মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬৬ কার্তিক ১৪৩৩ · ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
প্রথম পাতা

বিতরণ দেখিয়ে ‘লোপাট’ ২৪ লাখ টাকার পোশাক; অভিযোগ কলেজের সচিবের বিরুদ্ধে

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ৩:০৬ · ৪ মিনিটে পড়ুন
লেখার আকার

শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ হওয়া ২৪ লাখ টাকার পোশাক দুই বছরেও বিতরণ হয়নি। অথচ কাগজে-কলমে এসব পোশাক বিতরণ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কর্মচারীদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, বিতরণ না করেই সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, পোশাক বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।

কর্মচারীদের বরাতে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা প্রতিবছর ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের এক সেট ফুল সাফারি পাবেন। এছাড়া বছর শেষে কর্মচারীদের ১ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একজোড়া জুতা, ১৫০ টাকা মূল্যের দুই সেট মোজা, ৩০০ টাকা মূল্যের একটি ছাতা, এক হাজার টাকা মূল্যের একটি ফুল সোয়েটার এবং ৬০০ টাকার একটি করে হাফ সোয়েটার দেওয়া হবে। অন্যদিকে নারী কর্মচারীদের ৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি জর্জেট ও দুটি সুতি শাড়ি, ১ হাজার ৮০০ টাকা দামের দুই জোড়া স্যান্ডেল, ৩০০ টাকার একটি ছাতা, শীতের পোশাক হিসাবে এক হাজার টাকার একটি সাধারণ মানের শাল চাদর, বর্ষাকালের জন্য ১ হাজার ৬০০ টাকা দামের একটি রেইনকোট ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীরা আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পোশাক কেনার জন্য ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৯ টাকার টেন্ডার করেন। কার্যাদেশ পেয়ে এসব পোশাক সরবরাহ করে রাজশাহীর ডিসেন্ট টেইলার্স, নয়ন ট্রেডার্স ও নূর ট্রেডিং নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ে এসব পোশাক বুঝিয়ে দেওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু কর্মচারীরা পোশাক পাননি।

যুগান্তরের বরাতে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী জানিয়েছেন- ২০২২-২৩ বছরে কয়েকজন কর্মচারীকে পোশাক কেনা বাবদ নামমাত্র কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাউকে পোশাক দেওয়া হয়নি। পোশাক দেওয়ার কথা বলে কর্মচারীদের ডেকে ডেকে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও কেউ পোশাক পাননি। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কাউকে কিছুই দেওয়া হয়নি। মেডিকেল কলেজের নথিপত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ১২৫ জন কর্মচারীকে পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে তিনজন গাড়িচালক, ১০২ জন পুরুষ ও ২০ জন নারী কর্মীর নাম। এছাড়া ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের কাগজপত্রে ১১৯ জনকে পোশাক সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে গাড়িচালক তিনজন, ৯৭ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী কর্মীর নাম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কেউই পোশাক পাননি।

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের গাড়িচালক আব্দুল হামিদ নিজের পোশাকেই গাড়ি চালান। তিনি জানান, কলেজ থেকে কোনো ধরনের পোশাক পাননি। অথচ স্টোর কিপারের তালিকায় দুই বছরে তাকে তিনটি ফুল সাফারি সেট দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

পোশাক বিতরণ না করে কাগজে-কলমে বিতরণ দেখানো প্রসঙ্গে মেডিকেল কলেজের স্টোর কিপার ফয়সাল হায়দার বলেন, আমার কাজ পোশাক বুঝে নেওয়া ও বিতরণ করা, আমি সেটি করেছি। আমার রেজিস্টারেও সেটি আছে। কর্মচারীরা পোশাক পায়নি কেন-এর জবাবে তিনি বলেন, এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না। পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম নূর ট্রেডিংয়ের মালিক হুমায়ুন ফরিদ বলেন, আমরা পোশাক সরবরাহ করেছি। তবে কী মালামাল দিয়েছি সেটা এখন মনে নেই। স্টোর কিপারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। পোশাক দিয়েছি বলেই আমাদের কর্তৃপক্ষ বিল দিয়েছে। ডিসেন্ট টেইলার্সের মালিক এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমি পোশাক সরবরাহ করিনি। তবে আমার লাইসেন্সে কেউ হয়তো দিয়ে থাকতে পারে। তারা মালামাল দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

মেডিকেল কলেজের সচিব তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, আমরা পোশাক বিতরণ করেছি। কর্মচারীরা কাগজে সই করে তা নিয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। পোশাক না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে পায়নি বলছে তাকে আমার কাছে ধরে নিয়ে আসেন। পোশাক বিতরণের কোনো ছবি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ছবি তুলে রাখিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়সাল আলম বলেন, যে সময়ের বিষয় তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে কর্মচারীদের পোশাক বিতরণের বিষয়ে কিছু অনিয়মের কথা আমিও শুনেছি। জানামতে, দুই বছর পরপর পোশাক দেওয়াটাও অনিয়ম। কারণ নীতিমালায় প্রতিবছরই দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জানা গেছে, যে সময় পোশাক খাতে অনিয়ম হয়েছে তখন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন স্বাচিপ নেতা অধ্যাপক ডা. নওশাদ আলী। গত বছর ৫ আগস্টের পর তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। বিভিন্ন মামলায় আসামি হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। ফলে তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক…

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য…

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে…

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।