বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

ব্রুকলিন ব্রিজ হতে বাংলাদেশে আসার খুব ইচ্ছে সাহানার

৮ মে, ২০২০, শুক্রবার
ডা. মাহবুবর রহমান

বাসা থেকে বেরিয়ে কোয়ার্টার কিলো পায়ে হেঁটে এভিনিউ এইচ স্টেশনে দাঁড়ানো মাত্র পকেটে হাত দিয়ে সাহানা বুঝতে পারল, মোবাইল ফোনটি ফেলে এসেছে। এরকম আগেও হয়েছে, তবে আজকে না হলেই ভাল হত। হাতে যে সময় ছিল তাতে সময় মত অফিসে পৌঁছাতে পারত। তিন দিন আগে অফিসে ঢুকতে তিরিশ মিনিট দেরি করায় মেক্সিক্যান বস যেভাবে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন, সেটা মনে হতেই বুকটা ধড়াম করে উঠল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের মেধাবী ছাত্রী যার স্বপ্ন ছিল দর্শনের অধ্যাপক হয়ে দৃষ্টির অন্ধকার দূর করবে। সে আজ ভাগ্যচক্রে প্রবল প্রতাপশালী দেশের কেবলই একজন বিক্রয়কর্মী।

যাই হোক মনের উপর রাগ করে, ভাগ্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। মনকে শাস্তি দেবার কায়দা জানা থাকলে সাহানা সেটা নিশ্চয় দিত। আপাতত নিজেকে একটা শক্তরকম অশ্রাব্য গালি দিয়ে মোবাইল ফোনটি নিতে বাসার দিকে রওনা দিল।

ব্রুকলিনের এই বাসাটায় তারা প্রায় দশ বছর ধরে আছে। কোনো এক অজানা কারণে ফরাসী বাড়িওয়ালী মার্গারেটা তাকে বেশ পছন্দ করেন। মায়ের বয়েসী এই ভদ্রমহিলা বাড়ির দোতলায় সম্পূর্ণ একা থাকেন। তিনতলায় ভারতীয় এক দম্পতি এবং নীচতলায় থাকে সাহানার পরিবার। আমেরিকায় যখন প্রথম সে আসে, তখন উঠেছিল জ্যাকসন হাইটসের এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায়। মাস তিনেক সেখানে থাকার পর মনে হল তার নিজের বাসা নেয়া দরকার। ইতিমধ্যে ম্যানহাটানে একটা কফি শপে তার চাকরি হল। মাসশেষে যে আয় হত সেটার উপর ভর করে এক হাজার ডলারে একটা স্টুডিও বাসা ভাড়া নিল। এখানে একরুমের একটি বেড, সঙ্গে কিচেন আর চিপাচাপা একটি বাথ নিয়েই স্টুডিও বাসা। কিচেনের মধ্যেই ছোট্ট একটি ডাইনিং টেবিল আর দুটো চেয়ার নিয়েই স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাধীন জীবন।

কিন্তু এই স্বাধীন জীবন বেশিদিন স্থায়ী হল না সাহানার। জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি ভারতীয় উপমহাদেশের লোক দিয়ে ঠাসা। তারমধ্যে বাঙালির সংখ্যা প্রচুর। অফিস থেকে ফিরবার পথেই দেখা যাবে অনেক বাঙালি পান খেতে খেতে, আকিজ বিড়ি ফুকতে ফুকতে দেশের রাজনীতি নিয়ে গরম আলোচনায় সরব হয়ে পড়েছে। সরকার কীভাবে বিরোধী পক্ষকে পিটুনি দিচ্ছে, আর বিরোধী দল কীভাবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করতে তৎপর, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ এমন সব অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করছে যে, কেউ কারও যুক্তি খন্ডন করতে না পেয়ে বাধ্য হয়ে এই পানবিড়ি আর শক্ত সুপারির উপর আক্কেল দাঁতের তীব্র চাপ প্রয়োগে বেয়াক্কল বাঙালের মৃদু শান্তি মিলছে।

প্রথম প্রথম সাহানা এসব শুনে বিরক্ত হত। কিন্তু কিছুদিন যেতে এগুলো গা সহা হয়ে গেছে। সত্যি বলতে কি এই নিস্কর্মা লোকগুলোর অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে এদের জন্য একধরণের সহানুভূতি বোধ করা শুরু করে সে। প্রতিদিন সকাল বিকাল কাজে যেতে যেতে প্রবাস জীবনের যন্ত্রণাবিদ্ধ মানুষের যন্ত্রণা এই ধরণের লঘু আলাপে কিছুটা হলেও লাঘব হয়। এমনি এক সকালে প্রায় দৌড়ে সাবওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতেই চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন ছেড়ে চলে গেল। পরের ট্রেন দশ মিনিট পরে। বাধ্য হয়ে স্টেশনের অপেক্ষমান একটা সীটে বসে পড়ল। তখনই আফজালের সাথে আলাপ।

আফজালও কাছাকাছি একটা স্টুডিও বাসায় থাকে। বছর চারেক আগে সে এদেশে এসেছে। এতদিনে সে এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি অনেকটা বুঝে ফেলেছে। ম্যানহাটানের সুপার শপ মেসিতে সেলসম্যানের কাজ করে। দেশে দুজনেরই বাবা মা ভাইবোন দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে, স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন।

এরপর কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সাহানা এবং আফজালের প্রায় প্রতিদিনের যাত্রার সময় এবং ট্রেন এক হতে থাকল। কেউ একজন একটু পরে এলে অপেক্ষার সময় বড় অসহ্য হতে লাগল এবং বারবার আগমন পথে অনিচ্ছা সত্বেও ঘাড়টি ঘুরে যাচ্ছিল। এমনকি একদিন সাহানার আসতে দেরি হওয়ায় আফজাল ইচ্ছে করেই ট্রেন মিস করে স্টেশনে দাঁড়িয়ে রইল।

এভাবে একদিন শনিবার বিকেলে তারা নিজেদের আবিষ্কার করল শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রুকলিন ব্রিজের উপর। সেখানে অগুনতি মানুষ যার যার আপন মনে পরপারে পারাপার হচ্ছে। কেউ পশ্চিম পাড়ের ম্যানহাটান থেকে পূর্বপাড়ের ব্রুকলিনে যাচ্ছে, কেউবা পূর্ব থেকে পশ্চিমে। ক্রমে সূর্য ম্যানহাটানের আকাশচুম্বি ভবনগুলোকে চুম্বন করে হাডসন নদীর ওপারে নিউ জার্সির আকাশে গোধূলির ললাটে দিনের শেষ স্ট্রোকটি এঁকে দিয়ে অসমাপ্ত গল্প সমাপ্ত করার আয়োজন করছে।

এদিকে কালের সাক্ষী ব্রুকলিন ব্রিজ নিথর নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে এক অপেক্ষমান নরনারীর অর্থহীন দাঁড়িয়ে থাকার নিগুঢ় অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নীচে বহমান ইষ্টরিভার নদীর সেই ধৈর্য নেই। সে সামনে অপেক্ষমান নিউ ইয়র্ক উপসাগরের প্রশস্ত গহীনে হারিয়ে যেতে উদগ্রীব হয়ে ছুটে চলেছে।

ইষ্টরিভার নদীর গতিপথ অনুসরণ করলে দূরে নিউ ইয়র্ক উপসাগরের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আমেরিকার স্বাধীনতার প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টি দৃশ্যমান হয়। সেদিকে তাকিয়ে এই উদাসীন মানবদ্বয়ের মনে পরস্পর পৃথক থাকার স্বাধীনতাকে নিতান্ত পরাধীনতা বলে মনে হল। শেষ পর্যন্ত এই বিমূঢ় মানবমানবী হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে, খামাখা দুটি স্টুডিও বাসার জন্য পৃথক অর্থ খরচ করাও অর্থহীন। সুতরাং তারা সম্মিলিতভাবে স্বাধীনতাকে স্ট্যাচু অব লিবার্টির মাধ্যমে মাননীয় ভলতেয়ার বরাবর বিসর্জন দিয়ে নতুন জীবনে প্রবেশ করবার সিদ্ধান্ত নিল।

কিছুদিন তারা জ্যাকসন হাইটসে থাকার পর বুঝতে পারল যে, বাঙালি সমাজ যতই এই মুক্ত সমাজে বসবাস করুক তাদের অনেকের ভেতরে বাস করে মধ্যযুগীয় এক মানস। পথে ঘাটে তাদের নিয়ে নানান কানা ঘুষা, ফিসফিসানি চলতে শুরু করল। একসময় তারা চেনাজানা আত্মীয় স্বজনদের বাসায় যাওয়া ছেড়ে দিল। পরে দেখল যে, এই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর পথ নেই।

সাহানার এক সহকর্মী তাদের এই অসুবিধার কথা জানত। তারই মাধ্যমে ব্রুকলিনের এই বাড়িওয়ালীর সাথে যোগাযোগ হয়। এবং বেশ সস্তায় এই বাড়িটি পেয়ে যায়। আজ দীর্ঘ দশটি বছর এখানে কেটে গেছে। এখানেই জন্ম হয়েছে তাদের দুই সন্তান; আট বছরের শাফিন আর তিন বছরের সারাহ। তাদের পেয়ে মার্গারেটার আনন্দের আর সীমা নেই। যখন তখন এসে নানান গিফট দিয়ে, আদর দিয়ে তিনি তাঁর নিঃসঙ্গ বুভুক্ষ হৃদয়কে শান্ত করেন।

আমেরিকায় আসবার পরে তাদের আর দেশে যাওয়া হয়নি। জীবন সংগ্রাম, অর্থনৈতিক যুদ্ধ, দুটি বাচ্চা বড় করা, স্কুলে দেয়া, দেশে বাবা-মায়ের অভাবী সংসারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এতগুলো বছর কেটে গেল। তাই এবারে তারা ঠিক করেছে সামারে স্কুল বন্ধ হলে দেশে যাবে। আফজালদের বাড়িতেও যাবে। সবাই তাদেরকে দেখবার জন্য উন্মূখ হয়ে আছে।

ব্রুকলিনের এই বাসায় ঢুকতে পরপর দুটো দরজা। প্রথম দরজা পার হলে কমন স্পেস।লিফট্ লবী। দ্বিতীয় দরজা খুললেই সাহানাদের ঘর। সাহানা দরজা খুলেই টেবিলের উপর মোবাইল ফোনটি দেখতে পেল। সেটি তুলে ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে শোবার ঘরে একনজর উঁকি দিল। গতকাল থেকে আফজালের শরীরটা ভাল না। জ্বরজ্বর ভাব, গলা ব্যথা , হাল্কা কাশি। আজকে আফজাল অফিসে যাবে না, বসকে বলে দিয়েছে। বাচ্চাদের স্কুল হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক শহরে করোনা ইনফেকশনের মাত্রা দ্রুত বেড়ে চলেছে। কিন্তু তাদের অফিস দোকানপাট এখনো বন্ধ হয়নি।
সাহানা আফজালের কপালে হাত ছোঁয়ায়। এখনো হাল্কা জ্বর।

-তুমি আবার ফিরে এলে যে?
-ভুলে মোবাইল ফেলে গিয়েছি, নিতে আসলাম। তোমার কেমন লাগছে এখন?
-এখন কিছুটা ভাল। ঠিক হয়ে যাবে।
-ডাক্তারকে একটু দেখাবে আজ?
-না, এখন থাক। তুমি চিন্তা করো না।

একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সাহানা বেরিয়ে পড়ে।
এভিনিউ এইচ এর এই স্টেশনের সাথে তার সম্পর্কটি বেশ আপন। এখানের স্টেশনমাষ্টার, নিয়মিত যাত্রীরা প্রায় সবাই মুখচেনা হয়ে গেছে। জীবনের অনেক স্মৃতি এর সাথে জড়িয়ে আছে। বেশিরভাগ সময়ে সে কনি আইল্যান্ড থেকে ছেড়ে আসা কিউ ট্রেনে চেপে ম্যানহাটানের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছায়। আজকেও তাই করল।

অফিসে দেরিতে পৌঁছালেও কোন সমস্যা হল না। কেননা বস নিজেই এখনো আসেননি। গতকাল থেকে বসের স্ত্রী অসুস্থ। জ্বরে ভুগছেন। তার দুজন সহকর্মীও করোনায় আক্রান্ত। পুরো শহর জুড়ে এক মহাআতঙ্ক গ্রাস করছে। বহির্বিশ্বের সাথে প্লেন যোগাযোগ এখনো চলছে। পৃথিবীকে সকল প্রান্ত থেকে এক অদৃশ্য অবিনাশী দজ্জাল ছিঁড়ে কুঁড়ে খেতে উদ্যত হয়েছে।

ব্যস্ত ম্যানহাটান ধীরে ধীরে জনশূন্য হতে শুরু করেছে। সারাদিনে কমসংখ্যক কাস্টমারই এলো সাহানাদের দোকানে। বাসার জন্য খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। বার কয়েক ফোন করে আফজাল ও বাচ্চাদের খবর নিয়েছে। আফজাল জানাল এখন জ্বর নেই, শরীর আগের চেয়ে ভাল লাগছে।

অফিস শেষে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে সে বাসায় ফিরল। জ্বর না থাকলেও সে আফজালকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে গেল। ডাক্তার তাদের আশ্বস্ত করলেন। তবে করোনার পরীক্ষা করতে দিলেন।

পরেরদিন থেকে সমস্ত শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হল। বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব এয়ারলাইনস স্থগিত করা হল। প্রতিদিন গভর্ণর ক্যুমো তাঁর টীম নিয়ে পুরো পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা করছেন, নগরবাসীর করণীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এবং পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বগুণে মুগ্ধ হয়ে সাহানা ইতিমধ্যেই অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনে মনে ভোট দিয়ে দিল।

বাজারে সম্ভাব্য ঘাটতি আঁচ করে সকাল থেকে প্রয়োজনীয় সব খাবার দাবার কিনে আনল সাহানা। দোকান থেকে টিসুপেপার আর স্যানিটাইজার মুহূর্তে উধাও। জীবনে কখনো এমনটি দেখেনি সে। দেশে ফোন করে বাবা-মা, ভাইবোনের খবর নিল। সবাইকে সাবধানে থাকতে বলে নিজেরা তাড়াতাড়ি ডিনার সেরে আফজালকে আলাদা ঘরে বিছানা করে দিয়ে, সাহানা বাচ্চাদের নিয়ে ড্রয়িং রুমে শুয়ে পড়ল।

পরেরদিন সকালে স্কুল থেকে ফোন এলো। স্কুল বন্ধ হলেও বাচ্চাদের দুপুরের খাবার স্কুল থেকে দেয়া হবে। আফজালের শরীর একটু ভাল বোধ করায় সাহানা স্কুলে চলে গেল। রাস্তাঘাট ইতিমধ্যে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। যে শহর কখনো ঘুমায় না তা আজ এক অচেনা ভূতুড়ে নগর।

২

এরই মধ্যে ডাক্তার ফোন করে বললেন যে, আফজালের করোনা পজিটিভ। এরকমটাই আশংকা করেছিল সে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে সব ম্যানেজ করবে? তার মাথা ঝিমঝিম করছে। হাসপাতালগুলো ইতিমধ্যে তাদের সক্ষমতা সামর্থের বাইরে চলে গেছে। আইসিইউ তে বেড পাওয়া যাচ্ছে না। মৃত্যুহার দ্রুত বেড়ে চলেছে।

স্কুল থেকে বাসায় ঢুকেই আফজালের রুমে গেল সাহানা। তার কপালে হাত দিতেই বুকটা ধড়াস করে উঠল। সমস্ত শরীর নির্জীব হিমশীতল। “ ওহ্ মাই গড !”

দ্রুত ৯১১ এ ফোন দিল। লাইন ব্যস্ত। বার কয়েক ডায়াল করার পর লাইন পেল। পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করে জানাল যে, এই মুহূর্তে তারা কোন টীম পাঠাতে পারছে না। সবাই ব্যস্ত রয়েছে। অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করতে বলে লাইন কেটে দিল। নিউ ইয়র্কে যেখানে যত পরিচিত আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ছিল সবাইকে ফোন করে জানাল। সবাই ৯১১ এ যোগাযোগ করতে উপদেশ দিল কিন্তু কেউ এগিয়ে এলো না।

এভাবে অপেক্ষা করার পর সন্ধ্যার আগে আগে পুলিশ এলো। প্যারামেডিক আফজালকে পরীক্ষা করে বলল যে, সে অনেক আগেই মারা গেছে। মরচুয়ারীতে জায়গা না থাকায় মৃতদেহ এখনি নেয়া সম্ভব নয়। তারা ডাবল লেয়ার একটি প্লাস্টিক কফিনব্যাগে মৃতদেহ ঢুকিয়ে রুমটি লক করে চলে গেল।

শাফিন এবং সারাহ সাহানার দুই বাহু দু’দিক থেকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ড্রয়িং রুমে বসে আছে। কারো মুখে কোন কথা নেই। নিস্তব্ধ রাত। বাইরে কিছুক্ষণ পরপর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বেজে চলেছে।

৩

কখন যে চোখে তন্দ্রা লেগে এসেছিল মনে নেই। হঠাৎ কে যেন দরজায় নক করছে। এত রাতে কে আসতে পারে? সাহানা দরজার দিকে এগিয়ে যায়।
-কে?
-সাহানা আমি। দরজা খোল।

সাহানা চমকে ওঠে। এত রাতে আফজাল তো বাইরে যায় না! সে কি তবে ভুল শুনছে?
-তোমার কাছে চাবি নেই?
-না সাহানা। চাবিটা হারিয়ে ফেলেছি। চল আমরা একসাথে চাবিটা খুঁজতে যাই।

সাহানার খুব মায়া হয়। সে দরজা খুলে দেয়। আফজাল হাত বাড়িয়ে সাহানার ডান হাতটি নিজের বাম হাতের মুঠোয় নিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে দেখে সালাম তার রিকসা নিয়ে অপেক্ষা করছে। এই সালামটা কিছুতেই তার পিছু ছাড়বে না। রোকেয়া হল থেকে নিউমার্কেট, গাউছিয়া থেকে পলাশীর কাঁচাবাজার যেখানেই যেত এই সালাম ছিল বান্ধা রিকসাচালক। একবার সে আর লাভলী রিকসা নিয়ে বেইলী রোডে যাচ্ছিল। নাটক দেখতে। কার্জন হলের সামনে যেতেই এক ছিনতাইকারী মুহূর্তে সাহানার বুকের উপর ছুরি ঠেকিয়ে বসল। সাহানার তো ভয়ে হাতপা কেঁপে ঠান্ডা হয়ে এলো। ক্ষণিকের মধ্যে দেখা গেল সালাম ছিনতাইকারীর বুকের উপর বসা। ছুরি ছিটকে দূরে পড়ে আছে।

সাহানা আফজালকে নিয়ে সালামের রিকসায় উঠল।
-কোথায় যাইবেন আফা?
-নদীর পাড়ে চল।
-আইচ্ছা আফা।

সালাম ধীরে ধীরে রিকসার গতি বাড়ায়। শহরের রাস্তা একদম ফাঁকা। দু’পাশের লাইটপোস্টগুলো হাতে হাত মিলিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে আছে। আকাশে পূর্ণ চাঁদ। ফকফকে জোছনায় সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায়। কিন্তু আফজালের মুখটা ঝাপসা কেন?
-তোমার কি মন খারাপ আফজাল?
-না তো! জোছনা দেখছি।

সে সাহানার আরো কাছে ঘেঁষে বসে। তারপর কখন যে তারা ব্রুকলিন ব্রিজের উপর চলে এল টেরই পেল না।

-সালাম কোথায় গেল?
-ঐ তো চায়ের দোকানে।
-আচ্ছা আফজাল আমরা দেশে কবে যাব?
-কেন তুমি ভুলে গেছ? আগামীকালই আমাদের ফ্লাইট।
-এবার কিন্তু তোমাদের বাড়িতে প্রথম যাচ্ছি। শ্বশুর বাড়ি। আচ্ছা কোন শাড়িটি পরব বলত?
-নীল রঙের শাড়িটি।
-কী যে বল না! বিয়ের শাড়ি নীল হয় বুঝি?

তারপর দুজনে হাত ধরাধরি করে ব্রিজের ঠিক মাঝখানে এসে দক্ষিণমুখী হয়ে দাঁড়ায়।
আফজাল বলে- “সাহানা, তুমি এখানে একটু দাঁড়াও।আমি চাবিটা নিয়ে আসি।”

এই বলে সে জোছনার ভেতর মিলিয়ে গেল।

কাছাকাছি অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনগুলো বিসমিল্লাহ খানের সানাইয়ের মত অবিরাম বেজে চলেছে।
দরজায় ধাক্কার শব্দে সাহানা ধড়ফড় করে উঠে বসল। সকাল হয়ে গেছে। শাফিন এবং সারাহ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সে তার দুর্বল শরীরখানি টেনে নিয়ে দরজা খুলে দিল।

পুলিশ এসেছে। মরচুয়ারীতে জায়গা খালি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।