ঠাতা, প্ল্যাটফর্ম।

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.