মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬১০ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
প্রথম পাতা

স্বাধীনতা দিবসের কলামঃ ৭১ এর চিকিৎসা সেবার গল্প

ওয়েব টিমপ্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১:২৫ · ৩ মিনিটে পড়ুন
স্বাধীনতা দিবসের কলামঃ ৭১ এর চিকিৎসা সেবার গল্প
লেখার আকার

‘৭১ এর চিকিৎসা সেবা :

একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ যখন বিধ্বস্ত, তখন ইংল্যান্ডে অবস্থানরত বাঙ্গালি চিকিৎসকেরা চুপচাপ বসে থাকতে পারেননি।

দ্রুত সিদ্ধান্ত এর সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠিত হল “Bangladesh Medical Association (uk)” যার সভাপতি ছিলেন ডাঃ এ. এইচ. সাইদুর রহমান ( opthalmologist) এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী (vascular surgeon).

২৯ বছর বয়েসী তরুন চিকিৎসক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী , দেশের এমতাবস্থায় লেখাপড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসে থাকতে নারাজ। তাই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে, কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ফিরে আসেন মাতৃভূমিতে।

এরপর মে মাসের শুরুর দিকে BMA-UK এর নির্দেশে তিনি এবং আরেক জন তরুণ চিকিৎসক ডাঃ এম.এ. মবিন ( orthopedic and accident surgeon) পাড়ি জমান ত্রিপুরায়, যুদ্ধকবলিত মানুষদের সেবা দানের জন্য।

দিন যেতে থাকে, দলে দলে বীর বাঙ্গালী যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে থাকে, আর এদিকে আহত, ধর্ষিতা এবং নিহতদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এত মানুষকে সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছিলো আগরতলার স্থানীয় হাসপাতালগুলো।। বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে ডাঃ জাফরুল্লাহ, ডাঃ মবিন এবং মেজর খালেদ মোশাররফকে।

সেক্টর ২ এর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ, বিষয়টি নিয়ে ডাঃ রথিন দত্তের স্মরণাপন্য হন। ডাঃ রথিন দত্ত (cheif surgeon of G.B Hospital and Administratior of Red Cross Operation in Tripura) বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আগরতলার মেলাঘরে, যদ্ধু বিধ্বস্ত মানুষদের জন্য আলাদা অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠ হয় এবং এর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয় মুক্তিবাহীনিকে।।

এরপর আগস্ট মাসে, মেজর মোশাররফ, বরাদ্দকৃত তৎকালীন ৬০০ ইউরো মেজর ডাঃ আক্তার আহমেদ এর হাতে তুলে দেন একটি হাসপাতাল তৈরীর জন্য।

মেজর আহমদ সেই টাকার সাথে আরোও কিছু দানপ্রাপ্ত টাকা যোগ করে বর্ডারের কাছাকাছি বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে একটি হাসপাতাল তৈরী করেন।

এই হাসপাতালটিকে বলা হয় ” Bangladesh Field Hospital” / ” Bangladesh Force Hospital ” / “Bangladesh Hospital ” যেটি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রিফিউজি হাসপাতাল।

হাসপাতালটি ২৫ টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও যদ্ধু শেষে ডিসেম্বর মাসে এর আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিলো ৪৮০ তে।।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, হাসপাতালটির কমান্ডিং অফিসার ছিলেন ডাঃ সিতারা বেগম ( army doctor).

ডাঃ সিতারা বেগম আরোও পাঁচ জন বাঙ্গালি চিকিৎসকদের নিয়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭১ এ।।

ইত্যোমধ্যে এই হাসপাতালে যোগ দেয় অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী।। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিতে থাকেন অগণিত নারী যাদের প্রায় সবারই পূর্ববর্তী কোনো মেডিকেল ট্রেনিং ছিলো না।।

এসব স্বেচ্ছাসেবকদের ট্রেনিং এর দায়িত্ব নেন ডাঃ জাফরুল্লাহ।

চিকিৎসা সেবা এবং রিলিফ বিতরণের কাজে চিকিৎসাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলেয়েছিলেন তৎকালীন অনেক বিখ্যাত মানুষও।

তাঁদের মধ্যে সাইদা কামাল, মিলা ঘানি, মিনু হক, শাহদাত চৌধুরী, লিনু বিল্লাহ, হাবিবুল আলম প্রমুখ উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে যুদ্ধে আহত মানুষদের জটিল সার্জারিগুলোর দায়িত্ব নেন ডাঃ রথিন দত্ত এবং তার দল।

এভাবেই সম্মেলিত প্রচেষ্টায় ‘৭১ এর চিকিৎসা সেবা চলতে থাকে এবং ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় চির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।।

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা!

সুমাইয়া
শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ
সেশন : ২০১৬/১৭ ( TA-04)

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক…

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য…

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে…

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।