স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭ পেলেন বাংলাদেশের গাইনী অবসের জীবন্ত কিংবদন্তী ডা. টি এ চৌধুরী

19

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭তে ভূষিত হয়েছেন ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের হাতে পদক তুলে দেন। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, উন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে তিন লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট সোনার একটি পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য এবার রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মানের স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী।

TMPSNAPSHOT1490463552553
ডাঃ তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী (জন্ম: ১০ অক্টোবর, ১৯৩৭) হলেন একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক, যিনি ডাঃ টিএ চৌধুরী নামে অধিক পরিচিত। তিনি ইন্সটিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এ্যান্ড রিসার্চ এর পরিচালক ছিলেন। ২০১৭ সালে চৌধুরী চিকিৎসা শাস্ত্রের গাইনোকোলজী এবং অবসটেট্রিক্সের অন্যান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারে ভুষিত হন।

তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী ১৯৩৭ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬০ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন এবং অনার্স মার্কসহ প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে তিনি লাহোরের কিং এডওয়ার্ড কলেজে এফআরসিএস পড়ার জন্য ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ পড়ার পর সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব সার্জনস অব এডিনবার্গ যান এবং সেখানে থেকে এফআরসিএস সম্পন্ন করেন। তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী ১৯৬৫ সালে রয়েল কলেজ অব অবসটেট্রিশিয়ান এ্যান্ড গাইনোকোলজিস্ট থেকে এমআরসিওজি পাশ করেন।

তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী দেশে ফিরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে চাকরির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি ৬ বছর ছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বদলি হন। ১৯৮০ দশকে চৌধুরী তৎকালীন ইন্সটিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এ্যান্ড রিসার্চ (IPGMR) যোগদেন এবং ১৯৮৭ সালে এর পরিচালক হিসাবে নিয়োগ পান। ১৯৯৪ সালে তিনি সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বারডেম হাসপাতালে অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চৌধুরী অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী সোসাইটি বাংলাদেশে’র প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও পরবর্তীতে সভাপতি দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও তিনি এশিয়া এ্যান্ড ওশেনিয়া ফেডারেশন অব অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ‘সাউথ এশিয়া ফেডারেশন অব অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী’র প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্র জীবনে চৌধুরী এমবিবিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করায় এটিসিও গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন। নেপালে স্নাতকোত্তর চিকিৎসক বৃদ্ধিতে কাজ করায় নেপালের রাজা তাকে সে দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার গোর্খা দক্ষিণ বাহু গোল্ড মেডেল প্রদান করে।

[ তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ]
সংবাদদাতা: বনফুল

19 thoughts on “স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭ পেলেন বাংলাদেশের গাইনী অবসের জীবন্ত কিংবদন্তী ডা. টি এ চৌধুরী

  1. অফ টপিক, আমার শ্বশুরমশাই ও পেয়েছেন এবার, মুক্তিযুদ্ধকালীন তার অসামান্য অবদানের জন্য। তিনি, আশরাফুল আলম।

  2. অবাক হলাম, কোন কশাই আবার স্বাধীনতা পুরষ্কার পায় কি করে ? (মাপ করবেন স্যার, পেশা এবং সহকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা থাকলে এটা আপনার প্রত্যাক্ষান করা উচিত ছিল l )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

রক্তাক্ত সিলেটঃ একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা

Sun Mar 26 , 2017
দুপুর সোয়া দুইটা বাজলেই আমার একটু একটু করে মেজাজ গরম হওয়া শুরু করে- যখন ডিরেক্টর অফিস থেকে ফোনে জানানো হলো যে মেডিকেল টিমের অংশ হিসেবে ৩টায় যেতে হবে বর্তমান ন্যাশনাল ক্রাইসিস সিলেটের শিববাড়িতে- মেজাজ পুরা খিচে গিয়েছিল। ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’ আমরা দুই কসাই জামাই বৌ-র ২৪ ঘন্টার ভেতর মুলাকাত বলতে দুপুর […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট