গোটা বাংলাদেশের সরকারী মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে ফরেনসিক মেডিসিন এর অধ্যাপক সর্বসাকুল্যে মাত্র ২ জন। যার একজন এ বছরে আর একজন সামনের বছরে অবসরে যাচ্ছেন।
সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে আছেন ৮ জন এবং সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ১০ জন।এছাড়া এমসিপিএস কোর্সে ১০ জন, এমডি কোর্সে ২ জন আর ডিপ্লোমা কোর্সে আছেন ১৪ জন।মানে দাঁড়ালো বাংলাদেশে সর্বসাকুল্যে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ২০ জন আর হবু বিশেষজ্ঞ ২৬ জন, এই হল মোটমাট ৪৬ জন।এর মধ্যে ১০ জনও নারী নন!
এখন কথা হচ্ছে, মহামান্য আদালত যে পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত টা দিলেন তা কি এই পরিসংখ্যান টা জেনে নাকি না জেনে।
দুই নম্বর কথা- পরীক্ষা করতে বিশেষজ্ঞ না হলেও চলে তবে রিপোর্ট লিখতে কিন্তু বিশেষজ্ঞ হতে হয়।
তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো?পরীক্ষা করবেন একজন আর রিপোর্ট লিখবেন আরেকজন?সুব্যবস্থা করতে গিয়ে এ কোন অব্যবস্থাপনার আয়োজন!আর প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পর্যাপ্ত নারী মেডিকেল অফিসার আছেন কিনা সেটাও কি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন!
যথেষ্ট লিখে ফেলেছি, শেষ করি আইন দিয়ে-ফরেনসিক মেডিসিন এ ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভিকটিম বা তার অভিভাবক এর অনুমতি নিয়ে একজন মহিলা সহকারীর উপস্থিতিতে পর্যাপ্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে পরীক্ষা করা হয়, এটাই আইন, যার ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই।
সুতরাং শুধু পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে,(প্রসংগত যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমন রায় আমি সেই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে একটি স্ট্যাটাস লিখেছিলাম,সেখানে স্বয়ং প্রতিবেদনকারী কে মেনশন করা হয়েছিলো, তিনি কোন মন্তব্য করেননি এ ব্যাপারে!!)
এরকম একটা সিদ্ধান্ত গোটা চিকিৎসক সমাজেরই নৈতিকতা এবং দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে আমি মনে করি।যেহেতু সিদ্ধান্তটি স্পর্শকাতর, তাই অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই এটিকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং জানাবেও কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমি সাধুবাদ জানাতে পারছিনা বলে দুঃখিত।
উন্নত বিশ্বের কথা বাদ দিলাম, কেবল পাশের দেশ ভারতই যেখানে পর্যাপ্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের পরীক্ষার প্রক্রিয়াগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়ে পুরো প্রক্রিয়াদিকে বিতর্কমুক্ত করে ফেলেছে,সেখানে বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেবল পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিকিৎসকদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে- এমন একটা সিদ্ধান্ত আসলে কতটুকু ভিক্টিমদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে তা হয়তো কেবল সময়ই বলতে পারবে।
আজ ফরেনসিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পরবর্তীকালে হয়তো আলট্রাসনোগ্রাম এবংগাইনিকলিজিক্যাল পরীক্ষাতেও পুরুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হবে!
আমাদের চিকিৎসক সমাজ আর কত অপমান, অপদস্থ হলে জেগে উঠবেন নিজেদের অধিকার আদায়ে?
Link- http://m.prothom-alo.com/bangladesh/article/197101/ধর্ষণের_শিকার_নারীর_স্বাস্থ্য_পরীক্ষায়_পুরুষ
লেখক – সৈয়দ নাজিন মোর্শেদ
I will be there for them inshallah,,,, just love forensic