মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬১৬ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
কোয়াক হান্ট

বাইরে বিশেষজ্ঞের সাইনবোর্ড, ভেতরে হাতুড়ে ডাক্তার!

ওয়েব টিমপ্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ৫:০৬ · ২ মিনিটে পড়ুন
লেখার আকার

সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে একটি মার্কেটের পুরো ফ্লোরজুড়ে লাগানো ‘খন্দকার ডেন্টাল কেয়ার’র বিশাল সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে চিকিৎসকের নাম রয়েছে ডা. শাহ আল তানিয়া। পদবী উল্লেখ করা হয়েছে ‘বিডিএস (ডিইউ), পিজিটি (বারডেম)। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাইনবোর্ড দেখে প্রতিদিন এই ডেন্টাল ক্লিনিকে অনেকেই আসেন দাঁতের চিকিৎসা নিতে। কিন্তু সবার ভাগ্যে জুটে না এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নিতে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই ক্লিনিকটিতে রোগী দেখেন হাতুড়ে ডাক্তার।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাইনবোর্ডের আড়ালে মুলত টেকনিশিয়ানরাই সেবার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। নিজেদেরকে দন্তচিকিৎসক দাবি করে রোগীদের দাঁতের চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা পয়সা। শুধু টিলাগড়ের খন্দকার ডেন্টাল কেয়ারই নয়, প্রতারণার এই কৌশল সিলেটের প্রায় সকল ডেন্টাল ক্লিনিকে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাবের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সনদ ও নিবন্ধন ছাড়া ডেন্টাল ক্লিনিক পরিচালনা ও ডেন্টাল প্র্যাকটিস করার দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে একমাসের করে জেল দেয়া হয়েছে।

 সিলেটের বেশিরভাগ ডেন্টাল ক্লিনিকে লোকদেখানোর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে ডাক্তারের সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে তিনি সপ্তাহে এক বা দুইদিন নির্দিষ্ট সময়ে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। অথচ সপ্তাহে সাত দিনই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে টেকনিশিয়ান ও হাতুড়ে ডাক্তাররা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে সেবার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। অনেক সময় হাতুড়ে ডাক্তারদের অপচিকিৎসার ফলে দাঁতের সামান্য সমস্যাও বড় হয়ে ওঠে।

অনুসন্ধানে জানা যায়- ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোর প্রেসক্রিপশনের উপরে কোন চিকিৎসকের নাম লেখা থাকে না। ক্লিনিকের নামেই ছাপানো প্যাডই রোগীদের ব্যবস্থাপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফলে কোন চিকিৎসক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তা রোগীর বোঝার উপায় থাকে না।

ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার নগরীতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত্ র‌্যাব-৯ এর একটি দলের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয় টিলাগড়ের খন্দকার ডেন্টাল কেয়ার, আম্বরখানার হিমেল ডেন্টাল কেয়ার ও বন্দরবাজার এলাকার মনির ডেন্টাল হলে। অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল আহমদ দেখতে পান তিনটি প্রতিষ্ঠানই চলছে সনদ ও নিবন্ধন ছাড়া। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন তারাও নিবন্ধিত চিকিৎসক নন।

প্রতারণার এই প্রমাণ পেয়ে খন্দকার ডেন্টাল কেয়ারের খন্দকার মাছুম আহমদ, হিমেল ডেন্টাল কেয়ারের আবদুল আলিম সরকার ও মনির ডেন্টাল হলের দিদার উদ্দিন আদিলকে একমাস করে কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। চিকিৎসার নামে যারা এভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল আহমদ।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির কক্সবাজার জেলা শাখার দন্ত চিকিৎসায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারী সংক্ষেপে বিডিএস (BDS) ডিগ্রীধারী ডাক্তারগণকে ডেন্টিস্ট বা দাঁতের ডাক্তার বলা হয়। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী শুধু বিডিএস ডিগ্রিধারীরা কেবল…

৩০ এপ্রিল ২০২২বিস্তারিত পড়ুন

ভুয়া মহিলা ডাক্তার আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কদমতলীপুল এলাকায় থেকে এম হোসেন জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখার সময় ফাহমিদা আলম (২৫) নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটকের…

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯বিস্তারিত পড়ুন

গায়ে এপ্রোন, কাঁধে স্টেথোস্কোপ সহ এক ভুয়া মহিলা ডাক্তার গ্রেফতার

গায়ে এপ্রোন, কাঁধে স্টেথোস্কোপ। দেখতে ডাক্তারের মতো হলেও তিনি ডাক্তার নন। একজন ধূর্ত প্রতারক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে রুমা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক রুমার নিজ বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলা পরিচয় দিলেও বর্তমানে সে…

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।