মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬১০ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
অতিথি লেখা

বিজ্ঞান ও বিস্ময়ঃ পর্ব-০১।। প্রাচীন মিশরীয় প্রেগন্যান্সি টেস্ট

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২০, ১০:২০ · ৩ মিনিটে পড়ুন
বিজ্ঞান ও বিস্ময়ঃ পর্ব-০১।। প্রাচীন মিশরীয় প্রেগন্যান্সি টেস্ট
লেখার আকার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার 

ডা. আসির মোসাদ্দেক সাকিব
ডেন্টাল সার্জন,
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

মিশরের মমি, পিরামিড ইত্যাদি ছাড়াও অনেক আশ্চর্যের জ্ঞান ছিল যা আমাদের এখনো অজানা। ১৯৩০ সালে টিউরিন মমি নামের এক মমির সাথে পাওয়া অনেক গুলো প্যাপিরাসের কাগজের উপরে লেখাগুলো কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। সেগুলো ষাটের দশক থেকে মর্মার্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

২০১৮ সালে একটুকরো প্যাপিরাসের একটা লেখার মর্মার্থ উদ্ধারের পরে গবেষকেরা খুব আশ্চর্যান্বিত হয়। সেই প্যাপিরাসের আনুমানিক বয়স ১৪০০ খ্রীস্টপূর্ব। সেটা ছিলো একটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট এর পদ্ধতির বিবরণ। সেখানে লেখা আছে যে কোন মেয়ের প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করার জন্য দুইটা ছোট থলেতে একটায় কিছু বার্লি ও আরেকটায় কিছু গমের দানা নিতে হবে। মেয়েটা সেই দুইটি থলের উপরে প্রস্রাব করবে। এর পরে কিছুদিনের ভেতরে যদি কোন একটা থলের শস্যে চারা গজায় তাহলে নিশ্চিতভাবে মেয়েটি গর্ভবতী। সাথে লেখা আছে যে, যদি বার্লি আগে গজায় তবে গর্ভের বাচ্চাটি হবে ছেলে এবং গমের দানা আগে অংকুরিত হলে বাচ্চা হবে মেয়ে।

হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা এই থিউরি টেস্ট করলেন অনেক মেয়েদের উপরে। এবং আশ্চর্য হয়ে দেখলেন যে ৭০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত শুদ্ধ ফলাফল দিচ্ছে এই পদ্ধতি। মানুষ আধুনিক কালে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে শিখেছে ১৯২৭ সালে দুইজন জার্মান বিজ্ঞানীর দ্বারা। এর আগে মেয়েদের কনসেপশনের পরে অনন্ত ১ মাস অপেক্ষা করা লাগতো গর্ভধারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য। জার্মান পদ্ধতিতে ১০ দিন পরেই বুঝা যায় গর্ভধারণ সম্পর্কে। ১৯৭০ সালে আধুনিক প্রেগ্ন্যাসির টেস্ট কিট বের হওয়ার পরে এটি নিতান্তই একটি সহজ কাজ হয়ে গেছে। এই কিট গুলো মেয়ের মূত্রে হিউম্যান কোরিয়নিক গোনাডোট্রোপিন নামের একটা হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করে ফলাফল দেয়। কিন্তু মিশরীয় নিয়মে আসলে কি পদ্ধতিতে ফলাফল আসতো সেটা এখনো পরিষ্কার না। তবে যথাসম্ভব নারী দেহের এস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে গাছের বীজও অংকুরিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। যেখানে বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারণ এর জন্য এই আধুনিক কালেও অন্তত আপনাকে ২০ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে, সেখানে এতো দ্রুত সেই ৩৫০০ বছর আগে ৮০ ভাগের বেশি নিশ্চয়তার সাথে বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারনের পদ্ধতি মিশরীয়রা কীভাবে আয়ত্ত করলো সেটা খুবই অবাক করার মতো।

গবেষকেরা বলেন, মিশরীয়দের দ্বারা লেখা ও তাদের প্রাচীন সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরিতে। আমরা এখন যা তাদের সম্পর্কে জানি তা আসলে মোটের উপরে ২০ ভাগ জানা। বাকি ৮০ ভাগ আমাদের অজানা রয়েছে আজও। ২৭০ সালে আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি যদি পুড়িয়ে দেওয়া না হতো, তাহলে আমরা মিশরীয়দের সম্পর্কে এমন অনেক জিনিস জানতে পারতাম যে আমাদের দুই চোয়াল একত্র করাই মুশকিল হয়ে যেতো।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

সব বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা || ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ জুন, ২০২২, সোমবার ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক। মা একটি বর্ণের আর দুটি বর্ণের খুব ছোট একটি শব্দ বাবা; কিন্তু বাস্তবতায় তার গভীরতা আর বিশালতা সীমাহীন। আদর-শাসন, স্নেহ-মায়া-মমতা, সন্তানকে ভালো রাখতে…

অবশেষে আবিষ্কার হলো ক্যান্সারের ঔষধ, সত্যি কি তাই? || ডা. মোঃ মারুফুর রহমান

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ৯ জুন, ২০২২, বৃহস্পতিবার ডা. মোঃ মারুফুর রহমান চিকিৎসক ও পিএইচডি গবেষক ডিপার্টমেন্ট অফ অনকোলজি এন্ড মেটাবলিজম ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড, যুক্তরাজ্য। গত কয়েকদিন ধরে নিউজফিডে ক্যান্সার চিকিৎসায় এক জাদুকরি ম্যাজিক বুলেট ধরনের ওষুধের অবিশ্বাস্য ফলাফলের খবর দেখতে পাচ্ছি।…

শিশুদের কথা বলা শেখানো || পর্ব-০১

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৫ মে, ২০২১, বুধবার ডা. সওকত আরা বীথি মিনেসোটা, ইউ এস এ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শিশুরা তো এমনিতেই কথা বলা শিখে যায়। এদের আবার কথা বলা শেখাবার প্রয়োজন কিসের? কথা তো বনের পাখিদের শেখাবার দরকার হয়। একথা…

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।